চুয়াডাঙ্গায় আগামী ১৩ মে (৩০ বৈশাখ) থেকে চলতি মৌসুমের আম সংগ্রহ শুরু হবে। রোববার (১০ মে) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় আম সংগ্রহের এই সময়সূচি (ম্যাংগো ক্যালেন্ডার) নির্ধারণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জানানো হয়, এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ৮৪২ মেট্রিক টন। বাজারে বিষমুক্ত ও পরিপক্ব আম নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতভেদে সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
আম সংগ্রহের সময়সূচি :
১৩ মে (৩০ বৈশাখ) : আঁটি, গুটি, বোম্বাই, ক্ষীরসাপাত ও গোপালভোগ।
২০ মে (৬ জ্যৈষ্ঠ) : হিমসাগর।
২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ) : ল্যাংড়া।
৫ জুন (২২ জ্যৈষ্ঠ) : আম্রপালি (বারি আম-৩)।
১৫ জুন (১ আষাঢ়) : ফজলি।
২০ জুন : হাঁড়িভাঙা।
২২ জুন (৬ আষাঢ়) : ব্যানানা ম্যাঙ্গো।
৩০ জুন (১৬ আষাঢ়) : আশ্বিনা (বারি আম-৪)।
৫ জুলাই (২১ আষাঢ়) : কাটিমন ও গৌড়মতি (বারি আম-১২)।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার সভায় সাফ জানিয়ে দেন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কোনোভাবেই অপরিপক্ব আম পাড়া যাবে না। এছাড়া আম পাকানো বা সংরক্ষণের জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। যদি কেউ অবৈধ প্রক্রিয়ায় আম পাকায় বা মজুদ করে, তবে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’ এবং ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘নির্ধারিত সূচির বাইরে আম সংগ্রহ করা যাবে না। কেউ আইন অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হবে।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) মিঠু চন্দ্র অধিকারী, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার এবং ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান।
আপনার মতামত লিখুন