করোনা মহামারির ক্ষত এখনো দগদগে বিশ্ববাসীর মনে। ঠিক সেই সময়েই আতঙ্কের নতুন নাম হান্টাভাইরাস। আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান প্রমোদতরীতে ভাইরাসটির সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবরে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তিনজনের মৃত্যু, কয়েকজনের আক্রান্তের খবর ইতিমধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে- এই ভাইরাসটি আসলে কী? করোনার চেয়েও কি ভয়ঙ্কর?
হান্টাভাইরাস মূলত প্রাণীবাহিত। এর প্রধান বাহক ইঁদুর বা ইদুরজাতীয় বন্য প্রাণী। আক্রান্ত ইঁদুরের লালা, মূত্র বা বিষ্ঠা শুকিয়ে গেলে তা বাতাসে মিশে যায়। দূষিত সেই বাতাসে শ্বাস নিলেই ফুসফুসে ঢুকে যায় ভাইরাস। এ ছাড়া আক্রান্ত ইঁদুরের কামড় বা তাদের স্পর্শ করা খাবার থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। সাধারণত কোনো সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত ইঁদুরের সংস্পর্শে না এলে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম।
এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত দুটি ধরনের রোগ দেখা যায়। তার মধ্যে হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (এইচপিএস) সবচেয়ে মারাত্মক। প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ সাধারণ ফ্লু বা সর্দি-জ্বরের মতো। তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি। কিন্তু সতর্কবার্তা সেখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তির ফুসফুসে পানি জমতে শুরু করে। শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে অঙ্গহানি বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
সাধারণ ধারণা, হান্টাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তবে ব্যতিক্রম আছে। দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া একটি বিশেষ স্ট্রেইন ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’- বিরল ক্ষেত্রে সরাসরি মানুষের সংস্পর্শে ছড়াতে পারে। সম্প্রতি আটলান্টিকের প্রমোদতরীতে যে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, তা এই অ্যান্ডিস স্ট্রেইনই। তাই উদ্বেগটা স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
পরিসংখ্যান বলছে, হান্টাভাইরাসের মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ সংক্রমিত প্রতি তিনজনের মধ্যে অন্তত একজন মারা যেতে পারেন। করোনার প্রাথমিক মৃত্যুর হার (প্রায় ২-৩ শতাংশ) বা ওমিক্রনের সময়কার মৃত্যুর হারের চেয়ে এটি অনেক বেশি। অর্থাৎ ভাইরাসটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ঘাতক।
কিন্তু স্বস্তির বিষয় হলো, হান্টাভাইরাস করোনার মতো সহজে ছড়ায় না। এটি সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে সরাসরি ছড়িয়ে যায় না। তাই কোনো জনসমাগমস্থল থেকে হঠাৎ মহামারি আকার ধারণ করার আশঙ্কা কম। মধ্যযুগের ‘ব্ল্যাক ডেথ’-এর স্মৃতি মনে আনলেও ভাইরাসটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে আক্রান্ত করতে পারেনি কোনও দেশে।
হান্টাভাইরাসের এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। তাই প্রতিরোধের একমাত্র পথ সচেতনতা। প্রতিরোধের জন্য বাড়ি বা কর্মস্থলে ইঁদুরের বংশবিস্তার রোধ করতে হবে। খাবার ঢেকে রাখতে হবে। ইঁদুরের বিষ্ঠা পরিষ্কারের সময় অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং বন্য প্রাণীর সংস্পর্শ এড়ানো জরুরি।
ডব্লিউএইচও ইতিমধ্যে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবু ‘নতুন কোভিড’ আতঙ্ক না ছড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ভাইরাসটির প্রতি সতর্ক থাকা জরুরি, তবে আতঙ্ক নয়।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
করোনা মহামারির ক্ষত এখনো দগদগে বিশ্ববাসীর মনে। ঠিক সেই সময়েই আতঙ্কের নতুন নাম হান্টাভাইরাস। আটলান্টিক মহাসাগরে ভাসমান প্রমোদতরীতে ভাইরাসটির সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবরে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তিনজনের মৃত্যু, কয়েকজনের আক্রান্তের খবর ইতিমধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে- এই ভাইরাসটি আসলে কী? করোনার চেয়েও কি ভয়ঙ্কর?
হান্টাভাইরাস মূলত প্রাণীবাহিত। এর প্রধান বাহক ইঁদুর বা ইদুরজাতীয় বন্য প্রাণী। আক্রান্ত ইঁদুরের লালা, মূত্র বা বিষ্ঠা শুকিয়ে গেলে তা বাতাসে মিশে যায়। দূষিত সেই বাতাসে শ্বাস নিলেই ফুসফুসে ঢুকে যায় ভাইরাস। এ ছাড়া আক্রান্ত ইঁদুরের কামড় বা তাদের স্পর্শ করা খাবার থেকেও সংক্রমণ হতে পারে। সাধারণত কোনো সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত ইঁদুরের সংস্পর্শে না এলে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম।
এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত দুটি ধরনের রোগ দেখা যায়। তার মধ্যে হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (এইচপিএস) সবচেয়ে মারাত্মক। প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ সাধারণ ফ্লু বা সর্দি-জ্বরের মতো। তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি। কিন্তু সতর্কবার্তা সেখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তির ফুসফুসে পানি জমতে শুরু করে। শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে অঙ্গহানি বা মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
সাধারণ ধারণা, হান্টাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তবে ব্যতিক্রম আছে। দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া একটি বিশেষ স্ট্রেইন ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’- বিরল ক্ষেত্রে সরাসরি মানুষের সংস্পর্শে ছড়াতে পারে। সম্প্রতি আটলান্টিকের প্রমোদতরীতে যে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, তা এই অ্যান্ডিস স্ট্রেইনই। তাই উদ্বেগটা স্বাভাবিকভাবেই বেশি।
পরিসংখ্যান বলছে, হান্টাভাইরাসের মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ সংক্রমিত প্রতি তিনজনের মধ্যে অন্তত একজন মারা যেতে পারেন। করোনার প্রাথমিক মৃত্যুর হার (প্রায় ২-৩ শতাংশ) বা ওমিক্রনের সময়কার মৃত্যুর হারের চেয়ে এটি অনেক বেশি। অর্থাৎ ভাইরাসটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ঘাতক।
কিন্তু স্বস্তির বিষয় হলো, হান্টাভাইরাস করোনার মতো সহজে ছড়ায় না। এটি সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে সরাসরি ছড়িয়ে যায় না। তাই কোনো জনসমাগমস্থল থেকে হঠাৎ মহামারি আকার ধারণ করার আশঙ্কা কম। মধ্যযুগের ‘ব্ল্যাক ডেথ’-এর স্মৃতি মনে আনলেও ভাইরাসটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে আক্রান্ত করতে পারেনি কোনও দেশে।
হান্টাভাইরাসের এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। তাই প্রতিরোধের একমাত্র পথ সচেতনতা। প্রতিরোধের জন্য বাড়ি বা কর্মস্থলে ইঁদুরের বংশবিস্তার রোধ করতে হবে। খাবার ঢেকে রাখতে হবে। ইঁদুরের বিষ্ঠা পরিষ্কারের সময় অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং বন্য প্রাণীর সংস্পর্শ এড়ানো জরুরি।
ডব্লিউএইচও ইতিমধ্যে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবু ‘নতুন কোভিড’ আতঙ্ক না ছড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ভাইরাসটির প্রতি সতর্ক থাকা জরুরি, তবে আতঙ্ক নয়।

আপনার মতামত লিখুন