সংবাদ

নারায়ণগঞ্জের আকাশে হঠাৎ আগুনের গোলা! কী জানা গেল?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম

নারায়ণগঞ্জের আকাশে হঠাৎ আগুনের গোলা! কী জানা গেল?
নারায়ণগঞ্জের আকাশে হঠাৎ দেখা যায় তীব্র বেগে নিচে নেমে আসছে আগুনের গোলা।

নারায়ণগঞ্জের আকাশে হঠাৎ দেখা গেছে এক রহস্যময় আগুনের গোলা। দ্রুতগতিতে সাপের মতো এঁকেবেঁকে নিচে নেমে আসে জ্বলন্ত বস্তুটি। যা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক বিস্ময় ও কৌতূহল তৈরি হয়।এটি আসলে উল্কাপিণ্ড, নাকি অন্য কিছু- তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন এলাকার আকাশে প্রথম সেই আগুনের গোলা দেখা যায়। কেউ একজন তা ক্যামেরায় ধারণ করে। ফলে ঘটনাটি মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।

মাত্র ২৬ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে দেখা যায়, দ্রুত নিচে নামছে আগুনের গোলা। পেছন থেকে কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে।সামনের অংশে জ্বলছে আলো। কিছুদূর নিচে নামার পর পাশ দিয়ে একটা ঘুড়ি উড়তে দেখা যায়। এরপর হঠাৎ নিভে যায় আগুনের গোলা। সেই সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে যায় ধোঁয়াও।

ভিডিওটি দেখে সামাজিক মাধ্যমে কেউ বলছেন উল্কাপিণ্ড। আবার কেউ বলছেন ফ্লেয়ার গানের গোলা। তবে কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না আসলে বস্তুটি কী। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কোনো সদস্যও কোনো মন্তব্য করেনি।

বিজ্ঞান কী বলে?

আকাশে হঠাৎ আগুনের গোলা দেখে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি কোনো ভয়ের কারণ নয়। বরং এটি দুটি সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সঙ্গে মিলে যায়।

প্রথমত, আগুনের গোলা সদৃশ্য বস্তুটি হতে পারে উল্কাপিণ্ড।সাপের মতো এঁকেবেঁকে নিচে নামার ব্যাপারটা উল্কাপিণ্ডের আচরণের সঙ্গে মিলে যায়।যখন কোনো উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়ে, তখন ঘর্ষণের কারণে তা অনেক বেশি উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে। প্রায়শই উল্কাপিণ্ড দুই ভাগে ভেঙে যায়। কখনও জিগজ্যাগ পথে নিচে নেমে আসে। এক সময় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। 

উল্কাপিণ্ডের জ্বলন্ত অবস্থাকেই আমরা আকাশে ‘আগুনের গোলা’ হিসেবে দেখি। এ ক্ষেত্রে বস্তুটির পেছন থেকে কালো ধোঁয়া বের হওয়া আর ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি এসে তা নিভে যাওয়া- উল্কাপিণ্ডের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গেই বেশি মিলে যায়।

বিজ্ঞানীদের দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হলো এটি গোলাকার বজ্র বা বল লাইটনিং। এটি অত্যন্ত বিরল এক বৈদ্যুতিক ঘটনা। যা সাধারণত বজ্রঝড়ের সময় দেখা যায়। আকাশ থেকে ভেসে আসা জ্বলন্ত গোলাকার বস্তু কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট জ্বলার পর নিভে যায়-ঠিক ভিডিওতে দেখা দৃশ্যের মতো। তবে ভিডিওতে বস্তুটির পেছনে কালো ধোঁয়া থাকায় অনেক বিজ্ঞানী বল লাইটনিংয়ের চেয়ে উল্কাপিণ্ডকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তবে অনেকেই মনে করছেন, আগুনের বস্তুটি কোনো বিমানের ফেলে দেওয়া জ্বালানি ট্যাংক, ড্রোন বা ফ্লেয়ার গানের গোলাও হতে পারে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সাধারণত এত বড় আকার ও এত দীর্ঘ সময় জ্বলতে দেখা যায় না। তাছাড়া আকাশে ঘুড়ি থাকার সময় এটি নিচের দিকে নামছে- যা মহাকাশীয় বস্তু বা আবহাওয়াজনিত ঘটনার ইঙ্গিত বেশি দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিডিওটি দেখে এটিকে উল্কাপিণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা হচ্ছে। তবে বস্তুটি পড়ার পর যদি কোনো প্রতিবেদন আসে, তবেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’ তারা আরও বলছেন,‘এপ্রিল-মে মাসে প্রায়ই এ ধরনের উল্কাপিণ্ড দেখা যায়। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ঘটনা।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


নারায়ণগঞ্জের আকাশে হঠাৎ আগুনের গোলা! কী জানা গেল?

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের আকাশে হঠাৎ দেখা গেছে এক রহস্যময় আগুনের গোলা। দ্রুতগতিতে সাপের মতো এঁকেবেঁকে নিচে নেমে আসে জ্বলন্ত বস্তুটি। যা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক বিস্ময় ও কৌতূহল তৈরি হয়।এটি আসলে উল্কাপিণ্ড, নাকি অন্য কিছু- তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবন এলাকার আকাশে প্রথম সেই আগুনের গোলা দেখা যায়। কেউ একজন তা ক্যামেরায় ধারণ করে। ফলে ঘটনাটি মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।

মাত্র ২৬ সেকেন্ডের সেই ভিডিওতে দেখা যায়, দ্রুত নিচে নামছে আগুনের গোলা। পেছন থেকে কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে।সামনের অংশে জ্বলছে আলো। কিছুদূর নিচে নামার পর পাশ দিয়ে একটা ঘুড়ি উড়তে দেখা যায়। এরপর হঠাৎ নিভে যায় আগুনের গোলা। সেই সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে যায় ধোঁয়াও।

ভিডিওটি দেখে সামাজিক মাধ্যমে কেউ বলছেন উল্কাপিণ্ড। আবার কেউ বলছেন ফ্লেয়ার গানের গোলা। তবে কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না আসলে বস্তুটি কী। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কোনো সদস্যও কোনো মন্তব্য করেনি।

বিজ্ঞান কী বলে?

আকাশে হঠাৎ আগুনের গোলা দেখে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি কোনো ভয়ের কারণ নয়। বরং এটি দুটি সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার সঙ্গে মিলে যায়।

প্রথমত, আগুনের গোলা সদৃশ্য বস্তুটি হতে পারে উল্কাপিণ্ড।সাপের মতো এঁকেবেঁকে নিচে নামার ব্যাপারটা উল্কাপিণ্ডের আচরণের সঙ্গে মিলে যায়।যখন কোনো উল্কাপিণ্ড পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়ে, তখন ঘর্ষণের কারণে তা অনেক বেশি উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে। প্রায়শই উল্কাপিণ্ড দুই ভাগে ভেঙে যায়। কখনও জিগজ্যাগ পথে নিচে নেমে আসে। এক সময় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। 

উল্কাপিণ্ডের জ্বলন্ত অবস্থাকেই আমরা আকাশে ‘আগুনের গোলা’ হিসেবে দেখি। এ ক্ষেত্রে বস্তুটির পেছন থেকে কালো ধোঁয়া বের হওয়া আর ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি এসে তা নিভে যাওয়া- উল্কাপিণ্ডের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গেই বেশি মিলে যায়।

বিজ্ঞানীদের দ্বিতীয় ব্যাখ্যা হলো এটি গোলাকার বজ্র বা বল লাইটনিং। এটি অত্যন্ত বিরল এক বৈদ্যুতিক ঘটনা। যা সাধারণত বজ্রঝড়ের সময় দেখা যায়। আকাশ থেকে ভেসে আসা জ্বলন্ত গোলাকার বস্তু কয়েক সেকেন্ড বা মিনিট জ্বলার পর নিভে যায়-ঠিক ভিডিওতে দেখা দৃশ্যের মতো। তবে ভিডিওতে বস্তুটির পেছনে কালো ধোঁয়া থাকায় অনেক বিজ্ঞানী বল লাইটনিংয়ের চেয়ে উল্কাপিণ্ডকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তবে অনেকেই মনে করছেন, আগুনের বস্তুটি কোনো বিমানের ফেলে দেওয়া জ্বালানি ট্যাংক, ড্রোন বা ফ্লেয়ার গানের গোলাও হতে পারে। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সাধারণত এত বড় আকার ও এত দীর্ঘ সময় জ্বলতে দেখা যায় না। তাছাড়া আকাশে ঘুড়ি থাকার সময় এটি নিচের দিকে নামছে- যা মহাকাশীয় বস্তু বা আবহাওয়াজনিত ঘটনার ইঙ্গিত বেশি দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিডিওটি দেখে এটিকে উল্কাপিণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা হচ্ছে। তবে বস্তুটি পড়ার পর যদি কোনো প্রতিবেদন আসে, তবেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’ তারা আরও বলছেন,‘এপ্রিল-মে মাসে প্রায়ই এ ধরনের উল্কাপিণ্ড দেখা যায়। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ঘটনা।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত