বাগেরহাটের চিতলমারীতে কৃষকের সোনালি স্বপ্নে হানা দিয়েছে অকাল বৃষ্টি। কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। মাঠের পাকা ধান একদিকে যেমন বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিকের চড়া দাম আর ধানের কম মূল্যে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিতলমারীর ঘেরগুলোতে মাছ চাষের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। এ বছর হীরা-২, হীরা-৯, আলনরণ, স্বাতী এবং ইস্পাহানি-২ ও ৭-সহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল ও দেশীয় জাতের ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। বৈশাখের শুরুতেই ধান কাটা শুরু হলেও দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টিতে কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক স্থানে কাটা ধান বৃষ্টির পানিতে ভিজে ক্ষেতেই চারা গজিয়ে গেছে।
উপজেলার আড়ুয়াবর্ণি গ্রামের কৃষক ইনু শেখ এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সাত বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘একদিকে ধানের বাজারদর মাত্র ৭০০-৮০০ টাকা, অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। তার ওপর বৃষ্টির বাগড়া। কী করে এই ধান ঘরে তুলব আর কীভাবে ঋণের টাকা শোধ করব, তা ভেবে পাচ্ছি না।’
একই চিত্র শ্যামপাড়া গ্রামের নির্মল মণ্ডল ও অসীম মণ্ডলেরও। তাদের মতে, সব ধান পেকে গেলেও বৃষ্টির ভয়ে অনেকে কাটতে সাহস পাচ্ছেন না। যারা কেটেছেন, তাদের ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে ব্যাপক লোকসানের মুখে ফেলেছে।
চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ জানান, এ বছর বোরো ধানের ফলন চমৎকার হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছু কিছু এলাকায় ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এলাকায় প্রায় ২০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আশপাশের এলাকার তুলনায় আমাদের এখানকার অবস্থা তুলনামূলক ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কৃষকরা সব ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে আমরা আশা করছি।’

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
বাগেরহাটের চিতলমারীতে কৃষকের সোনালি স্বপ্নে হানা দিয়েছে অকাল বৃষ্টি। কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ায় বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা। মাঠের পাকা ধান একদিকে যেমন বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রমিকের চড়া দাম আর ধানের কম মূল্যে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চিতলমারীর ঘেরগুলোতে মাছ চাষের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। এ বছর হীরা-২, হীরা-৯, আলনরণ, স্বাতী এবং ইস্পাহানি-২ ও ৭-সহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল ও দেশীয় জাতের ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। বৈশাখের শুরুতেই ধান কাটা শুরু হলেও দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টিতে কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। অনেক স্থানে কাটা ধান বৃষ্টির পানিতে ভিজে ক্ষেতেই চারা গজিয়ে গেছে।
উপজেলার আড়ুয়াবর্ণি গ্রামের কৃষক ইনু শেখ এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সাত বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘একদিকে ধানের বাজারদর মাত্র ৭০০-৮০০ টাকা, অথচ একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। তার ওপর বৃষ্টির বাগড়া। কী করে এই ধান ঘরে তুলব আর কীভাবে ঋণের টাকা শোধ করব, তা ভেবে পাচ্ছি না।’
একই চিত্র শ্যামপাড়া গ্রামের নির্মল মণ্ডল ও অসীম মণ্ডলেরও। তাদের মতে, সব ধান পেকে গেলেও বৃষ্টির ভয়ে অনেকে কাটতে সাহস পাচ্ছেন না। যারা কেটেছেন, তাদের ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে ব্যাপক লোকসানের মুখে ফেলেছে।
চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ জানান, এ বছর বোরো ধানের ফলন চমৎকার হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছু কিছু এলাকায় ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এলাকায় প্রায় ২০ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আশপাশের এলাকার তুলনায় আমাদের এখানকার অবস্থা তুলনামূলক ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কৃষকরা সব ধান ঘরে তুলতে পারবেন বলে আমরা আশা করছি।’

আপনার মতামত লিখুন