সংবাদ

মে-জুন পর্যন্ত থাকতে পারে প্রকোপ

হামে দেশে ২৭৪ শিশুর প্রাণহানি, আক্রান্ত ৪০ হাজার ছাড়ালো


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

হামে দেশে ২৭৪ শিশুর প্রাণহানি, আক্রান্ত ৪০ হাজার ছাড়ালো

  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৯৫ শতাংশ টিকাদান জরুরি

সারাদেশে হাম সংক্রমণের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত মোট ২৭৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম সন্দেহে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একদিনেই আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে হাজার ৪০৬ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে হাজার ৩১৮ জন সন্দেহজনক এবং ৮৮ জন নিশ্চিত হামের রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ২২৭ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৯৮০ জন সন্দেহজনক এবং হাজার ৯৪৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ২৪ হাজার ৩১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল, যাদের মধ্যে ২০ হাজার ৮২২ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে। বাকিরা এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিভাগ ভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬২০ জন আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ২১৮, রাজশাহীতে ১৭৭, বরিশালে ১৪৭, খুলনায় ৮০, সিলেটে ৫৪, রংপুরে ১৩ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

টিকাদান কর্মসূচির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ রায়হান জানিয়েছেন, সারাদেশে কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে পর্যন্ত কোটি লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেও লক্ষ্যমাত্রার বড় একটি অংশ সম্পন্ন হয়েছে। হাম নিয়ে এই বিস্তারিত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ডা. লামিয়া তাসনীন।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, দেশব্যাপী যে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে তা আগামী মে মাস পর্যন্ত চলবে। শিশুদের দুই ডোজ টিকা সম্পন্ন হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। তবে আগামী মে জুন মাস পর্যন্ত হামের এই প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও যোগ করেন, যখন দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ শিশু টিকার প্রটেকশনে বা সুরক্ষার আওতায় আসবে, তখনই পরিস্থিতির প্রকৃত উন্নতি হবে। টিকা দান কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে আক্রান্তের হার কমে আসবে বলে এই বিশেষজ্ঞ আশা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


হামে দেশে ২৭৪ শিশুর প্রাণহানি, আক্রান্ত ৪০ হাজার ছাড়ালো

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৯৫ শতাংশ টিকাদান জরুরি

সারাদেশে হাম সংক্রমণের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত মোট ২৭৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম সন্দেহে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একদিনেই আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে হাজার ৪০৬ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে হাজার ৩১৮ জন সন্দেহজনক এবং ৮৮ জন নিশ্চিত হামের রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে ২২৭ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৯৮০ জন সন্দেহজনক এবং হাজার ৯৪৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ২৪ হাজার ৩১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল, যাদের মধ্যে ২০ হাজার ৮২২ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে। বাকিরা এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিভাগ ভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬২০ জন আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ২১৮, রাজশাহীতে ১৭৭, বরিশালে ১৪৭, খুলনায় ৮০, সিলেটে ৫৪, রংপুরে ১৩ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে।

টিকাদান কর্মসূচির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. জাহিদ রায়হান জানিয়েছেন, সারাদেশে কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে পর্যন্ত কোটি লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতেও লক্ষ্যমাত্রার বড় একটি অংশ সম্পন্ন হয়েছে। হাম নিয়ে এই বিস্তারিত প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের ডা. লামিয়া তাসনীন।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, দেশব্যাপী যে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে তা আগামী মে মাস পর্যন্ত চলবে। শিশুদের দুই ডোজ টিকা সম্পন্ন হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। তবে আগামী মে জুন মাস পর্যন্ত হামের এই প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও যোগ করেন, যখন দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ শিশু টিকার প্রটেকশনে বা সুরক্ষার আওতায় আসবে, তখনই পরিস্থিতির প্রকৃত উন্নতি হবে। টিকা দান কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে আক্রান্তের হার কমে আসবে বলে এই বিশেষজ্ঞ আশা প্রকাশ করেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত