সংবাদ

রামুতে হাতির আক্রমণে মা-মেয়ের মৃত্যু


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

রামুতে হাতির আক্রমণে মা-মেয়ের মৃত্যু
ছবি : সংবাদ

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে মা ও তার তিন বছর বয়সী শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই এলাকার একরাম মিয়ার স্ত্রী ছেমন আরা (২৫) ও তাদের মেয়ে আসমা বিবি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আজ ভোরের দিকে তিনটি বন্য হাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিগুলো সৈয়দ কলোনির কয়েকটি বসতঘরের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং গাছপালা উপড়ে দেয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী। সঙ্গে ছিল তাদের দুই সন্তান। হাতির পালটি তাদের দিকে তেড়ে এলে একরাম মিয়া তার ছয় বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত সরে যেতে সক্ষম হন। তবে ছেমন আরা ও তার শিশুকন্যা হাতির আক্রমণের মুখে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মাজেদ বলেন, বনাঞ্চল উজাড় ও মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায়ই লোকালয়ে হাতির হানা ও প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জানান, ঘটনার পর হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী সংবাদকে বলেন, বন্য হাতির আক্রমণে নিহতের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


রামুতে হাতির আক্রমণে মা-মেয়ের মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে মা ও তার তিন বছর বয়সী শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই এলাকার একরাম মিয়ার স্ত্রী ছেমন আরা (২৫) ও তাদের মেয়ে আসমা বিবি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আজ ভোরের দিকে তিনটি বন্য হাতির একটি পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিগুলো সৈয়দ কলোনির কয়েকটি বসতঘরের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং গাছপালা উপড়ে দেয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী। সঙ্গে ছিল তাদের দুই সন্তান। হাতির পালটি তাদের দিকে তেড়ে এলে একরাম মিয়া তার ছয় বছর বয়সী ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত সরে যেতে সক্ষম হন। তবে ছেমন আরা ও তার শিশুকন্যা হাতির আক্রমণের মুখে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মাজেদ বলেন, বনাঞ্চল উজাড় ও মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায়ই লোকালয়ে হাতির হানা ও প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জানান, ঘটনার পর হাতির পালটিকে তাড়িয়ে গভীর বনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী সংবাদকে বলেন, বন্য হাতির আক্রমণে নিহতের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত