সংবাদ

মুক্ত গণমাধ্যম: অঙ্গীকার ও বাস্তবতা


প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬, ০৭:২২ পিএম

মুক্ত গণমাধ্যম: অঙ্গীকার ও বাস্তবতা

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হয়েছে গতকাল। দিবসটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্ন নতুন করে সামনে আনে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার’। 

প্রশ্ন হচ্ছে, এই অঙ্গীকার ও বাস্তবতার মধ্যে মিল রয়েছে কতটা। দেশে যখন মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হচ্ছে তখন অনেক সাংবাদিক কারাবন্দী, অনেকেই হয়রানির শিকার হয়েছেন। টিআইবি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে হত্যা মামলায় ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন, ২৬৬ জন সাংবাদিককে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। 

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের ‘বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে’ বাংলাদেশ তিন ধাপ নিচে নেমে গেছে। ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম স্থানে। এটি দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো সুখকর বার্তা দেয় না। 

সংশ্লিষ্টরা বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোতে সম্পাদকীয় স্বাধীনতার অভাব রয়েছে। বেসরকারি গণমাধ্যমও নানা চাপের মুখে আত্মনিয়ন্ত্রণের আশ্রয় নেয়। আইনি কাঠামো, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। 

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলতে বিশেষ একটি গোষ্ঠীর সুবিধাকে বোঝায় না। গণতন্ত্রের মৌলিক স্তম্ভগুলোর একটি হচ্ছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। জনগণের অধিকার রক্ষা, সরকারের কাজে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্ত গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অবাধ তথ্য প্রবাহ গণতন্ত্রকেই শক্তিশালী করে। যে সমাজে তথ্যপ্রবাহের গতি রোধ করা হয় সে সমাজে গণতন্ত্র সংকুচিত হয়ে আসে। কাজেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। 

সাংবাদিকতা করা কোনো অপরাধ নয়। সাংবাদিকরা যেন ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করতে পারেন সেই পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আইন ও নীতির প্রয়োগে স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করা গেলে গণমাধ্যম তার ভূমিকা আরও কার্যকরভাবে পালন করতে পারবে বলে আমরা আশা করতে চাই।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


মুক্ত গণমাধ্যম: অঙ্গীকার ও বাস্তবতা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হয়েছে গতকাল। দিবসটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা ও পেশাগত মর্যাদার প্রশ্ন নতুন করে সামনে আনে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার’। 

প্রশ্ন হচ্ছে, এই অঙ্গীকার ও বাস্তবতার মধ্যে মিল রয়েছে কতটা। দেশে যখন মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হচ্ছে তখন অনেক সাংবাদিক কারাবন্দী, অনেকেই হয়রানির শিকার হয়েছেন। টিআইবি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে হত্যা মামলায় ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন, ২৬৬ জন সাংবাদিককে হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। 

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের ‘বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে’ বাংলাদেশ তিন ধাপ নিচে নেমে গেছে। ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম স্থানে। এটি দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো সুখকর বার্তা দেয় না। 

সংশ্লিষ্টরা বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোতে সম্পাদকীয় স্বাধীনতার অভাব রয়েছে। বেসরকারি গণমাধ্যমও নানা চাপের মুখে আত্মনিয়ন্ত্রণের আশ্রয় নেয়। আইনি কাঠামো, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। 

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বলতে বিশেষ একটি গোষ্ঠীর সুবিধাকে বোঝায় না। গণতন্ত্রের মৌলিক স্তম্ভগুলোর একটি হচ্ছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা। জনগণের অধিকার রক্ষা, সরকারের কাজে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্ত গণমাধ্যম সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অবাধ তথ্য প্রবাহ গণতন্ত্রকেই শক্তিশালী করে। যে সমাজে তথ্যপ্রবাহের গতি রোধ করা হয় সে সমাজে গণতন্ত্র সংকুচিত হয়ে আসে। কাজেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। 

সাংবাদিকতা করা কোনো অপরাধ নয়। সাংবাদিকরা যেন ভয়মুক্ত হয়ে কাজ করতে পারেন সেই পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। আইন ও নীতির প্রয়োগে স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সংগত আচরণ নিশ্চিত করা গেলে গণমাধ্যম তার ভূমিকা আরও কার্যকরভাবে পালন করতে পারবে বলে আমরা আশা করতে চাই।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত