সংবাদ

সুরক্ষিত সাংবাদিকতা ছাড়া গণমাধ্যম স্বাধীন হওয়া অসম্ভব


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

সুরক্ষিত সাংবাদিকতা ছাড়া গণমাধ্যম স্বাধীন হওয়া অসম্ভব

সাংবাদিকদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথ দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়বে। জনস্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিকতা করতে গিয়ে কেউ যাতে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, সে বিষয়ে সরকার, গণমাধ্যম মালিক এবং সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবারই সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিশিষ্টজনরা এমন উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। রবিবার ( মে) রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এই সভায় সম্পাদক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বলেন, দেশে স্বাধীন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে সাংবাদিকদের পেশাগত আইনি নিরাপত্তা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের চাপ বাড়ছে, যা মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য বড় অন্তরায়।

সভায় সোহরাব হাসান বলেন, যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, সাংবাদিকদের একটি অংশ সেই দলীয় ছত্রছায়ায় থেকে দাপট দেখানোর চেষ্টা করেন। এটি কোনোভাবেই সুস্থ সভ্য সাংবাদিকতার পরিবেশ হতে পারে না। এমন বৈরী অবস্থার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতার প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সরকারকেও কঠোর দায়িত্ব নিতে হবে। সরকার প্রায়ই সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করার উপদেশ দেয়, কিন্তু সরকার নিজে সব সময় দায়িত্বশীল আচরণ করছে কি না, সেই প্রশ্নটি আজ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন মামলার চিত্র তুলে ধরে জাহিদ নেওয়াজ খান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দেশে প্রায় ৫০০ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া কমপক্ষে ২৫০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি আগস্ট বিকেলে যে রিপোর্টার বঙ্গভবনের সামনে অফিসের অ্যাসাইনমেন্টে লাইভ করছিলেন, তাকেও হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত বছরের মে থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৪০০ সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন বাতিল সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের উচিত এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি উত্তরণে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখা।

শুচি সৈয়দ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন মহলের অযাচিত হস্তক্ষেপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে যেমন ক্ষুণ্ণ করে, ঠিক তেমনি কারো কারো অপসাংবাদিকতার মানসিকতা সঠিক জ্ঞানচর্চার অভাবও এই শিল্পকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

অন্যদিকে শারমীন রিনভী বলেন, অনেক সময় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের কাছে এমন কিছু প্রত্যাশা করে যা পূরণ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত হতে বাধ্য হন। তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেশাগত সুরক্ষা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


সুরক্ষিত সাংবাদিকতা ছাড়া গণমাধ্যম স্বাধীন হওয়া অসম্ভব

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

সাংবাদিকদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পথ দিন দিন সংকুচিত হয়ে পড়বে। জনস্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিকতা করতে গিয়ে কেউ যাতে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, সে বিষয়ে সরকার, গণমাধ্যম মালিক এবং সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবারই সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিশিষ্টজনরা এমন উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। রবিবার ( মে) রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এই সভায় সম্পাদক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বলেন, দেশে স্বাধীন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সবার আগে সাংবাদিকদের পেশাগত আইনি নিরাপত্তা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের চাপ বাড়ছে, যা মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য বড় অন্তরায়।

সভায় সোহরাব হাসান বলেন, যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, সাংবাদিকদের একটি অংশ সেই দলীয় ছত্রছায়ায় থেকে দাপট দেখানোর চেষ্টা করেন। এটি কোনোভাবেই সুস্থ সভ্য সাংবাদিকতার পরিবেশ হতে পারে না। এমন বৈরী অবস্থার মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতার প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সরকারকেও কঠোর দায়িত্ব নিতে হবে। সরকার প্রায়ই সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করার উপদেশ দেয়, কিন্তু সরকার নিজে সব সময় দায়িত্বশীল আচরণ করছে কি না, সেই প্রশ্নটি আজ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন মামলার চিত্র তুলে ধরে জাহিদ নেওয়াজ খান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দেশে প্রায় ৫০০ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া কমপক্ষে ২৫০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি আগস্ট বিকেলে যে রিপোর্টার বঙ্গভবনের সামনে অফিসের অ্যাসাইনমেন্টে লাইভ করছিলেন, তাকেও হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত বছরের মে থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৪০০ সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধন বাতিল সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সরকারের উচিত এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি উত্তরণে দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখা।

শুচি সৈয়দ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের ওপর বিভিন্ন মহলের অযাচিত হস্তক্ষেপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে যেমন ক্ষুণ্ণ করে, ঠিক তেমনি কারো কারো অপসাংবাদিকতার মানসিকতা সঠিক জ্ঞানচর্চার অভাবও এই শিল্পকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

অন্যদিকে শারমীন রিনভী বলেন, অনেক সময় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের কাছে এমন কিছু প্রত্যাশা করে যা পূরণ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরা সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত হতে বাধ্য হন। তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার জন্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেশাগত সুরক্ষা প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত