ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পৌরসভার ময়লা ফেলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই।
সরেজমিন দেখা যায়, ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের পাশে আগের মতোই ময়লা ফেলে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। এতে তীব্র দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, বাড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।
চরফ্যাশন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কের পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে এই ময়লার ভাগাড়। বাস ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রী এবং পথচারীদের নাক-মুখ চেপে এলাকাটি পার হতে হচ্ছে। ময়লার স্তূপ অনেক সময় ছড়িয়ে পড়ছে মূল সড়কেও, যার ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এই পথ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী উপজেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, মহাসড়কের পাশে এমন ভাগাড় পরিবেশের জন্য বড় হুমকি। প্রতিদিন হাজারো মানুষকে এই অসহ্য দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে।
বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বাজারের সব বর্জ্য এখানে ফেলছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি সত্ত্বেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। একটি স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের দাবি এখনো অপূর্ণই রয়ে গেছে।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, ‘খোলা জায়গায় ময়লা-আবর্জনা ফেলায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এখান থেকে হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়াতে পারে। এ ছাড়া বর্জ্যে আগুন দেওয়া হলে যে বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয়, তা জনস্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।’
পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক নাগরিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় গত পহেলা বৈশাখ থেকে এখানে ময়লা ফেলা বন্ধের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। এ বিষয়ে পৌরসভার কনজারভেন্সি ইনসপেক্টর সোহরাব হোসেন জানান, মহাসড়কের পাশ থেকে ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এলাকাবাসী জনস্বার্থে দ্রুত এই ময়লার স্তূপ অপসারণ এবং স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন