সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে মাদকের স্রোত, সক্রিয় ৫০০ কারবারি


লিটন হোসাইন জিহাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
লিটন হোসাইন জিহাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশ: ৭ মে ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে মাদকের স্রোত, সক্রিয় ৫০০ কারবারি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সীমান্ত থেকে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য। ছবি : সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে মাদকের বড় বড় চালান। জেলার বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ ও স্কাফ সিরাপ পাচার হয়ে আসছে। পরে এসব মাদক সড়ক, রেল ও নৌপথে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।

জেলা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাজুড়ে বর্তমানে পাঁচ শতাধিক মাদক কারবারি সক্রিয় রয়েছেন। এর মধ্যে সীমান্তঘেঁষা তিন উপজেলাতেই আছেন তিন শতাধিক কারবারি। পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় উঠে এসেছে, অন্তত ৮১ জন কারবারির বিরুদ্ধে ৪ থেকে ২০টি পর্যন্ত মাদকের মামলা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের একটি অংশেই অন্তত ৬১টি মাদকের আস্তানা (স্পট) রয়েছে। বিশেষ করে এই ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রাম বর্তমানে মাদক কেনাবেচার অন্যতম কেন্দ্র। এ ছাড়া কসবা ও আখাউড়া সীমান্ত দিয়েও নিয়মিত মাদকের চালান ঢুকছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কারবারিরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও একই পেশায় জড়িয়ে পড়ছে।

তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে বিজয়নগরের শাহ পরাণের বিরুদ্ধে ২০টি, আখাউড়ার জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে ১৮টি এবং সজল মিয়ার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া কসবার স্বপন মিয়া, জসিম মিয়া ও সবুজের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করছি। নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে অনেকে জামিনে বেরিয়ে পুনরায় কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা তালিকা ধরে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, মাদক কারবারে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদক নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সম্প্রতি এক সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে মাদকের স্রোত, সক্রিয় ৫০০ কারবারি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে মাদকের বড় বড় চালান। জেলার বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ ও স্কাফ সিরাপ পাচার হয়ে আসছে। পরে এসব মাদক সড়ক, রেল ও নৌপথে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।

জেলা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাজুড়ে বর্তমানে পাঁচ শতাধিক মাদক কারবারি সক্রিয় রয়েছেন। এর মধ্যে সীমান্তঘেঁষা তিন উপজেলাতেই আছেন তিন শতাধিক কারবারি। পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় উঠে এসেছে, অন্তত ৮১ জন কারবারির বিরুদ্ধে ৪ থেকে ২০টি পর্যন্ত মাদকের মামলা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের একটি অংশেই অন্তত ৬১টি মাদকের আস্তানা (স্পট) রয়েছে। বিশেষ করে এই ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রাম বর্তমানে মাদক কেনাবেচার অন্যতম কেন্দ্র। এ ছাড়া কসবা ও আখাউড়া সীমান্ত দিয়েও নিয়মিত মাদকের চালান ঢুকছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কারবারিরা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও একই পেশায় জড়িয়ে পড়ছে।

তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে বিজয়নগরের শাহ পরাণের বিরুদ্ধে ২০টি, আখাউড়ার জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে ১৮টি এবং সজল মিয়ার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া কসবার স্বপন মিয়া, জসিম মিয়া ও সবুজের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করছি। নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে অনেকে জামিনে বেরিয়ে পুনরায় কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা তালিকা ধরে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, মাদক কারবারে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাদক নির্মূলে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সম্প্রতি এক সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, পুরো প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত