সংবাদ

রক্তদহ বিলে বৃষ্টির পানিতে ভাসল পাকা ধান


প্রতিনিধি, আদমদীঘি (বগুড়া)
প্রতিনিধি, আদমদীঘি (বগুড়া)
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

রক্তদহ বিলে বৃষ্টির পানিতে ভাসল পাকা ধান
বগুড়ার আদমদীঘির রক্তদহ বিলে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধানক্ষেত পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য আব্দুল মোহিত তালুকদার। ছবি : সংবাদ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রক্তদহ বিলে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৪০০ বিঘা জমির পাকা বোরো ধান। উঠতি ফসল হারিয়ে বিল এলাকার কৃষকদের মধ্যে হাহাকার শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ধান ডুবে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে পানিতে নেমে আধপাকা ও নষ্ট ধান ঘরে তুলছেন অনেক কৃষক।

দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকায় কৃষকের ঘরে ওঠা সামান্য ধানও খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৃষকদের দাবি, ধানে ইতিমধ্যে চারা গজিয়ে গেছে, যা এখন কেবল হাঁস-মুরগির খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

সোমবার (১১ মে) বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত বিল এলাকা পরিদর্শনে যান বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মোহিত তালুকদার। এ সময় তার সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতি বছর রক্তদহ বিলে বিপুল পরিমাণ জমিতে জিরাশাইলসহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়। এবার ধান পাকার ঠিক আগমুহূর্তে অসময়ের বৃষ্টিতে বিলে হু হু করে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে নিমেষেই তলিয়ে যায় কৃষকের স্বপ্ন। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, বিলের ৩৪০ একর জমিতে এবার ধান চাষ হয়েছিল।

বিলপাড়ের সান্দিড়া গ্রামের কৃষক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমি ৬০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। ঋণের টাকা নিয়ে আবাদ করেছি, এখন সব ধান পানির নিচে। আমি তো পথের ফকির হয়ে গেলাম। সরকারি সহায়তা না পেলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।’

বিল পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য আব্দুল মোহিত তালুকদার বলেন, ‘বিলের অবস্থা দেখে আমি স্তব্ধ। কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি এখন সবচেয়ে জরুরি বিল খনন ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা। এই বিলে ২২টি শাখা খাল দিয়ে পানি ঢুকলেও বের হওয়ার পথ মাত্র একটি। এ কারণেই বারবার ফসল ডুবে যায়।’

সংসদ সদস্য আরও জানান, বিলের সমস্যা সমাধানে তিনি পাশের নওগাঁ-৬ (রানীনগর-আত্রাই) আসনের সংসদ সদস্য শেখ রেজাউল ইসলাম রেজুর সঙ্গে কথা বলেছেন। বিলটি দুই জেলার সীমান্তে হওয়ায় যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। দ্রুত তাদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


রক্তদহ বিলে বৃষ্টির পানিতে ভাসল পাকা ধান

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রক্তদহ বিলে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৪০০ বিঘা জমির পাকা বোরো ধান। উঠতি ফসল হারিয়ে বিল এলাকার কৃষকদের মধ্যে হাহাকার শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ধান ডুবে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে পানিতে নেমে আধপাকা ও নষ্ট ধান ঘরে তুলছেন অনেক কৃষক।

দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকায় কৃষকের ঘরে ওঠা সামান্য ধানও খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৃষকদের দাবি, ধানে ইতিমধ্যে চারা গজিয়ে গেছে, যা এখন কেবল হাঁস-মুরগির খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

সোমবার (১১ মে) বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত বিল এলাকা পরিদর্শনে যান বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মোহিত তালুকদার। এ সময় তার সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, প্রতি বছর রক্তদহ বিলে বিপুল পরিমাণ জমিতে জিরাশাইলসহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়। এবার ধান পাকার ঠিক আগমুহূর্তে অসময়ের বৃষ্টিতে বিলে হু হু করে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে নিমেষেই তলিয়ে যায় কৃষকের স্বপ্ন। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, বিলের ৩৪০ একর জমিতে এবার ধান চাষ হয়েছিল।

বিলপাড়ের সান্দিড়া গ্রামের কৃষক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমি ৬০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। ঋণের টাকা নিয়ে আবাদ করেছি, এখন সব ধান পানির নিচে। আমি তো পথের ফকির হয়ে গেলাম। সরকারি সহায়তা না পেলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।’

বিল পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য আব্দুল মোহিত তালুকদার বলেন, ‘বিলের অবস্থা দেখে আমি স্তব্ধ। কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি এখন সবচেয়ে জরুরি বিল খনন ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা। এই বিলে ২২টি শাখা খাল দিয়ে পানি ঢুকলেও বের হওয়ার পথ মাত্র একটি। এ কারণেই বারবার ফসল ডুবে যায়।’

সংসদ সদস্য আরও জানান, বিলের সমস্যা সমাধানে তিনি পাশের নওগাঁ-৬ (রানীনগর-আত্রাই) আসনের সংসদ সদস্য শেখ রেজাউল ইসলাম রেজুর সঙ্গে কথা বলেছেন। বিলটি দুই জেলার সীমান্তে হওয়ায় যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। দ্রুত তাদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত