মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গৌরগঞ্জ-ডহরী-তালতলা খাল দিয়ে বালু বহনকারী বাল্কহেড চলাচল পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সকালে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় ইউএনও ফারজানা ববি মিতু বলেন, ডহরী-তালতলা খালে বাল্কহেড চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি চক্র চাঁদার বিনিময়ে এসব নৌযান চলাচলে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বাল্কহেড চলাচলের কারণে খালের দুই তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
ইউএনও আরও জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় এখন থেকে পুলিশ, নৌপুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও এলাকাবাসী যৌথভাবে অবৈধ বাল্কহেড চলাচল বন্ধে কাজ করবে।
বাল্কহেড মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বোরহান মিয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, একটি চক্র প্রতিটি বাল্কহেড থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে।
উল্লেখ্য, এই খালে বাল্কহেড চলাচলের কারণে গত কয়েক বছরে ভয়াবহ সব দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট পিকনিকের ট্রলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় ১০ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া হাসাইল এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনায় মারা যান ৪ জন। সব মিলিয়ে এই খালে বাল্কহেড দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর আগে কয়েক দফা চলাচল বন্ধ করা হলেও প্রভাবশালী চক্রের প্রভাবে তা আবারও শুরু হয়। নিয়ম না মেনে বেপরোয়া গতিতে নৌযান চালানোর ফলে খালটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান, মাওয়া নৌপুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন, বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বোরহান মিয়া, শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সভায় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার, ১১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গৌরগঞ্জ-ডহরী-তালতলা খাল দিয়ে বালু বহনকারী বাল্কহেড চলাচল পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) সকালে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সভায় ইউএনও ফারজানা ববি মিতু বলেন, ডহরী-তালতলা খালে বাল্কহেড চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি চক্র চাঁদার বিনিময়ে এসব নৌযান চলাচলে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বাল্কহেড চলাচলের কারণে খালের দুই তীরে ভাঙন শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
ইউএনও আরও জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় এখন থেকে পুলিশ, নৌপুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও এলাকাবাসী যৌথভাবে অবৈধ বাল্কহেড চলাচল বন্ধে কাজ করবে।
বাল্কহেড মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বোরহান মিয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, একটি চক্র প্রতিটি বাল্কহেড থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে।
উল্লেখ্য, এই খালে বাল্কহেড চলাচলের কারণে গত কয়েক বছরে ভয়াবহ সব দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট পিকনিকের ট্রলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় ১০ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া হাসাইল এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনায় মারা যান ৪ জন। সব মিলিয়ে এই খালে বাল্কহেড দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর আগে কয়েক দফা চলাচল বন্ধ করা হলেও প্রভাবশালী চক্রের প্রভাবে তা আবারও শুরু হয়। নিয়ম না মেনে বেপরোয়া গতিতে নৌযান চালানোর ফলে খালটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান, মাওয়া নৌপুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন, বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বোরহান মিয়া, শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সভায় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন