পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তার প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার সাথে সাথেই কলকাতা পুলিশের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আনফলো’ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। ফলে তিনি বর্তমানে বিধানসভার সদস্য নন এবং আইনত বিরোধী দলনেত্রীর পদে বসারও সুযোগ নেই তার। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই কলকাতা পুলিশের অনুসারী তালিকায় এখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলকেও তালিকায় রাখা হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর গত ৪ মে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে থাকা দীর্ঘদিনের ভারী ব্যারিকেডগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তিনিকেতন সংলগ্ন বাড়ির নিরাপত্তাও আগের তুলনায় কিছুটা কমানো হয়েছে। তবে এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, "সাংসদ ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রটোকল অনুযায়ী তাঁদের যে নিরাপত্তা প্রাপ্য, তা অবশ্যই বজায় রাখা হবে।"
প্রশাসনের এই ত্বরিত পরিবর্তন ঘিরে জনমনে নতুন করে প্রশ্নের উদয় হয়েছে। অনেকে একে নিছক প্রশাসনিক প্রোটোকল হিসেবে দেখলেও, একাংশ মনে করছেন ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের অবস্থানও নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত এই পরিবর্তনগুলো কতটা পেশাদার প্রোটোকল মেনে করা হয়েছে আর কতটা রাজনৈতিক প্রভাবে ঘটেছে, তা নিয়েই এখন চলছে বিচার-বিশ্লেষণ।

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবার প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তার প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার সাথে সাথেই কলকাতা পুলিশের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আনফলো’ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে সরিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। ফলে তিনি বর্তমানে বিধানসভার সদস্য নন এবং আইনত বিরোধী দলনেত্রীর পদে বসারও সুযোগ নেই তার। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই কলকাতা পুলিশের অনুসারী তালিকায় এখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলকেও তালিকায় রাখা হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর গত ৪ মে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে থাকা দীর্ঘদিনের ভারী ব্যারিকেডগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শান্তিনিকেতন সংলগ্ন বাড়ির নিরাপত্তাও আগের তুলনায় কিছুটা কমানো হয়েছে। তবে এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, "সাংসদ ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রটোকল অনুযায়ী তাঁদের যে নিরাপত্তা প্রাপ্য, তা অবশ্যই বজায় রাখা হবে।"
প্রশাসনের এই ত্বরিত পরিবর্তন ঘিরে জনমনে নতুন করে প্রশ্নের উদয় হয়েছে। অনেকে একে নিছক প্রশাসনিক প্রোটোকল হিসেবে দেখলেও, একাংশ মনে করছেন ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের অবস্থানও নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত এই পরিবর্তনগুলো কতটা পেশাদার প্রোটোকল মেনে করা হয়েছে আর কতটা রাজনৈতিক প্রভাবে ঘটেছে, তা নিয়েই এখন চলছে বিচার-বিশ্লেষণ।

আপনার মতামত লিখুন