লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি ড্রোন আছড়ে পড়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ড্রোনটি বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হেফাজতে রয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১-বিজিবি) আওতাধীন বুড়িমারী বিওপির মগলিবাড়ী সীমান্তের মেইন পিলার ৮৪১/৮-এস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভারতের কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা সংলগ্ন ৯৮-হিমালয় ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ড্রোনটি দিয়ে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছিলেন।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উড়ন্ত অবস্থায় ড্রোনটি হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে সীমান্তরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশের প্রায় ২০ গজ অভ্যন্তরে একটি ভুট্টাক্ষেতে বিকট শব্দে আছড়ে পড়ে। ওই সময় জমিতে কাজ করা কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বুড়িমারী বিওপির বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ড্রোনটি উদ্ধার করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন।
এদিকে ড্রোনটি নিখোঁজ হওয়ার পর বিএসএফের হিমালয় ক্যাম্পের সদস্যরা সেটি উদ্ধারের চেষ্টা চালান। একপর্যায়ে ড্রোনটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে তারা সীমান্তে জনবল ও টহল বাড়িয়ে দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে বিজিবি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কড়া নজরদারি শুরু করে।
তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১-বিজিবি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত ড্রোনটি বর্তমানে বিজিবির হেফাজতে রয়েছে। সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে এবং বিজিবি সতর্ক অবস্থানে আছে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
এ ঘটনার পর থেকে মগলিবাড়ী সীমান্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। বিএসএফ কেন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ড্রোন পাঠিয়েছিল এবং এটি যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে-তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আপনার মতামত লিখুন