সংবাদ

রংপুরে অভিনব উদ্যোগ

গরুর জন্য ‘আবাসিক হোটেল’


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৬:২০ পিএম

গরুর জন্য ‘আবাসিক হোটেল’
রংপুরের ধর্মদাস এলাকায় গরুর আবাসিক হোটেলে রাখা হয়েছে কয়েকশ গরু। ছবি : সংবাদ

বিভাগীয় নগরী রংপুরের প্রবেশদ্বার মডার্ন মোড় এলাকার ধর্মদাসে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ‘গরুর আবাসিক হোটেল’। এই অভিনব ব্যবস্থা ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এখানে প্রতিদিন মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ায় একটি গরু রাখা যায়। রংপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকার ও খামারিরা তাদের গরু নিয়ে এখানে থাকছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর অঞ্চলের দেশি গরুর মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও বরিশাল অঞ্চলে। এসব এলাকার পাইকারেরা গরু কিনতে রংপুরের বিভিন্ন হাটে আসেন। আগে একটি ট্রাক পূর্ণ করার মতো গরু (৩০ থেকে ৪০টি) সংগ্রহ করতে তাদের ৪ থেকে ৫ দিন বা এক সপ্তাহ সময় লেগে যেত। এই সময়টাতে গরু রাখা এবং নিরাপত্তা নিয়ে তাদের চরম দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। সেই সংকট মেটাতেই এই আবাসিক হোটেল গড়ে তোলা হয়েছে।

হোটেলের মালিক আলমগীর হোসেন জানান, তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে মাসিক ভিত্তিতে জায়গাটি ভাড়া নিয়েছেন। বর্তমানে এখানে ৪ থেকে ৫০০ গরু রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। তার দায়িত্ব শুধু হোটেলটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গরুর খাবারের ব্যবস্থা মালিক বা পাইকারদের নিজেদের করতে হয়। তবে হোটেলের ভেতরেই খড়, ভুসি ও দানাদার খাদ্যের দোকান রয়েছে। পাইকারেরা চাইলে নিজেরা খাওয়াতে পারেন অথবা হোটেলের কর্মচারীদের দিয়েও কাজটি করিয়ে নিতে পারেন।

চট্টগ্রাম থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী মমিন সরকার বলেন, ‘আগে বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে সেগুলো রাখা এবং খাওয়ানো নিয়ে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তাম। অনেক সময় গরু চুরি বা ছিনতাই হওয়ার ভয় থাকত। এখন ৫০ টাকায় নিশ্চিন্তে গরু রাখতে পারছি। এটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।’

সুদূর টেকনাফ থেকে আসা আলতাফ হোসেন জানান, তিনি বিভিন্ন হাট থেকে কয়েকটি করে গরু কিনে এখানে রাখছেন। ২৫-২৮টি গরু কেনা শেষ হলে তিনি একবারে ট্রাকে করে নিয়ে যাবেন। একই কথা জানালেন শরীয়তপুর থেকে আসা ব্যাপারী আবদুল মতিন।

তিনি বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের চেয়ে দেশি গরুর মাংসের স্বাদ বেশি হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে এর চাহিদা প্রচুর। এখানে নিরাপদ আবাসন পাওয়ায় তাদের ব্যবসায় সুবিধা হয়েছে।

শুধু পাইকারেরা নন, স্থানীয় গৃহস্থেরাও এই হোটেলের সুবিধা নিচ্ছেন। পীরগাছার কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, ‘হাটে গরুর কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় আজ বাড়ি ফিরিয়ে না নিয়ে এই আবাসিক হোটেলে রেখে দিয়েছি। আগামী হাটে আবার বিক্রির চেষ্টা করব।’

এই হোটেলকে কেন্দ্র করে অনেকের কর্মসংস্থানও হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এখানে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। এ ছাড়া গো-খাদ্য বিক্রির মাধ্যমে আরও অন্তত ২০ জন মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। হোটেলের মালিক আলমগীর হোসেন জানান, ভবিষ্যতে এখানে অন্তত ১ হাজার গরু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. আবদুল হাই সরকার বলেন, ‘গরুর আবাসিক হোটেল নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারদের আবাসন ও নিরাপত্তার সমস্যার সমাধান হচ্ছে এবং অনেকের কর্মসংস্থানও হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১০ মে ২০২৬


গরুর জন্য ‘আবাসিক হোটেল’

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

বিভাগীয় নগরী রংপুরের প্রবেশদ্বার মডার্ন মোড় এলাকার ধর্মদাসে ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ‘গরুর আবাসিক হোটেল’। এই অভিনব ব্যবস্থা ইতিমধ্যে উত্তরবঙ্গসহ সারাদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এখানে প্রতিদিন মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ায় একটি গরু রাখা যায়। রংপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকার ও খামারিরা তাদের গরু নিয়ে এখানে থাকছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর অঞ্চলের দেশি গরুর মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও বরিশাল অঞ্চলে। এসব এলাকার পাইকারেরা গরু কিনতে রংপুরের বিভিন্ন হাটে আসেন। আগে একটি ট্রাক পূর্ণ করার মতো গরু (৩০ থেকে ৪০টি) সংগ্রহ করতে তাদের ৪ থেকে ৫ দিন বা এক সপ্তাহ সময় লেগে যেত। এই সময়টাতে গরু রাখা এবং নিরাপত্তা নিয়ে তাদের চরম দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। সেই সংকট মেটাতেই এই আবাসিক হোটেল গড়ে তোলা হয়েছে।

হোটেলের মালিক আলমগীর হোসেন জানান, তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে মাসিক ভিত্তিতে জায়গাটি ভাড়া নিয়েছেন। বর্তমানে এখানে ৪ থেকে ৫০০ গরু রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। তার দায়িত্ব শুধু হোটেলটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গরুর খাবারের ব্যবস্থা মালিক বা পাইকারদের নিজেদের করতে হয়। তবে হোটেলের ভেতরেই খড়, ভুসি ও দানাদার খাদ্যের দোকান রয়েছে। পাইকারেরা চাইলে নিজেরা খাওয়াতে পারেন অথবা হোটেলের কর্মচারীদের দিয়েও কাজটি করিয়ে নিতে পারেন।

চট্টগ্রাম থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী মমিন সরকার বলেন, ‘আগে বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে সেগুলো রাখা এবং খাওয়ানো নিয়ে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তাম। অনেক সময় গরু চুরি বা ছিনতাই হওয়ার ভয় থাকত। এখন ৫০ টাকায় নিশ্চিন্তে গরু রাখতে পারছি। এটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।’

সুদূর টেকনাফ থেকে আসা আলতাফ হোসেন জানান, তিনি বিভিন্ন হাট থেকে কয়েকটি করে গরু কিনে এখানে রাখছেন। ২৫-২৮টি গরু কেনা শেষ হলে তিনি একবারে ট্রাকে করে নিয়ে যাবেন। একই কথা জানালেন শরীয়তপুর থেকে আসা ব্যাপারী আবদুল মতিন।

তিনি বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের চেয়ে দেশি গরুর মাংসের স্বাদ বেশি হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে এর চাহিদা প্রচুর। এখানে নিরাপদ আবাসন পাওয়ায় তাদের ব্যবসায় সুবিধা হয়েছে।

শুধু পাইকারেরা নন, স্থানীয় গৃহস্থেরাও এই হোটেলের সুবিধা নিচ্ছেন। পীরগাছার কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, ‘হাটে গরুর কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় আজ বাড়ি ফিরিয়ে না নিয়ে এই আবাসিক হোটেলে রেখে দিয়েছি। আগামী হাটে আবার বিক্রির চেষ্টা করব।’

এই হোটেলকে কেন্দ্র করে অনেকের কর্মসংস্থানও হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এখানে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। এ ছাড়া গো-খাদ্য বিক্রির মাধ্যমে আরও অন্তত ২০ জন মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। হোটেলের মালিক আলমগীর হোসেন জানান, ভবিষ্যতে এখানে অন্তত ১ হাজার গরু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. আবদুল হাই সরকার বলেন, ‘গরুর আবাসিক হোটেল নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারদের আবাসন ও নিরাপত্তার সমস্যার সমাধান হচ্ছে এবং অনেকের কর্মসংস্থানও হয়েছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত