সংবাদ

রাজবাড়ীতে পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী


প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশ: ৫ মে ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

রাজবাড়ীতে পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ পোলট্রি খামার। ছবি : সংবাদ

রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা গ্রামে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা একটি অবৈধ পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। কোনো প্রকার পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ৪ হাজার মুরগির ওই খামারটি স্থাপন করায় চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয় শিশু ও বৃদ্ধরা।

খামারটি অপসারণের দাবিতে মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী সুরুজ মিয়ার বাড়ির উঠানে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন গ্রামবাসী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, কৈডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সোহেল মন্ডল পরিবেশ অধিদপ্তরের তোয়াক্কা না করে সুরুজ মিয়ার বসতবাড়ি ঘেঁষে ‘মন্ডল পোলট্রি ফার্ম’ গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৪ হাজার লেয়ার মুরগি রয়েছে। খামারের তীব্র দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় মশা ও মাছির উপদ্রব বেড়েছে। খামারের বর্জ্য পাইপ দিয়ে সরাসরি পাশের সরকারি খালে ফেলায় পানিও দূষিত হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সুরুজ মিয়া জানান, খামারটি বন্ধের জন্য এ পর্যন্ত তিনবার পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজবাড়ী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর গত ২৬ ডিসেম্বর ও ৪ নভেম্বর দুই দফায় খামারটি বন্ধের নোটিশ দেয়। সর্বশেষ নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ তা মানছে না।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে নূরজাহান বেগম ও ফরিদ মিয়া বলেন, ‘বাড়ির একদম পাশে খামার করায় আমরা শান্তিতে ভাত পর্যন্ত খেতে পারি না। দুর্গন্ধে ছোট বাচ্চাদের সারাক্ষণ বমি হয়। আমরা একটু শান্তিতে নিশ্বাস নিতে চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে খামার মালিক সোহেল মন্ডলের স্ত্রী টুম্পা খাতুন বলেন, তারা নিজস্ব জায়গায় খামার করেছেন এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছেন।

রাজবাড়ী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহম্মেদ বলেন, ‘মন্ডল পোলট্রি ফার্মের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা ও আদালতে মামলা করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


রাজবাড়ীতে পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা গ্রামে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা একটি অবৈধ পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। কোনো প্রকার পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ৪ হাজার মুরগির ওই খামারটি স্থাপন করায় চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয় শিশু ও বৃদ্ধরা।

খামারটি অপসারণের দাবিতে মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী সুরুজ মিয়ার বাড়ির উঠানে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন গ্রামবাসী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, কৈডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সোহেল মন্ডল পরিবেশ অধিদপ্তরের তোয়াক্কা না করে সুরুজ মিয়ার বসতবাড়ি ঘেঁষে ‘মন্ডল পোলট্রি ফার্ম’ গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৪ হাজার লেয়ার মুরগি রয়েছে। খামারের তীব্র দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক চেপে চলাচল করতে হচ্ছে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় মশা ও মাছির উপদ্রব বেড়েছে। খামারের বর্জ্য পাইপ দিয়ে সরাসরি পাশের সরকারি খালে ফেলায় পানিও দূষিত হচ্ছে।

ভুক্তভোগী সুরুজ মিয়া জানান, খামারটি বন্ধের জন্য এ পর্যন্ত তিনবার পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজবাড়ী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর গত ২৬ ডিসেম্বর ও ৪ নভেম্বর দুই দফায় খামারটি বন্ধের নোটিশ দেয়। সর্বশেষ নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ তা মানছে না।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে নূরজাহান বেগম ও ফরিদ মিয়া বলেন, ‘বাড়ির একদম পাশে খামার করায় আমরা শান্তিতে ভাত পর্যন্ত খেতে পারি না। দুর্গন্ধে ছোট বাচ্চাদের সারাক্ষণ বমি হয়। আমরা একটু শান্তিতে নিশ্বাস নিতে চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে খামার মালিক সোহেল মন্ডলের স্ত্রী টুম্পা খাতুন বলেন, তারা নিজস্ব জায়গায় খামার করেছেন এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছেন।

রাজবাড়ী জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহম্মেদ বলেন, ‘মন্ডল পোলট্রি ফার্মের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও তারা সংশোধনমূলক ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা ও আদালতে মামলা করা হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত