সংবাদ

ছাত্র জমিয়ত

গোপন রাজনীতি অপরাধ ও অগণতান্ত্রিক মাস্টারপ্ল্যান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম

গোপন রাজনীতি অপরাধ ও অগণতান্ত্রিক মাস্টারপ্ল্যান

গোপন রাজনীতি অপরাধ ও অগণতান্ত্রিক মাস্টারপ্ল্যান ব‌লে মন্তব‌্য ক‌রে‌ছে ছাত্র জমিয়ত।

​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলমান সংকট নিরসনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। রবিবার বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত এবং গোপন রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে।

কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান তকি।

​লিখিত বক্তব্যে রিদওয়ান মাযহারী বলেন, বিগত কয়েকদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ঘটছে, তা আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা মনে করি, এই সংঘাত কেবল দুটি সংগঠনের মধ্যকার বিবাদ নয়, বরং এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে দীর্ঘ দেড় দশকের সেই ‘ভীতি’ ও ‘অনিশ্চয়তা’ পুনরায় ফিরিয়ে আনার মহড়া।

ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ আজকের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে স্পষ্ট ঘোষণা করছে; ক্যাম্পাস কোনো সংগঠনের লাঠিয়াল বাহিনীর মহড়া দেওয়ার জায়গা নয়। আমরা পেশিশক্তির এই নোংরা প্রতিযোগিতাকে প্রত্যাখ্যান করছি। ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার যেই শক্তিটি ফ্যাসিবাদ বিরোধী একই প্লাটফর্মে হাতে হাত রেখে দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিস্টকে এক ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে পরাজিত করে বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছিল, সেই শক্তিটি আজ দ্বিধা বিভক্তি ও সংঘাতের জালে আবদ্ধ হয়ে গেছে। যেটি আমাদের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক।

​গোপন রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, "আমাদের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বা গোপন সাংগঠনিক কার্যক্রম। ৫ আগস্টের পর যখন জাতি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখছে, তখনো কিছু সংগঠন কেন অন্ধকার গলিপথে বা সংগোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে? ভয়ের অজুহাত কি স্রেফ কৌশল হিসাবে রাজনীতিক আত্নগোপন? ’বা ‘অস্তিত্ব রক্ষা’র দোহাই দিয়ে গুপ্ত রাজনীতি যারা করছেন, তারা আসলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করছেন। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে গোপনীয়তার অর্থ হলো, আপনাদের কোনো ‘হিডেন এজেন্ডা’ বা ‘অগণতান্ত্রিক মাস্টারপ্ল্যান’ আছে।"

​অন্ধকারের রাজনীতি ষড়যন্ত্রের জন্ম দেয় উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, "অন্ধকার থেকে যে রাজনীতি হয়, তা সবসময়ই ষড়যন্ত্র আর আধিপত্যবাদের জন্ম দেয়। এই গোপন কাঠামোর কারণেই ক্যাম্পাসে হঠাৎ করে উত্তজনা সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে। আমরা মনে করি, গুপ্ত রাজনীতি করা এখন কেবল নীতিগত ভুল নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক অপরাধ। রাজনীতি যদি ছাত্রদের কল্যাণে হয়, তবে তা সূর্যের আলোর মতো পরিষ্কার হতে হবে।"

​ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, "বিপ্লবের পরপরই যারা ঢালাওভাবে ‘ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ’ করার শ্লোগান তুলেছিলেন, আজ তাদের রহস্যজনক নীরবতা বা পক্ষালম্বন আমাদের বিস্মিত করে। আমরা দেখেছি, বিশেষ কোনো আদর্শ বা সংগঠনের নাম শুনলেই তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। অথচ গণতন্ত্র মানেই হলো সকল বৈধ সংগঠনের সহাবস্থান। রাজনীতি বন্ধ করার ধুয়া তুলে যারা সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতিকে রুদ্ধ করতে চান, তারা প্রকারান্তরে ক্যাম্পাসে অরাজকতা ও চরমপন্থাকেই উস্কে দিচ্ছেন। আমরা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, বরং ‘লেজুড়বৃত্তিক ও সন্ত্রাসী রাজনীতি’ বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের টর্চার সেল হওয়ার জন্য নয়, বরং জ্ঞানচর্চার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হওয়ার কথা।"

​সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সহ-সভাপতি নুর হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক বায়জিদ আহমাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইনআমুল হাসান নাইম, প্রচার সম্পাদক আহমাদ আল গাজি, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবুল হাসানাত মেহরাব, ঢাকা মহানগর পূর্বের সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলার আহ্বায়ক আহমাদ, মিনহাজুল ইসলাম ও নাহিদ আজাদীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


গোপন রাজনীতি অপরাধ ও অগণতান্ত্রিক মাস্টারপ্ল্যান

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গোপন রাজনীতি অপরাধ ও অগণতান্ত্রিক মাস্টারপ্ল্যান ব‌লে মন্তব‌্য ক‌রে‌ছে ছাত্র জমিয়ত।

​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলমান সংকট নিরসনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। রবিবার বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত এবং গোপন রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে।

কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান তকি।

​লিখিত বক্তব্যে রিদওয়ান মাযহারী বলেন, বিগত কয়েকদিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো ঘটছে, তা আমাদের ব্যথিত করেছে। আমরা মনে করি, এই সংঘাত কেবল দুটি সংগঠনের মধ্যকার বিবাদ নয়, বরং এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে দীর্ঘ দেড় দশকের সেই ‘ভীতি’ ও ‘অনিশ্চয়তা’ পুনরায় ফিরিয়ে আনার মহড়া।

ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ আজকের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে স্পষ্ট ঘোষণা করছে; ক্যাম্পাস কোনো সংগঠনের লাঠিয়াল বাহিনীর মহড়া দেওয়ার জায়গা নয়। আমরা পেশিশক্তির এই নোংরা প্রতিযোগিতাকে প্রত্যাখ্যান করছি। ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার যেই শক্তিটি ফ্যাসিবাদ বিরোধী একই প্লাটফর্মে হাতে হাত রেখে দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিস্টকে এক ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে পরাজিত করে বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছিল, সেই শক্তিটি আজ দ্বিধা বিভক্তি ও সংঘাতের জালে আবদ্ধ হয়ে গেছে। যেটি আমাদের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক।

​গোপন রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, "আমাদের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বা গোপন সাংগঠনিক কার্যক্রম। ৫ আগস্টের পর যখন জাতি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখছে, তখনো কিছু সংগঠন কেন অন্ধকার গলিপথে বা সংগোপনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে? ভয়ের অজুহাত কি স্রেফ কৌশল হিসাবে রাজনীতিক আত্নগোপন? ’বা ‘অস্তিত্ব রক্ষা’র দোহাই দিয়ে গুপ্ত রাজনীতি যারা করছেন, তারা আসলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করছেন। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে গোপনীয়তার অর্থ হলো, আপনাদের কোনো ‘হিডেন এজেন্ডা’ বা ‘অগণতান্ত্রিক মাস্টারপ্ল্যান’ আছে।"

​অন্ধকারের রাজনীতি ষড়যন্ত্রের জন্ম দেয় উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, "অন্ধকার থেকে যে রাজনীতি হয়, তা সবসময়ই ষড়যন্ত্র আর আধিপত্যবাদের জন্ম দেয়। এই গোপন কাঠামোর কারণেই ক্যাম্পাসে হঠাৎ করে উত্তজনা সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে। আমরা মনে করি, গুপ্ত রাজনীতি করা এখন কেবল নীতিগত ভুল নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক অপরাধ। রাজনীতি যদি ছাত্রদের কল্যাণে হয়, তবে তা সূর্যের আলোর মতো পরিষ্কার হতে হবে।"

​ছাত্র রাজনীতি বন্ধের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, "বিপ্লবের পরপরই যারা ঢালাওভাবে ‘ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ’ করার শ্লোগান তুলেছিলেন, আজ তাদের রহস্যজনক নীরবতা বা পক্ষালম্বন আমাদের বিস্মিত করে। আমরা দেখেছি, বিশেষ কোনো আদর্শ বা সংগঠনের নাম শুনলেই তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। অথচ গণতন্ত্র মানেই হলো সকল বৈধ সংগঠনের সহাবস্থান। রাজনীতি বন্ধ করার ধুয়া তুলে যারা সুস্থ ধারার ছাত্র রাজনীতিকে রুদ্ধ করতে চান, তারা প্রকারান্তরে ক্যাম্পাসে অরাজকতা ও চরমপন্থাকেই উস্কে দিচ্ছেন। আমরা ছাত্র রাজনীতি বন্ধ নয়, বরং ‘লেজুড়বৃত্তিক ও সন্ত্রাসী রাজনীতি’ বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক দলের টর্চার সেল হওয়ার জন্য নয়, বরং জ্ঞানচর্চার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হওয়ার কথা।"

​সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সহ-সভাপতি নুর হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক বায়জিদ আহমাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইনআমুল হাসান নাইম, প্রচার সম্পাদক আহমাদ আল গাজি, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবুল হাসানাত মেহরাব, ঢাকা মহানগর পূর্বের সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলার আহ্বায়ক আহমাদ, মিনহাজুল ইসলাম ও নাহিদ আজাদীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত