আদালতের নির্দেশ ‘বারবার অমান্য’ করার অভিযোগে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসকে সশরীরে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১৯ মে তাকে আদালতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদালত অবমাননার (কনটেম্পট অব কোর্ট) এক আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ছিদ্দিকুল্লাহ মিয়া।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন জেলায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে রিটকারী ২৫ জনসহ সারা দেশ থেকে চাকরিপ্রার্থীরা অংশ নেন। রিটকারী ২৫ জন লিখিত ও চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাদের নিয়োগ না দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘অনুত্তীর্ণ’ দেখানো হয়।
এর প্রেক্ষিতে ২০২১ সালে তারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ২০২২ সালের ৯ মার্চ হাইকোর্ট চূড়ান্ত শুনানি শেষে ওই ২৫ জনকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে রিটটি নিষ্পত্তি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও চেম্বার আদালত কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি।
রিটকারীদের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার দাবি, ‘পরীক্ষায় যারা কম নম্বর পেয়েছেন বা ফেল করেছেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আর যারা পাস করেছেন বা বেশি নম্বর পেয়েছেন তারা বাদ পড়েছেন।’
অ্যাডভোকেট ছিদ্দিকুল্লাহ বলেন, “আদালতে আমরা প্রমাণ করেছি, একজন ৭৮ নম্বর পেয়েও নিয়োগ পাননি, অথচ ৫২ পাওয়া প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যে প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনই করেননি, তাকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান দেখিয়ে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।”
রিটকারী আইনজীবীর তথ্যমতে, এরপরও কর্তৃপক্ষ নিয়োগ না দেওয়ায় রিটকারীরা আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও আসিফ হাসানের বেঞ্চ বিবাদীদের (স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ) কাছে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেন।
বিবাদীদের দাখিল করা লিখিত জবাবে অনিয়মের এসব চিত্র উঠে আসে। পরবর্তীতে হাইকোর্টের উক্ত বেঞ্চ চলতি বলছের ২৩ এপ্রিলের মধ্যে রিটকারীদের নিয়োগ প্রদান করে রায় বাস্তবায়নের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদালতের সেই আদেশও কর্ণপাত করেনি।
অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, “শুনানিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ দাবি করে যে, রিটকারীরা পাস করেননি। তখন আদালত নিয়োগপ্রাপ্তদের ফলাফল তলব করেন। সেই ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রিটকারীরাই প্রকৃতপক্ষে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত সম্প্রতি এক আদেশে কোনো ধরনের অজুহাত ছাড়া রিটকারীদের নিয়োগ দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ রিটকারীদের নিয়োগ দেয়নি। এমনকি সর্বশেষ শুনানির দিন আদালতে বিভাগে কোনো প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন না।”
আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, “যেহেতু এটি কনটেম্পটের (আদালত অবমাননা) বিষয়, আর আদালতের আদেশ একাধিকবার অমান্য করা হয়েছে, তাই আমরা ডিজিকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির করার আবেদন জানাই। আদালত আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে আগামী ১৯ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে আদেশের ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”
এই আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন।’

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
আদালতের নির্দেশ ‘বারবার অমান্য’ করার অভিযোগে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসকে সশরীরে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১৯ মে তাকে আদালতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদালত অবমাননার (কনটেম্পট অব কোর্ট) এক আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেয়।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ছিদ্দিকুল্লাহ মিয়া।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন জেলায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে রিটকারী ২৫ জনসহ সারা দেশ থেকে চাকরিপ্রার্থীরা অংশ নেন। রিটকারী ২৫ জন লিখিত ও চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তাদের নিয়োগ না দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘অনুত্তীর্ণ’ দেখানো হয়।
এর প্রেক্ষিতে ২০২১ সালে তারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ২০২২ সালের ৯ মার্চ হাইকোর্ট চূড়ান্ত শুনানি শেষে ওই ২৫ জনকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে রিটটি নিষ্পত্তি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও চেম্বার আদালত কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি।
রিটকারীদের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার দাবি, ‘পরীক্ষায় যারা কম নম্বর পেয়েছেন বা ফেল করেছেন তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আর যারা পাস করেছেন বা বেশি নম্বর পেয়েছেন তারা বাদ পড়েছেন।’
অ্যাডভোকেট ছিদ্দিকুল্লাহ বলেন, “আদালতে আমরা প্রমাণ করেছি, একজন ৭৮ নম্বর পেয়েও নিয়োগ পাননি, অথচ ৫২ পাওয়া প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যে প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনই করেননি, তাকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান দেখিয়ে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।”
রিটকারী আইনজীবীর তথ্যমতে, এরপরও কর্তৃপক্ষ নিয়োগ না দেওয়ায় রিটকারীরা আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও আসিফ হাসানের বেঞ্চ বিবাদীদের (স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ) কাছে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেন।
বিবাদীদের দাখিল করা লিখিত জবাবে অনিয়মের এসব চিত্র উঠে আসে। পরবর্তীতে হাইকোর্টের উক্ত বেঞ্চ চলতি বলছের ২৩ এপ্রিলের মধ্যে রিটকারীদের নিয়োগ প্রদান করে রায় বাস্তবায়নের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদালতের সেই আদেশও কর্ণপাত করেনি।
অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, “শুনানিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ দাবি করে যে, রিটকারীরা পাস করেননি। তখন আদালত নিয়োগপ্রাপ্তদের ফলাফল তলব করেন। সেই ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রিটকারীরাই প্রকৃতপক্ষে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত সম্প্রতি এক আদেশে কোনো ধরনের অজুহাত ছাড়া রিটকারীদের নিয়োগ দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ রিটকারীদের নিয়োগ দেয়নি। এমনকি সর্বশেষ শুনানির দিন আদালতে বিভাগে কোনো প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন না।”
আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, “যেহেতু এটি কনটেম্পটের (আদালত অবমাননা) বিষয়, আর আদালতের আদেশ একাধিকবার অমান্য করা হয়েছে, তাই আমরা ডিজিকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির করার আবেদন জানাই। আদালত আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে আগামী ১৯ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে আদেশের ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”
এই আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন।’

আপনার মতামত লিখুন