সংবাদ

তিস্তার ভাঙনে চরের পথ লণ্ডভণ্ড, হাজারো মানুষের দুর্ভোগ


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম | প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তার ভাঙনে চরের পথ লণ্ডভণ্ড, হাজারো মানুষের দুর্ভোগ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরাঞ্চলে যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে। ছবি : সংবাদ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে চরের অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। এক চর থেকে অন্য চরে যাতায়াতে এখন নৌকা ও বাঁশের সাঁকোই এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীতে বর্ষা এলেই দুর্ভোগ বাড়ে। পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের ফলে রাস্তাঘাট, বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাপাসিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং প্রবল স্রোতে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, নদীর পানি বাড়ায় তার বাড়ির সামনের রাস্তাটি ভেঙে গেছে। ফলে অন্য চরে যাতায়াত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এখন বাধ্য হয়ে যাতায়াতের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর একই পরিস্থিতি তৈরি হলেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর ব্যক্তিগত ও স্থানীয় উদ্যোগে চরের রাস্তাঘাট মেরামত ও অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করতে হয়। সরকারি উদ্যোগে এখানে টেকসই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান একান্ত প্রয়োজন। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় চরবাসীকে একই ধরনের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান জানান, গত শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম তদারকি করেছেন। তবে ভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


তিস্তার ভাঙনে চরের পথ লণ্ডভণ্ড, হাজারো মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে চরের অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে। এক চর থেকে অন্য চরে যাতায়াতে এখন নৌকা ও বাঁশের সাঁকোই এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চণ্ডীপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীতে বর্ষা এলেই দুর্ভোগ বাড়ে। পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের ফলে রাস্তাঘাট, বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইতিমধ্যে কাপাসিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং প্রবল স্রোতে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কাপাসিয়া ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, নদীর পানি বাড়ায় তার বাড়ির সামনের রাস্তাটি ভেঙে গেছে। ফলে অন্য চরে যাতায়াত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এখন বাধ্য হয়ে যাতায়াতের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর একই পরিস্থিতি তৈরি হলেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর ব্যক্তিগত ও স্থানীয় উদ্যোগে চরের রাস্তাঘাট মেরামত ও অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করতে হয়। সরকারি উদ্যোগে এখানে টেকসই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান একান্ত প্রয়োজন। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় চরবাসীকে একই ধরনের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান জানান, গত শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম তদারকি করেছেন। তবে ভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত