সংবাদ

বিজেপির সম্ভাব্য সরকার, মুখ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে


দীপক মুখার্জী, কলকাতা থেকে
দীপক মুখার্জী, কলকাতা থেকে
প্রকাশ: ৫ মে ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

বিজেপির সম্ভাব্য সরকার, মুখ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে
পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী হওয়ার তালিকায় যারা।

ফল প্রকাশের পরের সকালেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বিপুল আসনে এগিয়ে থেকে বা জয় নিশ্চিত করে বিজেপি কার্যত নতুন সরকার গঠনের পথে। আর সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা, জল্পনা আর হিসেব-নিকেশ।

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়ে এই জয়ের রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তার কথায়, এটি শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী জয় নয়- এটি “রাজ্যের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পক্ষে মানুষের রায়।” তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য হবে- একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা। পাশাপাশি, “সবাইকে সঙ্গে নিয়ে” এগোনোর বার্তাও দিয়েছেন তিনি, যা রাজনৈতিকভাবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনের ইঙ্গিত বহন করছে।

অন্যদিকে, বিজয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গকে জাতীয় উন্নয়নের বৃহত্তর রূপরেখার সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন। তার মতে, “বিকশিত ভারত”-এর স্বপ্ন সফল করতে গেলে “বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ” গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত উন্নয়ন- এই বার্তাই কার্যত তুলে ধরেছেন তিনি।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই- কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? নির্বাচনের আগে বিজেপি কোনও নির্দিষ্ট মুখ সামনে না আনায় এই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাজ্যেরই একজন ‘ভূমিপুত্র’ এই দায়িত্ব পাবেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

তবে শুধু তার নামেই সীমাবদ্ধ নেই আলোচনা। রাজ্য বিজেপির সংগঠনে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা শমীক ভট্টাচার্যের নামও উঠে আসছে সম্ভাব্য মুখ হিসেবে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও দলের অন্দরমহলে আলাদা করে ভাবনা চলছে বলে সূত্রের খবর।যা আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে বিজেপির এই জয় রাজ্যের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। প্রায় দুই শতাধিক আসনে সাফল্য- এটি শুধু সংখ্যার হিসেব নয়, বরং ভোটব্যাঙ্কের বড়সড় পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শুভেন্দু অধিকারী এই জয়কে “প্রত্যেক দেশপ্রেমিক, রাষ্ট্রবাদী এবং বিজেপি কর্মীর জয়” বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং ভোটারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এখন নজর একটাই- দিল্লি থেকে সবুজ সংকেত কবে আসে, আর কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয় পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ। শপথগ্রহণের দিনক্ষণ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। এক নতুন অধ্যায়ের দোরগোড়ায় বাংলা- এবার দেখার, প্রতিশ্রুত ‘বিকশিত বাংলা’ কতটা বাস্তবায়িত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


বিজেপির সম্ভাব্য সরকার, মুখ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

ফল প্রকাশের পরের সকালেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বিপুল আসনে এগিয়ে থেকে বা জয় নিশ্চিত করে বিজেপি কার্যত নতুন সরকার গঠনের পথে। আর সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা, জল্পনা আর হিসেব-নিকেশ।

বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়ে এই জয়ের রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তার কথায়, এটি শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী জয় নয়- এটি “রাজ্যের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার পক্ষে মানুষের রায়।” তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য হবে- একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলা। পাশাপাশি, “সবাইকে সঙ্গে নিয়ে” এগোনোর বার্তাও দিয়েছেন তিনি, যা রাজনৈতিকভাবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনের ইঙ্গিত বহন করছে।

অন্যদিকে, বিজয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গকে জাতীয় উন্নয়নের বৃহত্তর রূপরেখার সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন। তার মতে, “বিকশিত ভারত”-এর স্বপ্ন সফল করতে গেলে “বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ” গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত উন্নয়ন- এই বার্তাই কার্যত তুলে ধরেছেন তিনি।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই- কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? নির্বাচনের আগে বিজেপি কোনও নির্দিষ্ট মুখ সামনে না আনায় এই জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাজ্যেরই একজন ‘ভূমিপুত্র’ এই দায়িত্ব পাবেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

তবে শুধু তার নামেই সীমাবদ্ধ নেই আলোচনা। রাজ্য বিজেপির সংগঠনে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা শমীক ভট্টাচার্যের নামও উঠে আসছে সম্ভাব্য মুখ হিসেবে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও দলের অন্দরমহলে আলাদা করে ভাবনা চলছে বলে সূত্রের খবর।যা আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে বিজেপির এই জয় রাজ্যের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। প্রায় দুই শতাধিক আসনে সাফল্য- এটি শুধু সংখ্যার হিসেব নয়, বরং ভোটব্যাঙ্কের বড়সড় পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শুভেন্দু অধিকারী এই জয়কে “প্রত্যেক দেশপ্রেমিক, রাষ্ট্রবাদী এবং বিজেপি কর্মীর জয়” বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং ভোটারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

এখন নজর একটাই- দিল্লি থেকে সবুজ সংকেত কবে আসে, আর কবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয় পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ। শপথগ্রহণের দিনক্ষণ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। এক নতুন অধ্যায়ের দোরগোড়ায় বাংলা- এবার দেখার, প্রতিশ্রুত ‘বিকশিত বাংলা’ কতটা বাস্তবায়িত হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত