সারা শরীরে হামের মতো রেশ, আট মাস বয়সী আলিফের নাকে অক্সিজেনের নল। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের বারান্দায় নিস্তেজ আলিফকে কোলে নিয়ে বসে আছেন তার নানা। শিশুটির মা ও বাবার চোখেমুখে অসহায়ত্বের ছাপ। গতকাল দুপুর আড়াইটায় হাসপাতালের বারান্দায় আলিফের মা তন্বী বলেন, ‘এখানে বেড ফাঁকা নাই তাই ভর্তি নিচ্ছে না, অন্য জায়গায় যেতে বলছে। আমরা খোঁজ নিছি, কোথাও ফাঁকা পাচ্ছি না। এখন কী করব, বুঝতেছি না?’
যদিও গত ২৩ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জরুরি নির্দেশনা জারি করে বলেছে, দেশের কোনো হাসপাতাল থেকে হাম বা হাম উপসর্গের রোগীকে অন্যত্র ফেরত পাঠানো যাবে না। রোগীর চাপ সামলাতে সরকারি হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। আলিফের বাবা জুয়েল ব্যাপারী বলেন,‘ছেলের জ্বর এক সপ্তাহ ধরে। বরিশাল মেডিক্যাল কলেজে ৪ দিন ভর্তি থাকার পর ঢাকায় ‘রেফার’ করে দিয়েছে। কিন্তু ঢাকায় এসে কোথাও বেড ফাঁকা পাচ্ছি না। তাই এই হাসপাতালের বারান্দায় বসে আছি। কী করবো সেটাও বুঝতেছি না।’
তিনি বলেন, বরিশাল থেকে সকালে ঢাকায় এসেছেন। শিশু হাসপাতালে খোঁজ নিলে তারা বলেছে, এখানে শয্যা ফাঁকা নেই, ভর্তি নিতে পারছে না। তার সোহরাওয়ার্দী ও ঢাকা মেডিকেলে নিতে বলেছে। এসব হাসপাতালেও খোঁজ নিয়ে কোথাও ফাঁকা শয্যা পাচ্ছেন না। জুয়েল বলেন, তার বাধ্য হয়ে শ্যামলীর এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন শিশু সন্তানকে। ‘এক ঘণ্টার বিল ১০ হাজার টাকার বেশি করছে। আমরা গরীব মানুষ এত টাকা নাই। তাই বাধ্য হয়ে আবার শিশু হাসপাতালে আসছি।’ তিনি বলেন, ‘ভাবছিলাম ঢাকা এসে চিকিৎসা পাবো, কিন্তু ছেলেকে ভর্তিই করাতে পারছি না। দুপুর থেকে শিশু হাসপাতালে আছি, এখানে বেড ফাঁকা হলে ভর্তি নিবে বলছে। তাই ভর্তির আশায় বারান্দায় বসে আছি।’
জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই না কাউকে ফিরিয়ে দিতে। কিন্তু বর্তমানে এখানে রোগী ভর্তি নেয়ার মতো কোনো অবস্থায়ই নাই। তাই তাদের অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার বিষয়টি বললে তিনি বলেন, ‘আমরা সেটা জানি। এসব বিষয়ে আমাদের ডিরেক্টর স্যার ভালো বলতে পারবেন।’ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে কোনো বেড এবং আইসিইউ ফাঁকা নাই। তাই নতুন রোগী ভর্তি নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর ফাঁকা জায়গা না থাকলে কী করতে পারি।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, কিন্তু ফাঁকা না থাকলে কিছু করতে পারছি না। বারান্দায় রোগীদের ভর্তি নিলে আরও বেশি খারাপ অবস্থা হয় হাসপাতালের। তাই সেটিও নিচ্ছি না। আগামীকাল বেড বৃদ্ধির চেষ্টা করবো।’ পরিচালক বলেন, শিশু হাসপাতালে বর্তমানে হামের রোগীদের জন্য শয্যা আছে ৭০টি। আর রোগী ভর্তি আছে ৮৪ জন। সারাদেশে গত ১৫ মার্চ থেকে গত রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৫০ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে ২৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে হামআক্রান্ত হয়ে ৫০ জন, আর হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ঢাকা বিভাগে।

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
সারা শরীরে হামের মতো রেশ, আট মাস বয়সী আলিফের নাকে অক্সিজেনের নল। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের বারান্দায় নিস্তেজ আলিফকে কোলে নিয়ে বসে আছেন তার নানা। শিশুটির মা ও বাবার চোখেমুখে অসহায়ত্বের ছাপ। গতকাল দুপুর আড়াইটায় হাসপাতালের বারান্দায় আলিফের মা তন্বী বলেন, ‘এখানে বেড ফাঁকা নাই তাই ভর্তি নিচ্ছে না, অন্য জায়গায় যেতে বলছে। আমরা খোঁজ নিছি, কোথাও ফাঁকা পাচ্ছি না। এখন কী করব, বুঝতেছি না?’
যদিও গত ২৩ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জরুরি নির্দেশনা জারি করে বলেছে, দেশের কোনো হাসপাতাল থেকে হাম বা হাম উপসর্গের রোগীকে অন্যত্র ফেরত পাঠানো যাবে না। রোগীর চাপ সামলাতে সরকারি হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। আলিফের বাবা জুয়েল ব্যাপারী বলেন,‘ছেলের জ্বর এক সপ্তাহ ধরে। বরিশাল মেডিক্যাল কলেজে ৪ দিন ভর্তি থাকার পর ঢাকায় ‘রেফার’ করে দিয়েছে। কিন্তু ঢাকায় এসে কোথাও বেড ফাঁকা পাচ্ছি না। তাই এই হাসপাতালের বারান্দায় বসে আছি। কী করবো সেটাও বুঝতেছি না।’
তিনি বলেন, বরিশাল থেকে সকালে ঢাকায় এসেছেন। শিশু হাসপাতালে খোঁজ নিলে তারা বলেছে, এখানে শয্যা ফাঁকা নেই, ভর্তি নিতে পারছে না। তার সোহরাওয়ার্দী ও ঢাকা মেডিকেলে নিতে বলেছে। এসব হাসপাতালেও খোঁজ নিয়ে কোথাও ফাঁকা শয্যা পাচ্ছেন না। জুয়েল বলেন, তার বাধ্য হয়ে শ্যামলীর এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন শিশু সন্তানকে। ‘এক ঘণ্টার বিল ১০ হাজার টাকার বেশি করছে। আমরা গরীব মানুষ এত টাকা নাই। তাই বাধ্য হয়ে আবার শিশু হাসপাতালে আসছি।’ তিনি বলেন, ‘ভাবছিলাম ঢাকা এসে চিকিৎসা পাবো, কিন্তু ছেলেকে ভর্তিই করাতে পারছি না। দুপুর থেকে শিশু হাসপাতালে আছি, এখানে বেড ফাঁকা হলে ভর্তি নিবে বলছে। তাই ভর্তির আশায় বারান্দায় বসে আছি।’
জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই না কাউকে ফিরিয়ে দিতে। কিন্তু বর্তমানে এখানে রোগী ভর্তি নেয়ার মতো কোনো অবস্থায়ই নাই। তাই তাদের অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার বিষয়টি বললে তিনি বলেন, ‘আমরা সেটা জানি। এসব বিষয়ে আমাদের ডিরেক্টর স্যার ভালো বলতে পারবেন।’ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে কোনো বেড এবং আইসিইউ ফাঁকা নাই। তাই নতুন রোগী ভর্তি নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর ফাঁকা জায়গা না থাকলে কী করতে পারি।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, কিন্তু ফাঁকা না থাকলে কিছু করতে পারছি না। বারান্দায় রোগীদের ভর্তি নিলে আরও বেশি খারাপ অবস্থা হয় হাসপাতালের। তাই সেটিও নিচ্ছি না। আগামীকাল বেড বৃদ্ধির চেষ্টা করবো।’ পরিচালক বলেন, শিশু হাসপাতালে বর্তমানে হামের রোগীদের জন্য শয্যা আছে ৭০টি। আর রোগী ভর্তি আছে ৮৪ জন। সারাদেশে গত ১৫ মার্চ থেকে গত রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত ৫০ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে ২৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে হামআক্রান্ত হয়ে ৫০ জন, আর হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ঢাকা বিভাগে।

আপনার মতামত লিখুন