সারা দেশে যখন নানা আয়োজনে মে দিবস পালিত হচ্ছে, তখন মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার শ্রমজীবী মানুষের কাছে দিনটি কেবলই বেঁচে থাকার সংগ্রামের আরেকটি সাধারণ দিন। পেটের দায়ে তাদের মাঠেই কাটেছে দিন।
ষাটোর্ধ্ব শ্রমিক সরদার হানিফ আলী। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও জীবনযুদ্ধে তিনি এখনো অপরাজিত। দিবসটি সম্পর্কে জানতে চাইলে হতাশা কণ্ঠে বলেন, “দিবস-টিবস পালন করে আমাদের তো কোনো লাভ হবে না। একদিন কাজ না করলে না খেয়ে থাকতে হয়। তাই শ্রমিক দিবস সম্বন্ধে আমার কিছু জানা নেই।"
হানিফ আলীর মতো অসংখ্য শ্রমিকের কাছে মে দিবসের তাৎপর্য কোনো শোভাযাত্রায় নয়, বরং এক বেলা নিশ্চিত অন্নের সংস্থানে। তাদের কাছে ছুটি মানেই ঘরে চুলা না জ্বলা, ছুটি মানেই পরিবারের সদস্যদের মলিন মুখ।
শ্রমিক শওকতের জীবন চলছে এক নিরন্তর টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে। চার সদস্যের পরিবার তার কাঁধে। দুই ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ আর এনজিওর ঋণের কিস্তি মিলিয়ে তার দম ফেলার সময় নেই।
সাটুরিয়া বাজারের শওকত আলী বলেন, “এই লেবারের কাজ করে আমার চার জনের সংসার চলে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাই। তার ওপর ঋণের কিস্তি টানতে হয়। একদিন বসে থাকার উপায় নেই আমার।”
শহরের বড় বড় অডিটোরিয়ামে যখন শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনা চলে, তখন হানিফ বা শওকতদের মতো মানুষরা কাজ করেন রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে তাদের আয় বাড়েনি। বেড়েছে ঋণের বোঝা। মে দিবস তাদের কাছে কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ মাত্র। যা তাদের জীবনে কোনো স্বস্তি বা বিশ্রামের বার্তা নিয়ে আসে না।
শ্রমিকদের এই নীরব হাহাকার মনে করিয়ে দেয়, অধিকার কেবল কাগজে-কলমে থাকলে চলে না, তার প্রতিফলন দরকার এই প্রান্তিক মানুষগুলোর প্রতিদিনের ভাতের থালায়।

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
সারা দেশে যখন নানা আয়োজনে মে দিবস পালিত হচ্ছে, তখন মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার শ্রমজীবী মানুষের কাছে দিনটি কেবলই বেঁচে থাকার সংগ্রামের আরেকটি সাধারণ দিন। পেটের দায়ে তাদের মাঠেই কাটেছে দিন।
ষাটোর্ধ্ব শ্রমিক সরদার হানিফ আলী। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও জীবনযুদ্ধে তিনি এখনো অপরাজিত। দিবসটি সম্পর্কে জানতে চাইলে হতাশা কণ্ঠে বলেন, “দিবস-টিবস পালন করে আমাদের তো কোনো লাভ হবে না। একদিন কাজ না করলে না খেয়ে থাকতে হয়। তাই শ্রমিক দিবস সম্বন্ধে আমার কিছু জানা নেই।"
হানিফ আলীর মতো অসংখ্য শ্রমিকের কাছে মে দিবসের তাৎপর্য কোনো শোভাযাত্রায় নয়, বরং এক বেলা নিশ্চিত অন্নের সংস্থানে। তাদের কাছে ছুটি মানেই ঘরে চুলা না জ্বলা, ছুটি মানেই পরিবারের সদস্যদের মলিন মুখ।
শ্রমিক শওকতের জীবন চলছে এক নিরন্তর টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে। চার সদস্যের পরিবার তার কাঁধে। দুই ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ আর এনজিওর ঋণের কিস্তি মিলিয়ে তার দম ফেলার সময় নেই।
সাটুরিয়া বাজারের শওকত আলী বলেন, “এই লেবারের কাজ করে আমার চার জনের সংসার চলে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করাই। তার ওপর ঋণের কিস্তি টানতে হয়। একদিন বসে থাকার উপায় নেই আমার।”
শহরের বড় বড় অডিটোরিয়ামে যখন শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনা চলে, তখন হানিফ বা শওকতদের মতো মানুষরা কাজ করেন রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে তাদের আয় বাড়েনি। বেড়েছে ঋণের বোঝা। মে দিবস তাদের কাছে কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ মাত্র। যা তাদের জীবনে কোনো স্বস্তি বা বিশ্রামের বার্তা নিয়ে আসে না।
শ্রমিকদের এই নীরব হাহাকার মনে করিয়ে দেয়, অধিকার কেবল কাগজে-কলমে থাকলে চলে না, তার প্রতিফলন দরকার এই প্রান্তিক মানুষগুলোর প্রতিদিনের ভাতের থালায়।

আপনার মতামত লিখুন