সংবাদ

মাঠের ধান মাটিতে, দিশেহারা চাষি


প্রতিনিধি, রাণীনগর (নওগাঁ)
প্রতিনিধি, রাণীনগর (নওগাঁ)
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

মাঠের ধান মাটিতে, দিশেহারা চাষি
নওগাঁর রাণীনগরে কালবৈশাখী ঝড়ে কয়েক হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান নুয়ে পড়েছে। ছবি : সংবাদ

নওগাঁর রাণীনগরে গত সোমবার ভোরে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে ফসল ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে উপজেলার প্রায় ৪ হাজার ৬৮৭ হেক্টর জমির ধান খেতেই নুয়ে পড়েছে। এ ছাড়া গাছ উপড়ে ও খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো উপজেলা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। ঝড়ে এর প্রায় ২৫ শতাংশ জমির পাকা ও আধা পাকা ধান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ধান নুয়ে পড়লেও পাকা ধানের খুব বেশি ক্ষতি হবে না। তবে চাষিরা বলছেন ভিন্ন কথা।

মিরাট গ্রামের কৃষক মো. হামিদুল জানান, ধান নুয়ে পড়ায় কাটা-মাড়াইয়ের খরচ অনেক বেড়ে যাবে। এ ছাড়া বৃষ্টি হলে ধান পচে যাওয়ার এবং ভেজা ধানের দাম কম পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঝড়ের কবলে পড়ে উপজেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর রাণীনগর জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবু হাসান জানান, ঝড়ে বেতগাড়ি এলাকায় মূল লাইনের দুটি খুঁটি ভেঙে গেছে এবং আড়াই শতাধিক স্থানে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে। লাইন মেরামতের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

বিদ্যুৎ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বেতগাড়ি গ্রামের মো. ইয়াকুব আলী বলেন, সোমবার ভোর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় খাওয়ার পানি, মোবাইল ফোন ও চার্জার ভ্যান চার্জ দেওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফ্রিজে রাখা জিনিসপত্রও নষ্ট হচ্ছে।

রাণীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির জন্য জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


মাঠের ধান মাটিতে, দিশেহারা চাষি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নওগাঁর রাণীনগরে গত সোমবার ভোরে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে ফসল ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে উপজেলার প্রায় ৪ হাজার ৬৮৭ হেক্টর জমির ধান খেতেই নুয়ে পড়েছে। এ ছাড়া গাছ উপড়ে ও খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুরো উপজেলা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। ঝড়ে এর প্রায় ২৫ শতাংশ জমির পাকা ও আধা পাকা ধান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ধান নুয়ে পড়লেও পাকা ধানের খুব বেশি ক্ষতি হবে না। তবে চাষিরা বলছেন ভিন্ন কথা।

মিরাট গ্রামের কৃষক মো. হামিদুল জানান, ধান নুয়ে পড়ায় কাটা-মাড়াইয়ের খরচ অনেক বেড়ে যাবে। এ ছাড়া বৃষ্টি হলে ধান পচে যাওয়ার এবং ভেজা ধানের দাম কম পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঝড়ের কবলে পড়ে উপজেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১-এর রাণীনগর জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবু হাসান জানান, ঝড়ে বেতগাড়ি এলাকায় মূল লাইনের দুটি খুঁটি ভেঙে গেছে এবং আড়াই শতাধিক স্থানে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে গেছে। লাইন মেরামতের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

বিদ্যুৎ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বেতগাড়ি গ্রামের মো. ইয়াকুব আলী বলেন, সোমবার ভোর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় খাওয়ার পানি, মোবাইল ফোন ও চার্জার ভ্যান চার্জ দেওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফ্রিজে রাখা জিনিসপত্রও নষ্ট হচ্ছে।

রাণীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির জন্য জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত