সংবাদ

এক রাতেই ভাঙলো ‘কালীঘাটের প্রাচীর’, মমতার গলিতে অবাধ যাতায়াত


দীপক মূখার্জী, কলকাতা
দীপক মূখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ৫ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

এক রাতেই ভাঙলো ‘কালীঘাটের প্রাচীর’, মমতার গলিতে অবাধ যাতায়াত
মমতার গলিতে অবাধ যাতায়াত।

সোমবার রাত পর্যন্ত যে পথে কড়া নিরাপত্তা ছিল, নিছিদ্র নিরাপত্তায় ঘেরা সেই পথ মঙ্গলবার সকাল হতেই যেন একেবারে অন্য চেহারা নিল। দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে যাওয়ার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলির মুখে এত দিন যে ‘সিজারস ব্যারিকেড’ বসানো ছিল, তা এখন ইতিহাস।

কয়েক ঘণ্টা আগেও যেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের আগে বাধ্যতামূলক জিজ্ঞাসাবাদ চলত— ‘কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে দেখা করবেন’— সেই সমস্ত নিয়ম যেন রাতারাতি উধাও। এমনকি এলাকার বাসিন্দাদেরও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ছিল বাধ্যতামূলক। অনেক সময় বাড়ি থেকে বেরোতে গেলেও আধার কার্ড দেখাতে হত।

কিন্তু বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরই চিত্রটা আমূল বদলে যায়। মঙ্গলবার সকালে দেখা যায়, গলির মুখে নিরাপত্তারক্ষীরা থাকলেও আর কাউকে আটকানো হচ্ছে না। ‘সিজারস ব্যারিকেড’ সরিয়ে রাখা হয়েছে এক পাশে, ফলে পথ এখন সম্পূর্ণ খোলা — যে কেউ অবাধে যাতায়াত করতে পারছেন।

স্থানীয়দের কথায়, আগে পাড়ার দোকানে যেতে গেলেও পরিচয় যাচাই হত। নিজের বাড়িতে ফিরতে গেলেও নাম-পরিচয় জানাতে হত। সোমবার রাত পর্যন্তও একই ছবি ছিলো — গলির মুখে কাঁচির মতো করে বসানো গার্ডরেল, জেরা শেষে তবেই মিলত ছাড়পত্র। গলিতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আবার বন্ধ হয়ে যেত ব্যারিকেড। সাদা পোশাকের পুলিশও নজর রাখতেন প্রতিটি আগন্তুকের ওপর।

কিন্তু এক রাতেই যেন সব পাল্টে গেল। গলির বাসিন্দা অনিন্দ রায় জানালেন, এখন আর কোনও বাধা নেই—সবাই স্বাভাবিকভাবে আসা-যাওয়া করছেন।

এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর কালীঘাট জুড়ে দেখা যায় বিজয় মিছিল। বিজেপি সমর্থকদের মোটরবাইক মিছিলও পৌঁছে যায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অদূরে। যদিও সেই সময়েও গলির মুখে কড়া নিরাপত্তা বজায় ছিল। ‘সিজারস ব্যারিকেড’ তখনও অটুট ছিল।

কিন্তু পরদিন সকালে সামনে আসে সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি। আচমকা এই পরিবর্তন নিয়ে এক পুলিশকর্তার মন্তব্য— “মনে হচ্ছে যেন কঠিন প্রাচীর ভেঙে গেল।”

দীর্ঘদিনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে কালীঘাটের এই এলাকা এখন ফিরেছে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬


এক রাতেই ভাঙলো ‘কালীঘাটের প্রাচীর’, মমতার গলিতে অবাধ যাতায়াত

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

সোমবার রাত পর্যন্ত যে পথে কড়া নিরাপত্তা ছিল, নিছিদ্র নিরাপত্তায় ঘেরা সেই পথ মঙ্গলবার সকাল হতেই যেন একেবারে অন্য চেহারা নিল। দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে যাওয়ার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলির মুখে এত দিন যে ‘সিজারস ব্যারিকেড’ বসানো ছিল, তা এখন ইতিহাস।

কয়েক ঘণ্টা আগেও যেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের আগে বাধ্যতামূলক জিজ্ঞাসাবাদ চলত— ‘কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে দেখা করবেন’— সেই সমস্ত নিয়ম যেন রাতারাতি উধাও। এমনকি এলাকার বাসিন্দাদেরও পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ছিল বাধ্যতামূলক। অনেক সময় বাড়ি থেকে বেরোতে গেলেও আধার কার্ড দেখাতে হত।

কিন্তু বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরই চিত্রটা আমূল বদলে যায়। মঙ্গলবার সকালে দেখা যায়, গলির মুখে নিরাপত্তারক্ষীরা থাকলেও আর কাউকে আটকানো হচ্ছে না। ‘সিজারস ব্যারিকেড’ সরিয়ে রাখা হয়েছে এক পাশে, ফলে পথ এখন সম্পূর্ণ খোলা — যে কেউ অবাধে যাতায়াত করতে পারছেন।

স্থানীয়দের কথায়, আগে পাড়ার দোকানে যেতে গেলেও পরিচয় যাচাই হত। নিজের বাড়িতে ফিরতে গেলেও নাম-পরিচয় জানাতে হত। সোমবার রাত পর্যন্তও একই ছবি ছিলো — গলির মুখে কাঁচির মতো করে বসানো গার্ডরেল, জেরা শেষে তবেই মিলত ছাড়পত্র। গলিতে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আবার বন্ধ হয়ে যেত ব্যারিকেড। সাদা পোশাকের পুলিশও নজর রাখতেন প্রতিটি আগন্তুকের ওপর।

কিন্তু এক রাতেই যেন সব পাল্টে গেল। গলির বাসিন্দা অনিন্দ রায় জানালেন, এখন আর কোনও বাধা নেই—সবাই স্বাভাবিকভাবে আসা-যাওয়া করছেন।

এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর কালীঘাট জুড়ে দেখা যায় বিজয় মিছিল। বিজেপি সমর্থকদের মোটরবাইক মিছিলও পৌঁছে যায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অদূরে। যদিও সেই সময়েও গলির মুখে কড়া নিরাপত্তা বজায় ছিল। ‘সিজারস ব্যারিকেড’ তখনও অটুট ছিল।

কিন্তু পরদিন সকালে সামনে আসে সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি। আচমকা এই পরিবর্তন নিয়ে এক পুলিশকর্তার মন্তব্য— “মনে হচ্ছে যেন কঠিন প্রাচীর ভেঙে গেল।”

দীর্ঘদিনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে কালীঘাটের এই এলাকা এখন ফিরেছে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত