সংবাদ

মিমোর মৃত্যুর বিচার দাবি

জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ঢা‌বি‌তে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা


প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রতিনিধি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ঢা‌বি‌তে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর অকাল মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে ক্যাম্পাস।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একইসাথে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত বিভাগটির সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শোকাবহ এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন বিভাগের শিক্ষকরাও।

​মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে নিজের উদ্বেগ তুলে ধরেন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিয়া আক্তার। তিনি বলেন, "বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও মানসিকভাবে নিপীড়ন করার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, মরহুমা মিমোর অকাল মৃত্যু তারই এক মর্মান্তিক পরিণতি।"

এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান তিনি।

​শিক্ষার্থীদের এই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা। তিনি পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "শিক্ষার্থীদের দাবি আমাদেরও দাবি। এই ঘটনায় বিভাগ থেকে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, আমরা তা নিয়েছি। বিষয়টি ভিসি ও প্রো-ভিসিকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে ইতিমধ্যে বিভাগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সকল দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি।"

​আন্দোলনের মুখে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বিস্তারিত দাবিদাওয়া তুলে ধরেন মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী রাফিউল রকি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী এবং উম্মে হানী’র বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ না করা পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।

শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছেন যে, নৈতিক স্খলন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে সুদীপ চক্রবর্তীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করতে হবে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দ্রুত অপসারণ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর যেকোনো ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধের দাবি জানান তারা।

​শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন যে, মিমোর পরিবারের আইনি লড়াইয়ের যাবতীয় খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে এবং মামলা প্রত্যাহারে কোনো প্রকার চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। তদন্তের মাধ্যমে উম্মে হানীসহ সকল দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি একাডেমিক কাজের বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ বন্ধে নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিক্ষক মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আনার দাবি জানানো হয়। চূড়ান্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিদেশ গমনে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) বন্ধ রাখার জন্যও তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ঢা‌বি‌তে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর অকাল মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে ক্যাম্পাস।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একইসাথে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত বিভাগটির সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শোকাবহ এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন বিভাগের শিক্ষকরাও।

​মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে নিজের উদ্বেগ তুলে ধরেন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিয়া আক্তার। তিনি বলেন, "বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও মানসিকভাবে নিপীড়ন করার যে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, মরহুমা মিমোর অকাল মৃত্যু তারই এক মর্মান্তিক পরিণতি।"

এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানান তিনি।

​শিক্ষার্থীদের এই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা। তিনি পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "শিক্ষার্থীদের দাবি আমাদেরও দাবি। এই ঘটনায় বিভাগ থেকে যত ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, আমরা তা নিয়েছি। বিষয়টি ভিসি ও প্রো-ভিসিকে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ড. সুদীপ চক্রবর্তীকে ইতিমধ্যে বিভাগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সকল দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছি।"

​আন্দোলনের মুখে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বিস্তারিত দাবিদাওয়া তুলে ধরেন মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী রাফিউল রকি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অভিযুক্ত শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী এবং উম্মে হানী’র বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ না করা পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।

শিক্ষার্থীরা দাবি তুলেছেন যে, নৈতিক স্খলন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে সুদীপ চক্রবর্তীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করতে হবে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দ্রুত অপসারণ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর যেকোনো ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধের দাবি জানান তারা।

​শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন যে, মিমোর পরিবারের আইনি লড়াইয়ের যাবতীয় খরচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে এবং মামলা প্রত্যাহারে কোনো প্রকার চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। তদন্তের মাধ্যমে উম্মে হানীসহ সকল দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি একাডেমিক কাজের বাইরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ বন্ধে নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিক্ষক মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আনার দাবি জানানো হয়। চূড়ান্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিদেশ গমনে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) বন্ধ রাখার জন্যও তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত