মধুপুরের আনারস এখন বিশ্ববাজারমুখী। শিগগিরই উৎপাদিত হবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এমডি-২ জাতের আনারসের চারা। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব। দেশের উত্তর-মধ্য অঞ্চলের কৃষিতে এ ল্যাবকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
আনারসের নতুন জাত ফিলিফাইনের এমডি-২, জিনাইন কলা, সবজিসহ বিভিন্ন ফল-ফসলের গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে এই সেন্টারটি। এখানে উৎপাদিত হবে রোগজীবাণুমুক্ত উন্নত মানের চারা, যা কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে ও রপ্তানিমুখী কৃষির দ্বার উন্মোচন করবে।
কৃষির নতুন প্রতীক: বাংলাদেশের কৃষি এখন আর শুধু হাল-জমি-ধানের পরিসরে আটকে নেই। জীবপ্রযুক্তি, গবেষণা ও আধুনিক বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অভিযাত্রায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে এই খাত। পরিবর্তিত সময়ের এই কৃষিবিপ্লবের মানচিত্রে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার হয়ে উঠছে এক নতুন প্রতীক। এখানে মাটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মাইক্রোস্কোপ, চারার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে গবেষণাগার, আর কৃষকের স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তির নির্ভরতা।
সরকারের ‘টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ধনবাড়ীতে নির্মিত হচ্ছে এই অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে শুরু হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি চলবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত।
২০২৭ সাল থেকে উৎপাদন: সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলে এই ল্যাবরেটরি উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন যুগের সূচনা করবে।
প্রকল্পের আওতায় দেশের নির্বাচিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হর্টিকালচার সেন্টারে আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী, সাভারের রাজালাখ এবং বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি কুমিল্লা ও ভোলার চরফ্যাশনেও শিগগিরই নতুন ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধনবাড়ী কেন্দ্রটি ভৌগোলিক ও কৃষি সম্ভাবনার দিক থেকে বিশেষ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে দক্ষ টিস্যু কালচারিস্ট নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে।
বিশ্ববাজারে মধুপুরের আনারস: মধুপুরের আনারস বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। সেই ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ধনবাড়ীর ল্যাবে উৎপাদিত হবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এমডি-২ জাতের আনারসের চারা। এমডি-২ জাতের আনারস তার মিষ্টতা, আকর্ষণীয় সোনালি রং, দীর্ঘ সংরক্ষণক্ষমতা ও রপ্তানিযোগ্য মানের জন্য বিশ্ববাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় কৃষকদের হাতে সুলভ মূল্যে এই উন্নত চারা পৌঁছে দেওয়া গেলে মধুপুরের আনারস শুধু দেশীয় ঐতিহ্য নয়—রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্যের শক্তিশালী ব্র্যান্ডেও পরিণত হতে পারে।
ফ্লোরিকালচার জোনের সম্ভাবনা: জারবেড়া ও অর্কিডে ফ্লোরিকালচার জোন হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিচ্ছে। উন্নত জাতের পেঁপে, সবজি ও বহুমুখী কৃষির সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে এই সেন্টার। বিভিন্ন ফসলের রোগজীবাণুমুক্ত চারা উৎপাদন ও ফসলের নির্ভরতা সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার। ছবি: প্রতিনিধি
রপ্তানি সম্ভাবনা: এ টিস্যু কালচার সেন্টার হবে দেশের উত্তর-মধ্য অঞ্চলের সম্ভাবনার নতুন দ্বার। ল্যাবটির উৎপাদন শুরু হলে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য জাতের বিভিন্ন ফসল ও জাতের চারা উৎপাদন হবে। উৎপাদিত হবে রোগমুক্ত নতুন চারা। মাঠ পর্যায়ে চাষি কৃষকরা পাবে এর সুফল। মাঠে মাঠে শোভা পাবে দেশি-বিদেশি দামি ফসলের জাত।
এ ফসল চাষ সমৃদ্ধ হলে দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। কৃষকের উপকারের পাশাপাশি দেশও লাভ করবে বৈদেশিক মুদ্রা, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, সারাদেশে মাত্র কয়েকটি ল্যাব প্রাথমিকভাবে হচ্ছে। তার মধ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী অন্যতম। ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারকে কেন্দ্র করে মধুপুর-ধনবাড়ী-ঘাটাইলসহ বৃহত্তর টাঙ্গাইল অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
মধুপুরের আনারস এখন বিশ্ববাজারমুখী। শিগগিরই উৎপাদিত হবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এমডি-২ জাতের আনারসের চারা। টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারে ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব। দেশের উত্তর-মধ্য অঞ্চলের কৃষিতে এ ল্যাবকে ঘিরে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
আনারসের নতুন জাত ফিলিফাইনের এমডি-২, জিনাইন কলা, সবজিসহ বিভিন্ন ফল-ফসলের গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে এই সেন্টারটি। এখানে উৎপাদিত হবে রোগজীবাণুমুক্ত উন্নত মানের চারা, যা কৃষকের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে ও রপ্তানিমুখী কৃষির দ্বার উন্মোচন করবে।
কৃষির নতুন প্রতীক: বাংলাদেশের কৃষি এখন আর শুধু হাল-জমি-ধানের পরিসরে আটকে নেই। জীবপ্রযুক্তি, গবেষণা ও আধুনিক বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অভিযাত্রায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে এই খাত। পরিবর্তিত সময়ের এই কৃষিবিপ্লবের মানচিত্রে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার হয়ে উঠছে এক নতুন প্রতীক। এখানে মাটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মাইক্রোস্কোপ, চারার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে গবেষণাগার, আর কৃষকের স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তির নির্ভরতা।
সরকারের ‘টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ধনবাড়ীতে নির্মিত হচ্ছে এই অত্যাধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে শুরু হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি চলবে ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত।
২০২৭ সাল থেকে উৎপাদন: সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলে এই ল্যাবরেটরি উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন যুগের সূচনা করবে।
প্রকল্পের আওতায় দেশের নির্বাচিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হর্টিকালচার সেন্টারে আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী, সাভারের রাজালাখ এবং বান্দরবানের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি কুমিল্লা ও ভোলার চরফ্যাশনেও শিগগিরই নতুন ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধনবাড়ী কেন্দ্রটি ভৌগোলিক ও কৃষি সম্ভাবনার দিক থেকে বিশেষ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে দক্ষ টিস্যু কালচারিস্ট নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি আরও জোরদার হয়েছে।
বিশ্ববাজারে মধুপুরের আনারস: মধুপুরের আনারস বাংলাদেশের ঐতিহ্যের অংশ। সেই ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ধনবাড়ীর ল্যাবে উৎপাদিত হবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এমডি-২ জাতের আনারসের চারা। এমডি-২ জাতের আনারস তার মিষ্টতা, আকর্ষণীয় সোনালি রং, দীর্ঘ সংরক্ষণক্ষমতা ও রপ্তানিযোগ্য মানের জন্য বিশ্ববাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় কৃষকদের হাতে সুলভ মূল্যে এই উন্নত চারা পৌঁছে দেওয়া গেলে মধুপুরের আনারস শুধু দেশীয় ঐতিহ্য নয়—রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্যের শক্তিশালী ব্র্যান্ডেও পরিণত হতে পারে।
ফ্লোরিকালচার জোনের সম্ভাবনা: জারবেড়া ও অর্কিডে ফ্লোরিকালচার জোন হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিচ্ছে। উন্নত জাতের পেঁপে, সবজি ও বহুমুখী কৃষির সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে এই সেন্টার। বিভিন্ন ফসলের রোগজীবাণুমুক্ত চারা উৎপাদন ও ফসলের নির্ভরতা সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার। ছবি: প্রতিনিধি
রপ্তানি সম্ভাবনা: এ টিস্যু কালচার সেন্টার হবে দেশের উত্তর-মধ্য অঞ্চলের সম্ভাবনার নতুন দ্বার। ল্যাবটির উৎপাদন শুরু হলে দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য জাতের বিভিন্ন ফসল ও জাতের চারা উৎপাদন হবে। উৎপাদিত হবে রোগমুক্ত নতুন চারা। মাঠ পর্যায়ে চাষি কৃষকরা পাবে এর সুফল। মাঠে মাঠে শোভা পাবে দেশি-বিদেশি দামি ফসলের জাত।
এ ফসল চাষ সমৃদ্ধ হলে দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। কৃষকের উপকারের পাশাপাশি দেশও লাভ করবে বৈদেশিক মুদ্রা, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, সারাদেশে মাত্র কয়েকটি ল্যাব প্রাথমিকভাবে হচ্ছে। তার মধ্যে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী অন্যতম। ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারকে কেন্দ্র করে মধুপুর-ধনবাড়ী-ঘাটাইলসহ বৃহত্তর টাঙ্গাইল অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন