বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রস্তাবিত ২১ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ৬৪৯ কোটি ২৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা ছিল।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের দ্বিতীয় একনেক সভা আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান।
সভা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা প্রকল্পটির বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করে জানান, একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একটি সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই ছিল এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২০২৯ সালের জুন মেয়াদের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল। মূলত সচিবালয় প্রাঙ্গণে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে আরও বেশি সংখ্যক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দাপ্তরিক সংকুলান তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় ২১ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল, যাতে চারটি বেজমেন্টসহ ফাউন্ডেশন, সুপার স্ট্রাকচার, অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন ও গ্যাস সংযোগের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়া ভূগর্ভস্থ জলাধার, প্রতিটি ২ হাজার কেভিএ ক্ষমতার দুটি সাব-স্টেশন, পাঁচটি জেনারেটর এবং কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের কথা ছিল। যাতায়াতের জন্য ছয়টি প্যাসেঞ্জার লিফট, ছয়টি ফায়ার লিফট ও দুটি বেড লিফটসহ মোট ১৪টি লিফট এবং আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ও মাল্টিমিডিয়া সুবিধাসহ ২০টি কনফারেন্স রুম নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
পরিকল্পনা বিভাগ তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, সচিবালয় সরকারের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র হওয়ায় এখানে প্রতিদিন জনপ্রতিনিধি, বিদেশি প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। বর্তমানে বিদ্যমান অবকাঠামো ক্রমবর্ধমান এই চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত নয়। প্রস্তাবিত ভবনটি নির্মিত হলে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৬ বর্গফুট অতিরিক্ত জায়গা পাওয়া যেত, যা বর্তমান চাহিদার প্রায় ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হতো। এর ফলে প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো বলে মনে করছে পরিকল্পনা বিভাগ। তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি একনেক সভার অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়েছে।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রস্তাবিত ২১ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ৬৪৯ কোটি ২৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা ছিল।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলেও তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের দ্বিতীয় একনেক সভা আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান।
সভা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা প্রকল্পটির বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করে জানান, একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একটি সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই ছিল এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ২০২৯ সালের জুন মেয়াদের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল। মূলত সচিবালয় প্রাঙ্গণে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে আরও বেশি সংখ্যক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দাপ্তরিক সংকুলান তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় ২১ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল, যাতে চারটি বেজমেন্টসহ ফাউন্ডেশন, সুপার স্ট্রাকচার, অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন ও গ্যাস সংযোগের সুবিধা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়া ভূগর্ভস্থ জলাধার, প্রতিটি ২ হাজার কেভিএ ক্ষমতার দুটি সাব-স্টেশন, পাঁচটি জেনারেটর এবং কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের কথা ছিল। যাতায়াতের জন্য ছয়টি প্যাসেঞ্জার লিফট, ছয়টি ফায়ার লিফট ও দুটি বেড লিফটসহ মোট ১৪টি লিফট এবং আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ও মাল্টিমিডিয়া সুবিধাসহ ২০টি কনফারেন্স রুম নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছিল।
পরিকল্পনা বিভাগ তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল, সচিবালয় সরকারের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র হওয়ায় এখানে প্রতিদিন জনপ্রতিনিধি, বিদেশি প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। বর্তমানে বিদ্যমান অবকাঠামো ক্রমবর্ধমান এই চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত নয়। প্রস্তাবিত ভবনটি নির্মিত হলে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৬ বর্গফুট অতিরিক্ত জায়গা পাওয়া যেত, যা বর্তমান চাহিদার প্রায় ৪২ দশমিক ৩০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হতো। এর ফলে প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো বলে মনে করছে পরিকল্পনা বিভাগ। তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি একনেক সভার অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন