সংবাদ

দ্বিতীয়কে বাদ দিয়ে নিয়োগ চতুর্থজনের

রাবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ


রাবি প্রতিনিধি
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

রাবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ভাইভা বোর্ডে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী প্রার্থীকে বাদ দিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা একজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য স্বাক্ষর না করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে নিয়োগ অনুমোদন পেয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাদ পড়া প্রার্থী ড. এ. সালাম, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। নিজেকে অনিয়মের শিকার দাবি করে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে তিনটি প্রভাষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ছয়জনকে নিয়োগের জন্য ভাইভা নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৩ জনের মধ্যে ১৮ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরবর্তীতে ভাইভা ও একাডেমিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ছয়জনের একটি মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হয়।

তবে সিন্ডিকেটে পাঠানোর আগে সিদ্ধান্ত বদলে আবার তিনজনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীর পরিবর্তে চতুর্থ স্থানে থাকা একজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিশেষজ্ঞ সদস্য অধ্যাপক মো. ইস্রাফিল চূড়ান্ত তালিকায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।

অধ্যাপক ইস্রাফিল বলেন, “যে ক্রম আমরা নির্ধারণ করেছিলাম, তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি যুক্তিসঙ্গত নয়।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ছয়জন নিয়োগের সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে তা কেন তিনজনে সীমাবদ্ধ করা হলো।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সাবেক উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব দাবি করেন, “এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি, অভিযোগ যে কেউ করতে পারে।”

অন্যদিকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, মেধার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয় যেমন জ্যেষ্ঠতা, পিএইচডি ডিগ্রি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাদ পড়া ওই নিয়োগ প্রত্যাশী ড. এ. সালাম বলেন, ‘নিয়োগ বোর্ডে নির্বাচিত হয়েও পরে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া, এটা অবশ্যই বড় ধরনের জালিয়াতি। আমার সঙ্গে বেইনসাফি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের স্বাক্ষর ছাড়াই সিন্ডিকেটে নিয়োগটি পাস করার পেছনে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম থাকতে পারে। "

এসময় তিনি আরও বলেন, "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়। এটি জনগনের টাকায় চলে। তাহলে কেন নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে? যদি একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সেটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানোর দরকার ছিল।’

বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তার নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


রাবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগে শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ভাইভা বোর্ডে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী প্রার্থীকে বাদ দিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা একজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য স্বাক্ষর না করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে নিয়োগ অনুমোদন পেয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাদ পড়া প্রার্থী ড. এ. সালাম, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে এমফিল ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। নিজেকে অনিয়মের শিকার দাবি করে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে তিনটি প্রভাষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ছয়জনকে নিয়োগের জন্য ভাইভা নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৩ জনের মধ্যে ১৮ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরবর্তীতে ভাইভা ও একাডেমিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ছয়জনের একটি মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হয়।

তবে সিন্ডিকেটে পাঠানোর আগে সিদ্ধান্ত বদলে আবার তিনজনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রার্থীর পরিবর্তে চতুর্থ স্থানে থাকা একজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিশেষজ্ঞ সদস্য অধ্যাপক মো. ইস্রাফিল চূড়ান্ত তালিকায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান।

অধ্যাপক ইস্রাফিল বলেন, “যে ক্রম আমরা নির্ধারণ করেছিলাম, তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি যুক্তিসঙ্গত নয়।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ছয়জন নিয়োগের সিদ্ধান্ত থাকলেও পরে তা কেন তিনজনে সীমাবদ্ধ করা হলো।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সাবেক উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব দাবি করেন, “এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি, অভিযোগ যে কেউ করতে পারে।”

অন্যদিকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, মেধার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয় যেমন জ্যেষ্ঠতা, পিএইচডি ডিগ্রি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাদ পড়া ওই নিয়োগ প্রত্যাশী ড. এ. সালাম বলেন, ‘নিয়োগ বোর্ডে নির্বাচিত হয়েও পরে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া, এটা অবশ্যই বড় ধরনের জালিয়াতি। আমার সঙ্গে বেইনসাফি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের স্বাক্ষর ছাড়াই সিন্ডিকেটে নিয়োগটি পাস করার পেছনে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম থাকতে পারে। "

এসময় তিনি আরও বলেন, "রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়। এটি জনগনের টাকায় চলে। তাহলে কেন নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে? যদি একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সেটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানোর দরকার ছিল।’

বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তার নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত