‘সকালবেলা মেয়েকে স্কুলে দিয়ে রামপুরার একটি দোকানে এক কাপ চা খাওয়ার অভ্যাস আমার নিত্যদিনের। প্রতিদিন পাঁচ-ছয়জন ছেলে সেখানে আড্ডা দেয়। তাদের মধ্যে একটা ছেলে প্রথম প্রথম চুপ করে বসে থাকত। বাকিরা সিগারেট, চা হাতে নিয়ে তাদের কোনো না কোনো শিক্ষকের নামে গীবত করত, সে অস্বস্তিতে চা খেত। তাদের মধ্যে কেউ একজন একটি সিগারেট দিয়ে বলত, 'নে একটান দে।' পাশের ছেলেরা বলত, ‘অরে দিয়া লাভ নাই, ও ফিডার ছাড়া কিছু খায় না।’
সপ্তাহ দুয়েক পরে আজ দেখলাম, সেই ছেলেই সবচেয়ে জোরে জোরে হাসছে। এসেই বলল, ‘মামা একটা ব্যানসন দাও।' আমি দীর্ঘক্ষণ ছেলেটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। পাশের দোকানি আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মামা, ছেলেটা ভালো ছিল, পোলাপাইনের লগে মিশে ফাতরা হয়ে গেছে।' বলছিলেন মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন নামে এক চাকরীজীবী।
আদিম মানুষেরা দল বাঁধতো। সেই দলে ব্যক্তির স্বতন্ত্র হওয়ার সুযোগ কম থাকতো।
মনোবিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘সামাজিক অনুসরণ’। মানুষ স্বভাবতই দলের সঙ্গে মিলে যেতে চায়। কারণ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মানব সভ্যতায় দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া মানে ছিল মৃত্যু। সেই প্রবৃত্তি এখনো আমাদের মাথার ভেতরে গেঁথে আছে। কিন্তু এই প্রবণতাই যখন খারাপ সঙ্গের মাঝে পড়ে, তখন সেটি মানুষকে ভেতর থেকে বদলে দেয়। ধীরে ধীরে, টের পাওয়ার আগেই।
যেভাবে শুরু হয় পতন, ধাপে ধাপে
প্রথমে আসে মানিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা। অফিসে নতুন যোগ দিয়েছেন, বা নতুন পাড়ায় উঠেছেন। আশেপাশের মানুষগুলো একটু অন্যরকম। তারা হয়তো সহকর্মীর পেছনে কথা বলে, বা ফাঁকি দেওয়াকে বুদ্ধিমানের কাজ মনে করে। আপনি বিরক্ত হন, কিন্তু মুখে কিছু বলেন না। কারণ নতুন জায়গায় উল্টোপাল্টা কথা বলাটা বুদ্ধিমানের না। এই চুপ করে থাকাটাই প্রথম ধাপ।
তৃতীয় ধাপে আসে যুক্তিতর্কের পুনর্গঠন। মানুষ নিজেকে ভালো মনে করতে চায়, এটাই স্বাভাবিক। তাই সে নিজের পরিবর্তনকে সমর্থন করার জন্য নিজের মনের ভেতরেই নতুন যুক্তি তৈরি করে। “আসলে ঘুষ না নিলে টিকে থাকা যায় না”, “সবাই তো করছে, আমি না করলে কী হবে?”, “এটা তো আর বড় কিছু না”। মনোবিজ্ঞানে এর নাম “কগনেটিভ ডিজোনেন্স রিডাকশন”। অর্থাৎ নিজের কাজ আর নিজের বিশ্বাসের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, মানুষ সেটা কমাতে বিশ্বাসটাকেই বদলে ফেলে।
নিজেকে পড়ে, নিজের ভেতরে আবদ্ধ হওয়া কঠিন
ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আসা ছেলেটা গ্রামে সবার প্রিয়, সৎ, কথা রাখে। মেসে উঠেছে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে। এখানে রাত জেগে আড্ডা, ফাঁকিবাজি, হয়তো ছোট ছোট অসততা। প্রথম মাসে সে অস্বস্তিতে ছিল। দুই বছর পরে সে নিজেই মেসের নতুন ছেলেটিকে নতুন নতুন ফন্দি শেখাচ্ছে।
এই গল্পগুলো ব্যতিক্রম না। এগুলোই নিয়ম। তাহলে উল্টোটা কেন হয় না? খারাপ মানুষ ভালো কেন হয় না?
সুন্দরীরা সাময়িকভাবে বখাটেদের পাল্লায় পড়ে। তবে...
আরেকটি কারণ হলো পরিচয়ের সংকট। খারাপ মানুষটির চারপাশে যারা আছে তারা তার এই রূপটাকেই চেনে। ভালো মানুষের সঙ্গে থাকলেও তার নিজের পুরনো দল আছে, পুরনো সম্পর্ক আছে, পুরনো পরিচয় আছে। সেই টান সহজে কাটে না।
ভালো মানুষ কেন বেশি ঝুঁকিতে?
এটা পরস্পরবিরোধী শোনাবে, কিন্তু সত্যি যে ভালো মানুষরাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ ভালো মানুষের মধ্যে থাকে সহানুভূতি। সে মানুষের দোষ বোঝার চেষ্টা করে, মাফ করে দেয়, সুযোগ দেয়। এই গুণগুলোই তাকে দুর্বল করে তোলে খারাপ সঙ্গের সামনে। আবার ভালো মানুষের থাকে অপরাধবোধ। কাউকে ‘না’ বলতে পারে না, বন্ধুত্ব হারাতে ভয় পায়। এই দুর্বলতাকে কাজে লাগায় তার চারপাশের মানুষেরা, সচেতনভাবেই, কিন্তু আপনার অবচেতনে।
দ্বন্দ্ব আসে ভেতর থেকেই। ভালো আর মন্দের বিভেদ করার দ্বন্দ্ব
ক্লাসে যে ছেলেটা পড়াশোনা করে, শিক্ষকদের সম্মান করে, কাউকে কষ্ট দেয় না, সে প্রেম করার সাহসও দেখায় না, কাউকে ভালো লাগলেও সহজে বলতে পারে না। আর যদি অনেক সাহস সঞ্চার করে বলেও ফেলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় মেয়েটা সায় দেয় না। আর যে ছেলেটা ক্লাস ফাঁকি দেয়, পেছনের বেঞ্চে বসে আড্ডা দেয়, শিক্ষকের পিঠ ফিরলে সবাইকে হাসায়, সে-ই পায় ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটার মন। ভালো ছেলেগুলো অবাক হয়ে ভাবে, “আমরা কি ভুল কিছু করলাম?” না, তারা ভুল কিছু করেনি। কিন্তু তারা এমন একটা খেলায় অংশ নিয়েছে যেখানে নিয়ম মানা পুরস্কারযোগ্য নয়, চোখে পড়াটা পুরস্কারযোগ্য।
এখানেও সেই একই সঙ্গদোষের মনোবিজ্ঞান কাজ করে, তবে একটু ভিন্নভাবে। মেয়েটা সচেতনভাবে “বাজে ছেলেকে” বেছে নেয়নি। সে বেছে নিয়েছে উত্তেজনাকে, অনিশ্চয়তাকে এবং সামাজিক দৃশ্যমানতাকে।
ক্লাসের অনেকে যদি বাজে ছেলেটার দিকে তাকায়, তার ডাকে সাড়া দেয়, তাকে নিয়ে কথা বলে, তাহলে অবচেতন মন বলে, এই মানুষটার কোনো বিশেষ গুণ আছে। এটা যুক্তির কথা নয়, প্রবৃত্তির কথা। সঙ্গ শুধু সিগারেট ধরায় না। সঙ্গ মানদণ্ডও বদলে দেয়। কাকে ভালো লাগবে, কাকে চাওয়া উচিত, কে আকর্ষণীয়, এই সংজ্ঞাগুলোও সেই পরিবেশ থেকেই আসে।
বাইরের চোখ আর ভেতরের চোখ কখনও কখনও ভিন্ন হয়ে যায়।
এই ভুলের মাশুল দিতে হয় অনেক পরে। যখন উত্তেজনা ফুরিয়ে যায়, যখন অনিশ্চয়তা আর রোমাঞ্চ মনে হয় না বরং ভার মনে হয়, তখন মানুষ খোঁজে নির্ভরযোগ্যতা। তখন সে যাকে আগে একঘেঁয়ে মনে করেছিল, তাকেই খোঁজে।
নিজেকে হারিয়ে খুঁজতে থাকি অনন্তকাল।
সঙ্গ বাছুন, নিজের জন্য
পুরনো বাংলায় একটা কথা ছিল, “সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ”। কথাটা ধর্মীয় আবরণে বলা, কিন্তু এর মনস্তাত্ত্বিক সত্যতা আধুনিক গবেষণাও স্বীকার করে। আপনি কাদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, কাদের কথা শুনছেন, কাদের হাসিতে হাসছেন, এই ছোট ছোট সিদ্ধান্তগুলোই আপনার পরবর্তী পাঁচ বছরের মানুষটাকে তৈরি করছে। একইভাবে, কাকে ভালো লাগবে, কাকে বেছে নেবেন, এই সিদ্ধান্তও আপনার একা নয়, পরিবেশ এখানে কানে কানে কথা বলে।
নিজের দিগন্ত নিজেই খুঁজে নিতে পারে মানুষ
লেখক: চিফ, ভিডিও এডিটিং বিভাগ, সংবাদ ডিজিটাল

শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মে ২০২৬
‘সকালবেলা মেয়েকে স্কুলে দিয়ে রামপুরার একটি দোকানে এক কাপ চা খাওয়ার অভ্যাস আমার নিত্যদিনের। প্রতিদিন পাঁচ-ছয়জন ছেলে সেখানে আড্ডা দেয়। তাদের মধ্যে একটা ছেলে প্রথম প্রথম চুপ করে বসে থাকত। বাকিরা সিগারেট, চা হাতে নিয়ে তাদের কোনো না কোনো শিক্ষকের নামে গীবত করত, সে অস্বস্তিতে চা খেত। তাদের মধ্যে কেউ একজন একটি সিগারেট দিয়ে বলত, 'নে একটান দে।' পাশের ছেলেরা বলত, ‘অরে দিয়া লাভ নাই, ও ফিডার ছাড়া কিছু খায় না।’
সপ্তাহ দুয়েক পরে আজ দেখলাম, সেই ছেলেই সবচেয়ে জোরে জোরে হাসছে। এসেই বলল, ‘মামা একটা ব্যানসন দাও।' আমি দীর্ঘক্ষণ ছেলেটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম। পাশের দোকানি আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মামা, ছেলেটা ভালো ছিল, পোলাপাইনের লগে মিশে ফাতরা হয়ে গেছে।' বলছিলেন মোহাম্মদ নিজামুদ্দিন নামে এক চাকরীজীবী।
আদিম মানুষেরা দল বাঁধতো। সেই দলে ব্যক্তির স্বতন্ত্র হওয়ার সুযোগ কম থাকতো।
মনোবিজ্ঞানীরা একে বলেন ‘সামাজিক অনুসরণ’। মানুষ স্বভাবতই দলের সঙ্গে মিলে যেতে চায়। কারণ লক্ষ লক্ষ বছর ধরে মানব সভ্যতায় দল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া মানে ছিল মৃত্যু। সেই প্রবৃত্তি এখনো আমাদের মাথার ভেতরে গেঁথে আছে। কিন্তু এই প্রবণতাই যখন খারাপ সঙ্গের মাঝে পড়ে, তখন সেটি মানুষকে ভেতর থেকে বদলে দেয়। ধীরে ধীরে, টের পাওয়ার আগেই।
যেভাবে শুরু হয় পতন, ধাপে ধাপে
প্রথমে আসে মানিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা। অফিসে নতুন যোগ দিয়েছেন, বা নতুন পাড়ায় উঠেছেন। আশেপাশের মানুষগুলো একটু অন্যরকম। তারা হয়তো সহকর্মীর পেছনে কথা বলে, বা ফাঁকি দেওয়াকে বুদ্ধিমানের কাজ মনে করে। আপনি বিরক্ত হন, কিন্তু মুখে কিছু বলেন না। কারণ নতুন জায়গায় উল্টোপাল্টা কথা বলাটা বুদ্ধিমানের না। এই চুপ করে থাকাটাই প্রথম ধাপ।
তৃতীয় ধাপে আসে যুক্তিতর্কের পুনর্গঠন। মানুষ নিজেকে ভালো মনে করতে চায়, এটাই স্বাভাবিক। তাই সে নিজের পরিবর্তনকে সমর্থন করার জন্য নিজের মনের ভেতরেই নতুন যুক্তি তৈরি করে। “আসলে ঘুষ না নিলে টিকে থাকা যায় না”, “সবাই তো করছে, আমি না করলে কী হবে?”, “এটা তো আর বড় কিছু না”। মনোবিজ্ঞানে এর নাম “কগনেটিভ ডিজোনেন্স রিডাকশন”। অর্থাৎ নিজের কাজ আর নিজের বিশ্বাসের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, মানুষ সেটা কমাতে বিশ্বাসটাকেই বদলে ফেলে।
নিজেকে পড়ে, নিজের ভেতরে আবদ্ধ হওয়া কঠিন
ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আসা ছেলেটা গ্রামে সবার প্রিয়, সৎ, কথা রাখে। মেসে উঠেছে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে। এখানে রাত জেগে আড্ডা, ফাঁকিবাজি, হয়তো ছোট ছোট অসততা। প্রথম মাসে সে অস্বস্তিতে ছিল। দুই বছর পরে সে নিজেই মেসের নতুন ছেলেটিকে নতুন নতুন ফন্দি শেখাচ্ছে।
এই গল্পগুলো ব্যতিক্রম না। এগুলোই নিয়ম। তাহলে উল্টোটা কেন হয় না? খারাপ মানুষ ভালো কেন হয় না?
সুন্দরীরা সাময়িকভাবে বখাটেদের পাল্লায় পড়ে। তবে...
আরেকটি কারণ হলো পরিচয়ের সংকট। খারাপ মানুষটির চারপাশে যারা আছে তারা তার এই রূপটাকেই চেনে। ভালো মানুষের সঙ্গে থাকলেও তার নিজের পুরনো দল আছে, পুরনো সম্পর্ক আছে, পুরনো পরিচয় আছে। সেই টান সহজে কাটে না।
ভালো মানুষ কেন বেশি ঝুঁকিতে?
এটা পরস্পরবিরোধী শোনাবে, কিন্তু সত্যি যে ভালো মানুষরাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ ভালো মানুষের মধ্যে থাকে সহানুভূতি। সে মানুষের দোষ বোঝার চেষ্টা করে, মাফ করে দেয়, সুযোগ দেয়। এই গুণগুলোই তাকে দুর্বল করে তোলে খারাপ সঙ্গের সামনে। আবার ভালো মানুষের থাকে অপরাধবোধ। কাউকে ‘না’ বলতে পারে না, বন্ধুত্ব হারাতে ভয় পায়। এই দুর্বলতাকে কাজে লাগায় তার চারপাশের মানুষেরা, সচেতনভাবেই, কিন্তু আপনার অবচেতনে।
দ্বন্দ্ব আসে ভেতর থেকেই। ভালো আর মন্দের বিভেদ করার দ্বন্দ্ব
ক্লাসে যে ছেলেটা পড়াশোনা করে, শিক্ষকদের সম্মান করে, কাউকে কষ্ট দেয় না, সে প্রেম করার সাহসও দেখায় না, কাউকে ভালো লাগলেও সহজে বলতে পারে না। আর যদি অনেক সাহস সঞ্চার করে বলেও ফেলে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় মেয়েটা সায় দেয় না। আর যে ছেলেটা ক্লাস ফাঁকি দেয়, পেছনের বেঞ্চে বসে আড্ডা দেয়, শিক্ষকের পিঠ ফিরলে সবাইকে হাসায়, সে-ই পায় ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটার মন। ভালো ছেলেগুলো অবাক হয়ে ভাবে, “আমরা কি ভুল কিছু করলাম?” না, তারা ভুল কিছু করেনি। কিন্তু তারা এমন একটা খেলায় অংশ নিয়েছে যেখানে নিয়ম মানা পুরস্কারযোগ্য নয়, চোখে পড়াটা পুরস্কারযোগ্য।
এখানেও সেই একই সঙ্গদোষের মনোবিজ্ঞান কাজ করে, তবে একটু ভিন্নভাবে। মেয়েটা সচেতনভাবে “বাজে ছেলেকে” বেছে নেয়নি। সে বেছে নিয়েছে উত্তেজনাকে, অনিশ্চয়তাকে এবং সামাজিক দৃশ্যমানতাকে।
ক্লাসের অনেকে যদি বাজে ছেলেটার দিকে তাকায়, তার ডাকে সাড়া দেয়, তাকে নিয়ে কথা বলে, তাহলে অবচেতন মন বলে, এই মানুষটার কোনো বিশেষ গুণ আছে। এটা যুক্তির কথা নয়, প্রবৃত্তির কথা। সঙ্গ শুধু সিগারেট ধরায় না। সঙ্গ মানদণ্ডও বদলে দেয়। কাকে ভালো লাগবে, কাকে চাওয়া উচিত, কে আকর্ষণীয়, এই সংজ্ঞাগুলোও সেই পরিবেশ থেকেই আসে।
বাইরের চোখ আর ভেতরের চোখ কখনও কখনও ভিন্ন হয়ে যায়।
এই ভুলের মাশুল দিতে হয় অনেক পরে। যখন উত্তেজনা ফুরিয়ে যায়, যখন অনিশ্চয়তা আর রোমাঞ্চ মনে হয় না বরং ভার মনে হয়, তখন মানুষ খোঁজে নির্ভরযোগ্যতা। তখন সে যাকে আগে একঘেঁয়ে মনে করেছিল, তাকেই খোঁজে।
নিজেকে হারিয়ে খুঁজতে থাকি অনন্তকাল।
সঙ্গ বাছুন, নিজের জন্য
পুরনো বাংলায় একটা কথা ছিল, “সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ”। কথাটা ধর্মীয় আবরণে বলা, কিন্তু এর মনস্তাত্ত্বিক সত্যতা আধুনিক গবেষণাও স্বীকার করে। আপনি কাদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, কাদের কথা শুনছেন, কাদের হাসিতে হাসছেন, এই ছোট ছোট সিদ্ধান্তগুলোই আপনার পরবর্তী পাঁচ বছরের মানুষটাকে তৈরি করছে। একইভাবে, কাকে ভালো লাগবে, কাকে বেছে নেবেন, এই সিদ্ধান্তও আপনার একা নয়, পরিবেশ এখানে কানে কানে কথা বলে।
নিজের দিগন্ত নিজেই খুঁজে নিতে পারে মানুষ
লেখক: চিফ, ভিডিও এডিটিং বিভাগ, সংবাদ ডিজিটাল

আপনার মতামত লিখুন