সংবাদ

খাবারের সন্ধানে রাস্তায় এসে প্রাণ হারাচ্ছে বানর


প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

খাবারের সন্ধানে রাস্তায় এসে প্রাণ হারাচ্ছে বানর
মধুপুর শালবনে খাদ্যের সন্ধানে সড়কের পাশে দলবেঁধে বসে আছে বানরের দল; প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে পড়ে প্রাণ হারায় এসব অবুঝ প্রাণী। ছবি : সংবাদ

মধুপুর বনের বিভিন্ন স্থানে টাঙ্গাইল বন বিভাগের টাঙানো সাইনবোর্ডে লেখা—‘বন্য প্রাণী হত্যা বা আহত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। সাবধানে গাড়ি চালান, বন্য প্রাণীর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করুন।’

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের চোখে পড়ার মতো স্থানেই লাগানো হয়েছে এসব সতর্কবার্তা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। বেপরোয়া গতির যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে মধুপুর বনের বানর, হনুমানসহ নানা বন্যপ্রাণী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন উজাড় ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার ফলে বন্য প্রাণীদের খাদ্যসংকট তীব্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বনের ভেতর আনারস ও কলাচাষে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে প্রাণীদের জীবনধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে বন্য প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে প্রায়ই মহাসড়কে চলে আসে এবং দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিকেলে মধুপুর বনের মুনার বাইদ এলাকায় দেখা যায়, একটি বানর গাড়ির নিচে পিষ্ট হয়ে পড়ে আছে। পথচারীরা জানান, দ্রুতগতির একটি গাড়ি ধাক্কা দিয়ে চলে যাওয়ার পর বানরটি মারা যায়। এ সময় নিহত বানরটির চারপাশ ঘিরে তার সঙ্গীদের হাহাকার করতে দেখা যায়। যানবাহনের প্রচণ্ড শব্দের কারণে বন্য প্রাণীরা এমনিতেই তটস্থ থাকে, তার ওপর প্রতিনিয়ত এমন প্রাণহানি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

পরিবেশ রক্ষা সোসাইটির টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি লিয়াকত হোসেন জনি বলেন, বন্য প্রাণীদের প্রতি চালকদের সদয় হওয়া প্রয়োজন। যথাযথ আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতার মাধ্যমেই এই অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক মনে করেন, বনের সড়কের পাশে নেট বা বেড়া দিয়ে বন্য প্রাণীদের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, জীববৈচিত্র্য ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন মানা সকল নাগরিকের দায়িত্ব। আইন অমান্য করে বন্য প্রাণী হত্যা বা আহত করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের জানান, বন পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি সফল হলে বনের বৃক্ষলতা ও পশুপাখির খাবারের জোগান বাড়বে। তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানুষের দেওয়া খাবার গ্রহণের অভ্যাসের কারণে বানরের খাদ্যরুচি ও আচরণে পরিবর্তন আসছে, যা তাদের বনের খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি করছে।

পরিবেশবাদী ও স্থানীয়দের দাবি, সাইনবোর্ড টাঙানোর পাশাপাশি দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ করা এখন সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


খাবারের সন্ধানে রাস্তায় এসে প্রাণ হারাচ্ছে বানর

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মধুপুর বনের বিভিন্ন স্থানে টাঙ্গাইল বন বিভাগের টাঙানো সাইনবোর্ডে লেখা—‘বন্য প্রাণী হত্যা বা আহত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। সাবধানে গাড়ি চালান, বন্য প্রাণীর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করুন।’

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের চোখে পড়ার মতো স্থানেই লাগানো হয়েছে এসব সতর্কবার্তা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। বেপরোয়া গতির যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে মধুপুর বনের বানর, হনুমানসহ নানা বন্যপ্রাণী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন উজাড় ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার ফলে বন্য প্রাণীদের খাদ্যসংকট তীব্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বনের ভেতর আনারস ও কলাচাষে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে প্রাণীদের জীবনধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে বন্য প্রাণীরা খাবারের সন্ধানে প্রায়ই মহাসড়কে চলে আসে এবং দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বিকেলে মধুপুর বনের মুনার বাইদ এলাকায় দেখা যায়, একটি বানর গাড়ির নিচে পিষ্ট হয়ে পড়ে আছে। পথচারীরা জানান, দ্রুতগতির একটি গাড়ি ধাক্কা দিয়ে চলে যাওয়ার পর বানরটি মারা যায়। এ সময় নিহত বানরটির চারপাশ ঘিরে তার সঙ্গীদের হাহাকার করতে দেখা যায়। যানবাহনের প্রচণ্ড শব্দের কারণে বন্য প্রাণীরা এমনিতেই তটস্থ থাকে, তার ওপর প্রতিনিয়ত এমন প্রাণহানি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

পরিবেশ রক্ষা সোসাইটির টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি লিয়াকত হোসেন জনি বলেন, বন্য প্রাণীদের প্রতি চালকদের সদয় হওয়া প্রয়োজন। যথাযথ আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতার মাধ্যমেই এই অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক মনে করেন, বনের সড়কের পাশে নেট বা বেড়া দিয়ে বন্য প্রাণীদের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, জীববৈচিত্র্য ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন মানা সকল নাগরিকের দায়িত্ব। আইন অমান্য করে বন্য প্রাণী হত্যা বা আহত করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের জানান, বন পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি সফল হলে বনের বৃক্ষলতা ও পশুপাখির খাবারের জোগান বাড়বে। তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানুষের দেওয়া খাবার গ্রহণের অভ্যাসের কারণে বানরের খাদ্যরুচি ও আচরণে পরিবর্তন আসছে, যা তাদের বনের খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি করছে।

পরিবেশবাদী ও স্থানীয়দের দাবি, সাইনবোর্ড টাঙানোর পাশাপাশি দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ করা এখন সময়ের দাবি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত