লাল মাটির মধুপুর গড় অঞ্চলে কৃষিতে নতুন এক বিপ্লব ঘটাচ্ছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টার। এই কেন্দ্রে উদ্ভাবিত ও গ্রাফটিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত ‘বারোমাসি আঠাবিহীন’ কাঁঠালের চারা এখন এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। রোপণের মাত্র দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ফলন আসায় এবং আঠা না থাকায় বাজারে এই কাঁঠালের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশের ৭৯টি হর্টিকালচার সেন্টারের মধ্যে ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারে এই জাতের কাঁঠালের কলম উৎপাদনের সাফল্যের হার সর্বোচ্চ। বিশেষায়িত গ্রাফটিং শেডে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তির মাধ্যমে এখানে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।
ধনবাড়ী হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যোক্তা ও উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ মো. রাসেল পারভেজ তমাল জানান, প্রায় তিন বছর আগে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ৩০টি বারোমাসি আঠাবিহীন কাঁঠালের কলম রোপণ করেছিলেন। বর্তমানে প্রতিটি গাছে ৪ থেকে ১২টি করে ফল ধরেছে। এই মাতৃবাগান থেকে চলতি বছরে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি মানসম্মত কলম উৎপাদন করা হয়েছে, যা এখন কৃষকদের কাছে বিক্রির জন্য প্রস্তুত।
সরেজমিনে হর্টিকালচার সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রের উত্তর পাশে সারিবদ্ধ ছোট ছোট গাছে ঝুলে আছে নজরকাড়া কাঁঠাল। সাধারণ কাঁঠালের মতো এতে কোনো আঠা বা কষ নেই। এর শাঁস শক্ত, মিষ্টি ও সুগন্ধি। পাকলে শাঁস গাঢ় হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
এই উদ্যোগ এখন কেবল হর্টিকালচার সেন্টারের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই; মধুপুরের মমিনপুর, ধরাটি, গোবুদিয়া-সহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা বাণিজ্যিক বাগান শুরু করেছেন। প্রচলিত কাঁঠালের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ চাষিরা এখন এই বারোমাসি জাতের দিকে ঝুঁকছেন। বছরজুড়ে ফলন পাওয়া এবং অফ-সিজনে (অমৌসুম) বাজারে সরবরাহের সুযোগ থাকায় কৃষকেরা ভালো লাভের আশা করছেন।
কৃষিবিদ রাসেল পারভেজ তমাল সংবাদকে বলেন, ‘এই মাতৃবাগান শুধু ধনবাড়ী নয়, পুরো অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির চিত্র বদলে দিতে পারে। আঠাবিহীন ও সুস্বাদু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও এই কাঁঠালের বিশাল রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন