পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ, যিনি আরজি কর কাণ্ডে নিজের কন্যাকে হারিয়েছেন, তাঁর বক্তব্যে ছিল গভীর আবেগ ও প্রতিজ্ঞার সুর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমার একমাত্র লক্ষ্য—আর কোনো মেয়েকে যেন এমন ভয়ঙ্কর ঘটনার শিকার হতে না হয়। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র, প্রতিটি জায়গায় নারীরা যাতে মাথা উঁচু করে নিরাপদে চলতে পারেন, তেমন পরিবেশ গড়ে তোলাই আমার প্রধান অগ্রাধিকার। নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা একটি নিচ্ছিদ্র পরিকল্পনা তৈরি করব এবং আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে তা বাস্তবায়নে চেষ্টা চালিয়ে যাব।" তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত জনতাকে স্পর্শ করে যায় এবং এটিই যে সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে যাচ্ছে, তার ইঙ্গিত মেলে।
অন্যদিকে, বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ জোর দিয়েছেন শহরের দৈনন্দিন নাগরিক সমস্যাগুলোর আমূল পরিবর্তনের ওপর। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান যে, আজকের দিনটি বাংলার জন্য এক নতুন ভোরের মতো। সজল ঘোষ বলেন, "রাস্তাঘাট মেরামত, নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং পর্যাপ্ত পথবাতির ব্যবস্থা করাই হবে আমাদের প্রাথমিক কাজ। এর পাশাপাশি গত কয়েক বছরে হওয়া বেআইনি জমি দখল এবং অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ তদন্ত শুরু করব।" তবে তিনি বাস্তববাদী সুরেই বলেন যে, নতুন সরকারের সামনে অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তাই সব সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব না হলেও তাঁরা ধাপে ধাপে এগোতে চান।
সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক দেবাশিস ধর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, "নির্বাচনী প্রচারের সময় আমি মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শুনেছি। মানুষের মনের মধ্যে যে ভয়ের পরিবেশ ছিল, তা দূর করে আইনশৃঙ্খলার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে নতুন সরকারের বড় দায়িত্ব। একইসঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে আমরা আরও গতিশীল করব।" তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, প্রশাসনের ওপর মানুষের ভরসা ফেরানোই এখন তাঁদের সবথেকে বড় পরীক্ষা।
স্বাধীনতার প্রায় ৭৯ বছর পর প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে। একদিকে যেমন পরিবর্তনের আনন্দ আছে, ঠিক তেমনি প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালনের বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে নবগঠিত এই মন্ত্রিসভার সামনে। এখন দেখার বিষয় হলো, সাধারণ মানুষের দেওয়া এই বিপুল জনসমর্থন এবং বিধায়কদের দেওয়া এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের পথে কত দ্রুত এগোতে পারে বাংলার এই নতুন সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত সারা রাজ্যের নজর এখন নবান্নের নতুন কর্মপদ্ধতির ওপর।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ, যিনি আরজি কর কাণ্ডে নিজের কন্যাকে হারিয়েছেন, তাঁর বক্তব্যে ছিল গভীর আবেগ ও প্রতিজ্ঞার সুর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমার একমাত্র লক্ষ্য—আর কোনো মেয়েকে যেন এমন ভয়ঙ্কর ঘটনার শিকার হতে না হয়। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র, প্রতিটি জায়গায় নারীরা যাতে মাথা উঁচু করে নিরাপদে চলতে পারেন, তেমন পরিবেশ গড়ে তোলাই আমার প্রধান অগ্রাধিকার। নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা একটি নিচ্ছিদ্র পরিকল্পনা তৈরি করব এবং আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে তা বাস্তবায়নে চেষ্টা চালিয়ে যাব।" তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত জনতাকে স্পর্শ করে যায় এবং এটিই যে সরকারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হতে যাচ্ছে, তার ইঙ্গিত মেলে।
অন্যদিকে, বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ জোর দিয়েছেন শহরের দৈনন্দিন নাগরিক সমস্যাগুলোর আমূল পরিবর্তনের ওপর। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান যে, আজকের দিনটি বাংলার জন্য এক নতুন ভোরের মতো। সজল ঘোষ বলেন, "রাস্তাঘাট মেরামত, নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং পর্যাপ্ত পথবাতির ব্যবস্থা করাই হবে আমাদের প্রাথমিক কাজ। এর পাশাপাশি গত কয়েক বছরে হওয়া বেআইনি জমি দখল এবং অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ তদন্ত শুরু করব।" তবে তিনি বাস্তববাদী সুরেই বলেন যে, নতুন সরকারের সামনে অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তাই সব সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব না হলেও তাঁরা ধাপে ধাপে এগোতে চান।
সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক দেবাশিস ধর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, "নির্বাচনী প্রচারের সময় আমি মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শুনেছি। মানুষের মনের মধ্যে যে ভয়ের পরিবেশ ছিল, তা দূর করে আইনশৃঙ্খলার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে নতুন সরকারের বড় দায়িত্ব। একইসঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে আমরা আরও গতিশীল করব।" তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, প্রশাসনের ওপর মানুষের ভরসা ফেরানোই এখন তাঁদের সবথেকে বড় পরীক্ষা।
স্বাধীনতার প্রায় ৭৯ বছর পর প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন করায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে। একদিকে যেমন পরিবর্তনের আনন্দ আছে, ঠিক তেমনি প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালনের বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে নবগঠিত এই মন্ত্রিসভার সামনে। এখন দেখার বিষয় হলো, সাধারণ মানুষের দেওয়া এই বিপুল জনসমর্থন এবং বিধায়কদের দেওয়া এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের পথে কত দ্রুত এগোতে পারে বাংলার এই নতুন সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত সারা রাজ্যের নজর এখন নবান্নের নতুন কর্মপদ্ধতির ওপর।

আপনার মতামত লিখুন