গাইবান্ধায় কালবৈশাখী ঝড় ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রান্তিক কৃষকের সোনালি স্বপ্ন এখন ফিকে হওয়ার পথে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে পাকা ও আধাপাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, কোথাও কোথাও তলিয়ে গেছে পানির নিচে। মৌসুমের প্রধান ফসল হারানোর আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।
সরেজমিনে সদর, সাঘাটা, সাদুল্যাপুর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবে ধানের জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উত্তরের বাতাস ও ভারী বর্ষণে অনেক খেতের পাকা ধান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বিশেষ করে যেসব জমির ধান পেকে সোনালি বর্ণ ধারণ করেছিল, সেগুলো নুয়ে পড়ায় দানা পচে যাওয়া ও ঝরে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের কৃষক কলিম উদ্দিন বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ধারদেনা করে আবাদ করেছিলাম। কিন্তু ধান কাটার আগমুহূর্তে এই বৃষ্টি সব শেষ করে দিচ্ছে। এখন নুয়ে পড়া ধান কাটতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, পেলেও তাঁরা দ্বিগুণ মজুরি চাইছেন।’
একই চিত্র দেখা গেছে পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাবাড়ী এলাকায়। সেখানকার কৃষক মোবারক হোসেন জানান, নিচু এলাকার জমিতে পানি জমে থাকায় ধান পচতে শুরু করেছে। রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, স্বাভাবিক সময়ে বিঘাপ্রতি ধান কাটার খরচ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা হলেও বর্তমানে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। কাদা ও পানিতে নুয়ে পড়া ধান কাটতে শ্রমিকদের অনীহা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তবে আকস্মিক এই দুর্যোগে কয়েক শ হেক্টর জমির ধান ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং ৮০ শতাংশ পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে গাইবান্ধার হাজারো কৃষকের স্বপ্ন এখন বৃষ্টির পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা, কৃষি ঋণের কিস্তি মওকুফ ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬
গাইবান্ধায় কালবৈশাখী ঝড় ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রান্তিক কৃষকের সোনালি স্বপ্ন এখন ফিকে হওয়ার পথে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে পাকা ও আধাপাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, কোথাও কোথাও তলিয়ে গেছে পানির নিচে। মৌসুমের প্রধান ফসল হারানোর আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।
সরেজমিনে সদর, সাঘাটা, সাদুল্যাপুর, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবে ধানের জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উত্তরের বাতাস ও ভারী বর্ষণে অনেক খেতের পাকা ধান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বিশেষ করে যেসব জমির ধান পেকে সোনালি বর্ণ ধারণ করেছিল, সেগুলো নুয়ে পড়ায় দানা পচে যাওয়া ও ঝরে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের কৃষক কলিম উদ্দিন বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ধারদেনা করে আবাদ করেছিলাম। কিন্তু ধান কাটার আগমুহূর্তে এই বৃষ্টি সব শেষ করে দিচ্ছে। এখন নুয়ে পড়া ধান কাটতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, পেলেও তাঁরা দ্বিগুণ মজুরি চাইছেন।’
একই চিত্র দেখা গেছে পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাবাড়ী এলাকায়। সেখানকার কৃষক মোবারক হোসেন জানান, নিচু এলাকার জমিতে পানি জমে থাকায় ধান পচতে শুরু করেছে। রোদ না থাকায় কাটা ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, স্বাভাবিক সময়ে বিঘাপ্রতি ধান কাটার খরচ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা হলেও বর্তমানে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। কাদা ও পানিতে নুয়ে পড়া ধান কাটতে শ্রমিকদের অনীহা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তবে আকস্মিক এই দুর্যোগে কয়েক শ হেক্টর জমির ধান ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ এবং ৮০ শতাংশ পাকা ধান দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রকৃতির এই বৈরী আচরণে গাইবান্ধার হাজারো কৃষকের স্বপ্ন এখন বৃষ্টির পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা, কৃষি ঋণের কিস্তি মওকুফ ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।

আপনার মতামত লিখুন