সংবাদ

গ্রিডের অতন্দ্র প্রহরী রামপাল, কীভাবে গড়লো রেকর্ড উৎপাদন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

গ্রিডের অতন্দ্র প্রহরী রামপাল, কীভাবে গড়লো রেকর্ড উৎপাদন
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

এপ্রিলের তীব্র তাপপ্রবাহ। বিদ্যুতের চাহিদা আকাশচুম্বী। লোডশেডিং নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ঠিক এমন সময়ে জাতীয় গ্রিডে স্বস্তি এনে দিয়েছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও রক্ষণাবেক্ষণের নির্ভরযোগ্যতার জাদুতে এপ্রিল মাসে উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে কেন্দ্রটি। গড়ে ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় প্রায় পূর্ণ শক্তিতে চালিয়ে মাসজুড়ে উৎপাদন করেছে ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ- যা দেশের মোট চাহিদার ৯ শতাংশেরও বেশি।

রোববার (৩ মে) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পূজারী বলছেন, সহজ সরল এক সূত্রে মিলেছে সাফল্য- শক্তিশালী নকশা ও দলের নিরলস প্রচেষ্টা।

এপ্রিল মাসে কেন্দ্রটির গড় প্লান্ট লোড ফ্যাক্টর (পিএলএফ) ছিল ৮০ শতাংশ। বিশেষ করে মাসের প্রথম সপ্তাহে যখন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি ছিল, তখন কেন্দ্রটি প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।

এটি পঞ্চমবারের মতো এক মাসে ৭০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক স্পর্শ করল। ধারাবাহিক এই সাফল্য কেন্দ্রটির নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ।

কেন এত উৎপাদন

সাধারণ মানুষ ভাবতে পারেন, এটা কোনো ম্যাজিক। কিন্তু কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, এ সাফল্যের পেছনে চারটি মূল কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, কেন্দ্রটির ‘আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল’ প্রযুক্তি কম জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। দ্বিতীয়ত, অত্যাধুনিক ফ্লু গ্যাস ডি-সালফারাইজেশন (এফজিডি) প্রযুক্তি ব্যবহার করায় বাড়তি তাপ ও দূষণ ছাড়াই উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়েছে, যা তীব্র গরমেও কেন্দ্রটিকে অবিরত চালু রাখতে সহায়তা করেছে।

তৃতীয়ত, ভারতের এনটিপিসির বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা এখন দক্ষতার সঙ্গে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে প্রযুক্তিগত জটিলতা মোকাবিলায় আর বিদেশিদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না। চতুর্থত, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের শুরু থেকেই তারা এক বিশেষ ‘হিট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান’ অনুসরণ করেছে। গরমের সময় যন্ত্রপাতি রক্ষায় কুলিং সিস্টেমে বাড়তি মনিটরিং আর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করেছে উৎপাদন অব্যাহত রাখার জাদু।

জাতীয় গ্রিডে যখন চাহিদা সর্বোচ্চ, লোডশেডিং এড়াতে বড় কেন্দ্রগুলোর স্থিতিশীল উৎপাদন জরুরি হয়ে পড়ে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সেই প্রতিকূলতা কাটিয়ে প্রায় একাই দেশের মোট চাহিদার ৯ শতাংশ পূরণ করেছে।  অনেকের মত, এই কেন্দ্রটিকে বাদ দিলে এপ্রিল মাসে লোডশেডিং ৭-৮ শতাংশ বেড়ে যেতে পারত।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী রমানাথ পূজারী বলেন, ‘সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় কেন্দ্র পরিচালনা করা আমাদের শক্তিশালী নকশা ও দলের নিরলস প্রচেষ্টারই ফল। এটি দুই দেশের সফল সহযোগিতার একটি অনন্য উদাহরণ।’

বর্তমানে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশি প্রকৌশলীরাই কেন্দ্রটির দৈনন্দিন কাজ করছেন। জ্বালানি খাতে নিজস্ব দক্ষতা বাড়ার এটি একটি বড় অর্জন। দীর্ঘমেয়াদে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো আরও জটিল প্রকল্পে এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের জন্য রামপাল-সহ বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র যাত্রা শুরু করার আগে রামপালের এই রেকর্ড উৎপাদন জ্বালানি খাতের জন্য ভরসা যোগাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


গ্রিডের অতন্দ্র প্রহরী রামপাল, কীভাবে গড়লো রেকর্ড উৎপাদন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

এপ্রিলের তীব্র তাপপ্রবাহ। বিদ্যুতের চাহিদা আকাশচুম্বী। লোডশেডিং নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ঠিক এমন সময়ে জাতীয় গ্রিডে স্বস্তি এনে দিয়েছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও রক্ষণাবেক্ষণের নির্ভরযোগ্যতার জাদুতে এপ্রিল মাসে উৎপাদনের রেকর্ড গড়েছে কেন্দ্রটি। গড়ে ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় প্রায় পূর্ণ শক্তিতে চালিয়ে মাসজুড়ে উৎপাদন করেছে ৭৬০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ- যা দেশের মোট চাহিদার ৯ শতাংশেরও বেশি।

রোববার (৩ মে) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পূজারী বলছেন, সহজ সরল এক সূত্রে মিলেছে সাফল্য- শক্তিশালী নকশা ও দলের নিরলস প্রচেষ্টা।

এপ্রিল মাসে কেন্দ্রটির গড় প্লান্ট লোড ফ্যাক্টর (পিএলএফ) ছিল ৮০ শতাংশ। বিশেষ করে মাসের প্রথম সপ্তাহে যখন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি ছিল, তখন কেন্দ্রটি প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে গ্রিডের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।

এটি পঞ্চমবারের মতো এক মাসে ৭০০ মিলিয়ন ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাইলফলক স্পর্শ করল। ধারাবাহিক এই সাফল্য কেন্দ্রটির নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ।

কেন এত উৎপাদন

সাধারণ মানুষ ভাবতে পারেন, এটা কোনো ম্যাজিক। কিন্তু কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, এ সাফল্যের পেছনে চারটি মূল কারণ কাজ করেছে। প্রথমত, কেন্দ্রটির ‘আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল’ প্রযুক্তি কম জ্বালানিতে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। দ্বিতীয়ত, অত্যাধুনিক ফ্লু গ্যাস ডি-সালফারাইজেশন (এফজিডি) প্রযুক্তি ব্যবহার করায় বাড়তি তাপ ও দূষণ ছাড়াই উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়েছে, যা তীব্র গরমেও কেন্দ্রটিকে অবিরত চালু রাখতে সহায়তা করেছে।

তৃতীয়ত, ভারতের এনটিপিসির বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা এখন দক্ষতার সঙ্গে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে প্রযুক্তিগত জটিলতা মোকাবিলায় আর বিদেশিদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে না। চতুর্থত, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের শুরু থেকেই তারা এক বিশেষ ‘হিট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান’ অনুসরণ করেছে। গরমের সময় যন্ত্রপাতি রক্ষায় কুলিং সিস্টেমে বাড়তি মনিটরিং আর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করেছে উৎপাদন অব্যাহত রাখার জাদু।

জাতীয় গ্রিডে যখন চাহিদা সর্বোচ্চ, লোডশেডিং এড়াতে বড় কেন্দ্রগুলোর স্থিতিশীল উৎপাদন জরুরি হয়ে পড়ে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সেই প্রতিকূলতা কাটিয়ে প্রায় একাই দেশের মোট চাহিদার ৯ শতাংশ পূরণ করেছে।  অনেকের মত, এই কেন্দ্রটিকে বাদ দিলে এপ্রিল মাসে লোডশেডিং ৭-৮ শতাংশ বেড়ে যেতে পারত।

বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্রী রমানাথ পূজারী বলেন, ‘সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় কেন্দ্র পরিচালনা করা আমাদের শক্তিশালী নকশা ও দলের নিরলস প্রচেষ্টারই ফল। এটি দুই দেশের সফল সহযোগিতার একটি অনন্য উদাহরণ।’

বর্তমানে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশি প্রকৌশলীরাই কেন্দ্রটির দৈনন্দিন কাজ করছেন। জ্বালানি খাতে নিজস্ব দক্ষতা বাড়ার এটি একটি বড় অর্জন। দীর্ঘমেয়াদে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো আরও জটিল প্রকল্পে এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণ ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের জন্য রামপাল-সহ বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র যাত্রা শুরু করার আগে রামপালের এই রেকর্ড উৎপাদন জ্বালানি খাতের জন্য ভরসা যোগাচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত