ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব। গত তিন দিনে হলটির শতাধিক শিক্ষার্থী ডায়রিয়া ও বমিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে
হলের ভেতরেই জরুরি মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের
অভিযোগ, হলের সরবরাহ পানি ও ক্যান্টিনের অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকেই এই গণ-অসুস্থতার
সূচনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের
শহীদ মোহাম্মদ ড. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা তানভীর আলী
জানান, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী মেডিকেল সেন্টারে এসে
চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি বলেন,
“আমাদের দুজন চিকিৎসক সেখানে কাজ করছেন। গতকালসহ হিসাব করলে শতাধিক শিক্ষার্থী
অসুস্থ হয়েছেন। বমি ও ডায়রিয়াজনিত সমস্যাগুলো সাধারণত পানি ও খাবারের কারণে হয়ে
থাকে।”
ভুক্তভোগী
শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েক দিন আগে হলের পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার পর থেকেই
সমস্যার শুরু। শিক্ষার্থী জুয়েনা আলম মুন বলেন, “পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার পর
পানি থেকে ব্লিচিংয়ের তীব্র গন্ধ আসে। মুখ ধুতে গেলে বা কুলি করতে গেলে ব্লিচিংয়ের
গন্ধে বমি আসে। গোসলের পানিতেও একই সমস্যা। ওয়াশরুম পরিষ্কার করতে এসে ব্লিচিং
ছড়িয়ে দিয়ে চলে যায়, সেটা আর পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে রেখে যায় না। ব্লিচিং
দেয় জীবাণুমুক্ত করার জন্য, কিন্তু ব্লিচিং ভালোভাবে ক্লিন না করলে আমাদের পেটে
গিয়ে আরও ঝামেলা বাড়িয়ে দেয়।”
আরেক
শিক্ষার্থী সাজরিন আমিন অভিযোগ করে বলেন, “আমি কাল অসুস্থ হয়েছি। তবে আরও ৪ থেকে ৫
দিন আগে থেকেই সমস্যা শুরু হয়েছিল, আর গত দুই দিনে সেটা বেড়েছে। ক্যান্টিনের খাবার
ও পানি দুটোই দায়ী। ক্যান্টিনের রান্নার পরিবেশ নোংরা। এগুলো নিয়ে সবসময় বলা হয়,
কিন্তু হল প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। যারা ক্যান্টিনে খায় না, তাদেরও অনেকে
অসুস্থ। তার মানে পানি থেকেই এমন হয়েছে; আমারও পানি থেকেই হয়েছে। এখন সবাই পানি
কিনে খাচ্ছে।”
পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন হলের প্রাধ্যক্ষ মাহবুবা
সুলতানা। তিনি বলেন, “আমরা সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। পানির চৌবাচ্চাগুলো
ইতোমধ্যে পেশাদার লোকজনকে দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। এখন অসুস্থ ছাত্রীর সংখ্যা
কমছে। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।” বর্তমানে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের
মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিরাপদ পানি সংগ্রহ করছেন।

রোববার, ১০ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব। গত তিন দিনে হলটির শতাধিক শিক্ষার্থী ডায়রিয়া ও বমিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে
হলের ভেতরেই জরুরি মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের
অভিযোগ, হলের সরবরাহ পানি ও ক্যান্টিনের অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকেই এই গণ-অসুস্থতার
সূচনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের
শহীদ মোহাম্মদ ড. মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা তানভীর আলী
জানান, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী মেডিকেল সেন্টারে এসে
চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি বলেন,
“আমাদের দুজন চিকিৎসক সেখানে কাজ করছেন। গতকালসহ হিসাব করলে শতাধিক শিক্ষার্থী
অসুস্থ হয়েছেন। বমি ও ডায়রিয়াজনিত সমস্যাগুলো সাধারণত পানি ও খাবারের কারণে হয়ে
থাকে।”
ভুক্তভোগী
শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েক দিন আগে হলের পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার পর থেকেই
সমস্যার শুরু। শিক্ষার্থী জুয়েনা আলম মুন বলেন, “পানির ট্যাংক পরিষ্কার করার পর
পানি থেকে ব্লিচিংয়ের তীব্র গন্ধ আসে। মুখ ধুতে গেলে বা কুলি করতে গেলে ব্লিচিংয়ের
গন্ধে বমি আসে। গোসলের পানিতেও একই সমস্যা। ওয়াশরুম পরিষ্কার করতে এসে ব্লিচিং
ছড়িয়ে দিয়ে চলে যায়, সেটা আর পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে রেখে যায় না। ব্লিচিং
দেয় জীবাণুমুক্ত করার জন্য, কিন্তু ব্লিচিং ভালোভাবে ক্লিন না করলে আমাদের পেটে
গিয়ে আরও ঝামেলা বাড়িয়ে দেয়।”
আরেক
শিক্ষার্থী সাজরিন আমিন অভিযোগ করে বলেন, “আমি কাল অসুস্থ হয়েছি। তবে আরও ৪ থেকে ৫
দিন আগে থেকেই সমস্যা শুরু হয়েছিল, আর গত দুই দিনে সেটা বেড়েছে। ক্যান্টিনের খাবার
ও পানি দুটোই দায়ী। ক্যান্টিনের রান্নার পরিবেশ নোংরা। এগুলো নিয়ে সবসময় বলা হয়,
কিন্তু হল প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। যারা ক্যান্টিনে খায় না, তাদেরও অনেকে
অসুস্থ। তার মানে পানি থেকেই এমন হয়েছে; আমারও পানি থেকেই হয়েছে। এখন সবাই পানি
কিনে খাচ্ছে।”
পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন হলের প্রাধ্যক্ষ মাহবুবা
সুলতানা। তিনি বলেন, “আমরা সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। পানির চৌবাচ্চাগুলো
ইতোমধ্যে পেশাদার লোকজনকে দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। এখন অসুস্থ ছাত্রীর সংখ্যা
কমছে। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।” বর্তমানে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের
মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিরাপদ পানি সংগ্রহ করছেন।

আপনার মতামত লিখুন