সংবাদ

জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত পৃথিবীর দাবিতে ঢাকায় জলবায়ু ধর্মঘট


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৮ মে ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম

জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত পৃথিবীর দাবিতে ঢাকায় জলবায়ু ধর্মঘট
একশনএইডসহ ৩০টি যুব ও ৮টি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম ইয়ুথ হাবের তরুণরা কর্মসূচিতে অংশ নেন

‘প্রকৃতি ছাড়া ভবিষ্যৎ নেই’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত পৃথিবীর দাবিতে রাজপথে নেমেছে তরুণ প্রজন্ম। শুক্রবার (৮ মে) গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক উপলক্ষে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে এক জলবায়ু ধর্মঘটে অংশ নিয়ে তরুণরা এই দাবি জানান। এসময় অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে পদ্ধতিগত পরিবর্তনের (জাস্ট ট্রানজিশন) ডাক দেন তরুণ জলবায়ু কর্মীরা।

সমাবেশে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তারা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি একটি বিশালাকৃতির ‘দানব’ প্রদর্শন করেন, যা পরিবেশের ওপর প্লাস্টিক ও জীবাশ্ম জ্বালানির ভয়াবহ প্রভাবকে ফুটিয়ে তোলে। এছাড়াও মাস্ক পরে জীবাশ্ম জ্বালানির স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ক একটি প্রতীকী প্রদর্শনী করেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশ শেষে মানিক মিয়া এভিনিউতে একটি র‌্যালি করেছে জলবায়ু কর্মীরা।

একশনএইড বাংলাদেশসহ দেশের ৩০টি যুব সংগঠন এবং ৮টি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম ইয়ুথ হাবের শতাধিক তরুণ প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকার পাশাপাশি দেশের আরও ২৭টি জেলায় হাজার হাজার তরুণ এই আন্দোলনে শামিল হন। চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ‘অ্যাক্টিভিস্টা’ নেটওয়ার্কের সদস্যরা জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে পদযাত্রা ও সমাবেশ করেন।

তৃণমূলের উদ্বেগ তুলে ধরে জলবায়ু কর্মী নিপা সাহা বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানির নিঃসরণ আমাদের বাতাসকে বিষাক্ত করছে। বসবাসের অযোগ্য হওয়া থেকে দেশকে বাঁচাতে এখনই কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।”

আরেক কর্মী ইমরান আহম্মেদ ইমন জলবায়ু সংকট নিরসনে নারীর নেতৃত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে নারীদের ওপর, তবুও তাদের কণ্ঠই সবচেয়ে কম শোনা হয়। ন্যায়বিচারভিত্তিক জলবায়ু সমাধানে নারীর নেতৃত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করা এখন জরুরি। এই গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক সেই সমতার দাবিকে আরও জোরালো করে তুলছে।”

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে একশনএইড বাংলাদেশ-এর ইয়ুথ, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট জাস্টিস টিমের লিড মো. নাজমুল আহসান বলেন, “জ্বালানি সুবিধা পাওয়া আমাদের মৌলিক মানবাধিকার। পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো অপরিহার্য। আমরা তরুণদের সেই লড়াইকে সমর্থন করি যেখানে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করতে চায়।”

মানিক মিয়া এভিনিউতে ধর্মঘট পালন

আয়োজকরা জানান, প্রতি বছর ‘ফান্ড আওয়ার ফিউচার’ ক্যাম্পেইনের আওতায় বিশ্বব্যাপী এই ধর্মঘট পালিত হয়। জলবায়ু রক্ষায় একশনএইড বাংলাদেশের ‘ফান্ড আওয়ার ফিউচার’ক্যাম্পেইন ও ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’-এর ডাকে এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে যুব সংগঠনগুলোর একটি বড় জোট।

ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ নিশ্চিতের এই লড়াইয়ে যুক্ত আছে: আশার আলো ইয়ুথ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার, ইকোবাংলা, ফিউচার ফ্লেয়ার ফাউন্ডেশন, গ্রিন পিস ইয়ুথ ডিপ্লয়মেন্ট সোসাইটি, জনকল্যাণ সংস্থা, কাশফুল ফাউন্ডেশন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, ওএবি ফাউন্ডেশন, অদম্য’১৯ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, রঙমহল ফর ইয়ুথ, রূপান্তর, সোসাইটি ফর অ্যাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (সাদা), শারুব ইয়ুথ টিম, এসএইচবিও, আনকোরা, উইভ বাংলাদেশ, ওয়াইএএসডি (ওয়াইএএসডি), ইউক্যান (ওয়াইসিএএন), ওয়াইএডি, ইয়ুথ ফর আপলিফট বাংলাদেশ, স্বপ্ন প্রয়াস যুব সংস্থা, সূর্যোদয় ইয়ুথ সোসাইটি, দ্য নিউট্রিফিকেশন, দ্য সুন্দরবনস। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬


জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত পৃথিবীর দাবিতে ঢাকায় জলবায়ু ধর্মঘট

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬

featured Image

‘প্রকৃতি ছাড়া ভবিষ্যৎ নেই’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত পৃথিবীর দাবিতে রাজপথে নেমেছে তরুণ প্রজন্ম। শুক্রবার (৮ মে) গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক উপলক্ষে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে এক জলবায়ু ধর্মঘটে অংশ নিয়ে তরুণরা এই দাবি জানান। এসময় অবিলম্বে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে পদ্ধতিগত পরিবর্তনের (জাস্ট ট্রানজিশন) ডাক দেন তরুণ জলবায়ু কর্মীরা।

সমাবেশে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে তারা পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি একটি বিশালাকৃতির ‘দানব’ প্রদর্শন করেন, যা পরিবেশের ওপর প্লাস্টিক ও জীবাশ্ম জ্বালানির ভয়াবহ প্রভাবকে ফুটিয়ে তোলে। এছাড়াও মাস্ক পরে জীবাশ্ম জ্বালানির স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ক একটি প্রতীকী প্রদর্শনী করেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশ শেষে মানিক মিয়া এভিনিউতে একটি র‌্যালি করেছে জলবায়ু কর্মীরা।

একশনএইড বাংলাদেশসহ দেশের ৩০টি যুব সংগঠন এবং ৮টি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম ইয়ুথ হাবের শতাধিক তরুণ প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকার পাশাপাশি দেশের আরও ২৭টি জেলায় হাজার হাজার তরুণ এই আন্দোলনে শামিল হন। চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ‘অ্যাক্টিভিস্টা’ নেটওয়ার্কের সদস্যরা জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে পদযাত্রা ও সমাবেশ করেন।

তৃণমূলের উদ্বেগ তুলে ধরে জলবায়ু কর্মী নিপা সাহা বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানির নিঃসরণ আমাদের বাতাসকে বিষাক্ত করছে। বসবাসের অযোগ্য হওয়া থেকে দেশকে বাঁচাতে এখনই কয়লা ও তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে।”

আরেক কর্মী ইমরান আহম্মেদ ইমন জলবায়ু সংকট নিরসনে নারীর নেতৃত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে নারীদের ওপর, তবুও তাদের কণ্ঠই সবচেয়ে কম শোনা হয়। ন্যায়বিচারভিত্তিক জলবায়ু সমাধানে নারীর নেতৃত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করা এখন জরুরি। এই গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক সেই সমতার দাবিকে আরও জোরালো করে তুলছে।”

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে একশনএইড বাংলাদেশ-এর ইয়ুথ, রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট জাস্টিস টিমের লিড মো. নাজমুল আহসান বলেন, “জ্বালানি সুবিধা পাওয়া আমাদের মৌলিক মানবাধিকার। পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো অপরিহার্য। আমরা তরুণদের সেই লড়াইকে সমর্থন করি যেখানে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করতে চায়।”

মানিক মিয়া এভিনিউতে ধর্মঘট পালন

আয়োজকরা জানান, প্রতি বছর ‘ফান্ড আওয়ার ফিউচার’ ক্যাম্পেইনের আওতায় বিশ্বব্যাপী এই ধর্মঘট পালিত হয়। জলবায়ু রক্ষায় একশনএইড বাংলাদেশের ‘ফান্ড আওয়ার ফিউচার’ক্যাম্পেইন ও ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’-এর ডাকে এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে যুব সংগঠনগুলোর একটি বড় জোট।

ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ নিশ্চিতের এই লড়াইয়ে যুক্ত আছে: আশার আলো ইয়ুথ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার, ইকোবাংলা, ফিউচার ফ্লেয়ার ফাউন্ডেশন, গ্রিন পিস ইয়ুথ ডিপ্লয়মেন্ট সোসাইটি, জনকল্যাণ সংস্থা, কাশফুল ফাউন্ডেশন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, ওএবি ফাউন্ডেশন, অদম্য’১৯ ইয়ুথ ফাউন্ডেশন, রঙমহল ফর ইয়ুথ, রূপান্তর, সোসাইটি ফর অ্যাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (সাদা), শারুব ইয়ুথ টিম, এসএইচবিও, আনকোরা, উইভ বাংলাদেশ, ওয়াইএএসডি (ওয়াইএএসডি), ইউক্যান (ওয়াইসিএএন), ওয়াইএডি, ইয়ুথ ফর আপলিফট বাংলাদেশ, স্বপ্ন প্রয়াস যুব সংস্থা, সূর্যোদয় ইয়ুথ সোসাইটি, দ্য নিউট্রিফিকেশন, দ্য সুন্দরবনস। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত