সংবাদ

অবৈধ অভিবাসনে জড়িতদের কঠোর হুঁশিয়ারি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

অবৈধ অভিবাসনে জড়িতদের কঠোর হুঁশিয়ারি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা রুখতে মানবপাচারকারী ও অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।

সোমবার (১১ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি: বাংলাদেশ পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া-ইতালি রুটে বাংলাদেশি অভিবাসীদের মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার অবৈধ অভিবাসন রোধে অত্যন্ত কঠোর। তিনি বলেন:

"মানবপাচার এবং অবৈধ অভিবাসনের মাধ্যমে যারা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, সেই অসাধু চক্রকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।"

বৈঠকে উপস্থিত ইতালির রাষ্ট্রদূত একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) আশ্রয় ও অভিবাসন বিষয়ে নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে। এই নতুন আইনের ফলে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশ না যাওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

বৈঠকে নিরাপদ অভিবাসনের পথ সুগম করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়: বিদেশ গমনেচ্ছুদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ। গন্তব্য দেশের নিয়োগদাতাদের চাহিদার সাথে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ প্রদান। বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ভিশনের কথা উল্লেখ করে প্রবাসীদের দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ এবং তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত, লিবিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশন প্রধান উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই নিরাপদ ও অধিকারভিত্তিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


অবৈধ অভিবাসনে জড়িতদের কঠোর হুঁশিয়ারি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

অবৈধ পথে বিদেশ যাত্রা রুখতে মানবপাচারকারী ও অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।

সোমবার (১১ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি: বাংলাদেশ পরিস্থিতি’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া-ইতালি রুটে বাংলাদেশি অভিবাসীদের মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার অবৈধ অভিবাসন রোধে অত্যন্ত কঠোর। তিনি বলেন:

"মানবপাচার এবং অবৈধ অভিবাসনের মাধ্যমে যারা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, সেই অসাধু চক্রকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।"

বৈঠকে উপস্থিত ইতালির রাষ্ট্রদূত একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) আশ্রয় ও অভিবাসন বিষয়ে নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে। এই নতুন আইনের ফলে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশ না যাওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

বৈঠকে নিরাপদ অভিবাসনের পথ সুগম করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়: বিদেশ গমনেচ্ছুদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ। গন্তব্য দেশের নিয়োগদাতাদের চাহিদার সাথে সমন্বয় করে প্রশিক্ষণ প্রদান। বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ভিশনের কথা উল্লেখ করে প্রবাসীদের দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ এবং তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত, লিবিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মিশন প্রধান উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই নিরাপদ ও অধিকারভিত্তিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

 

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত