সংবাদ

'তাজুল অভিযোগ আমলে নেননি, ফাইলও মিলছে না'


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

'তাজুল অভিযোগ আমলে নেননি, ফাইলও মিলছে না'

  • ১৭৭৬ ক্রসফায়ারের বিচারে ট্রাইব্যুনালে পুনরায় বিএনপির নথি জমা

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পর্যন্ত বিএনপির ১ হাজার ৭৭৬ জন নেতাকর্মীকে 'ক্রসফায়ারের' নামে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এসব হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) এর আগে অভিযোগ দায়ের করা হলেও তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর কোনো ব্যবস্থা নেননি এবং সেই ফাইলেরও কোনো খোঁজ মিলছে না বলে দাবি করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান।

ফলে বিচারহীনতার শঙ্কা থেকে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর বরাবর পুনরায় প্রমাণাদিসহ অভিযোগ জমা দিয়েছে বিএনপি।

সোমবার (১১মে) বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং 'মামলা গুম, খুন ও তথ্য সংরক্ষক সমন্বয়ক' মো. সালাহউদ্দিন খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।

চিঠিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

চিঠিতে দাবি করা হয়, "২০০৮ সাল থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ সাল পর্যন্ত 'অবৈধ ফ্যাসিবাদ' আওয়ামী লীগ সরকারে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগসহ তাদের অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসী বাহিনী এবং কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অপহরণপূর্বক গুম করে নির্যাতন করে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা, গুম, আয়নাঘরে আটক ও মিথ্যা গায়েবি মামলা প্রদান করে।"

বিএনপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচিত এই সময়ে শুধুমাত্র ক্রসফায়ারের নামেই দেশজুড়ে ২ হাজার ২৭৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৭৬ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

গত বছরের ৮ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের কাছে ২৪৩ পৃষ্ঠার তালিকা ও প্রমাণাদিসহ এই অভিযোগ প্রথমবার হস্তান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো অগ্রগতি না থাকায় নতুন করে আবার নথি জমা দেওয়া হলো।

কেন পুনরায় অভিযোগ দিতে হলো, এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিঠিতে স্বাক্ষরকারী বিএনপি নেতা মো. সালাহউদ্দিন খান সংবাদকে বলেন, "আগের প্রসিকিউটরের আমলে কোনো তদন্ত শুরু হয়নি। এমনকি আমাদের যারা অভিযোগকারী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, তাদের কাউকেই তদন্তকারী কর্মকর্তারা ডাকেননি। ওই সময়ে কোনো অ্যাকশন শুরু হয়েছিল বলে আমরা মনে করি না।"

ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর (তাজুল ইসলাম) বিষয়টি তদন্তকারী সংস্থার কাছে পাঠিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন এই নেতা।

তিনি জানান, বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা পুনরায় যোগাযোগ করেন। বর্তমান প্রসিকিউটরকে 'আন্তরিক' উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন খান বলেন, "বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, আগের দেওয়া কাগজগুলো কোথায় আছে বা কী অবস্থায় আছে তার খোঁজ তিনি পাচ্ছেন না। সম্ভবত ওটা ওইভাবেই রেখে দেওয়া হয়েছিল। তাই তার নির্দেশেই ক্রসফায়ারের তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হুবহু কপি করে আমরা নতুন করে পুনরায় জমা দিয়েছি।"

আগের ফাইলের পরিণতি জানতে খুব শিগগিরই তদন্তকারী সংস্থার কার্যালয়েও যাবেন বলে জানান সালাহউদ্দিন।

বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলকে "নিশ্চিহ্ন ও ধ্বংস করার লক্ষ্যেই" উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে বিএনপি মনে করে। ক্রসফায়ারে নিহতদের পরিবারগুলো এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছে জানিয়ে অবিলম্বে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে ট্রাইব্যুনালের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে দলটি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬


'তাজুল অভিযোগ আমলে নেননি, ফাইলও মিলছে না'

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

  • ১৭৭৬ ক্রসফায়ারের বিচারে ট্রাইব্যুনালে পুনরায় বিএনপির নথি জমা

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পর্যন্ত বিএনপির ১ হাজার ৭৭৬ জন নেতাকর্মীকে 'ক্রসফায়ারের' নামে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এসব হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) এর আগে অভিযোগ দায়ের করা হলেও তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর কোনো ব্যবস্থা নেননি এবং সেই ফাইলেরও কোনো খোঁজ মিলছে না বলে দাবি করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান।

ফলে বিচারহীনতার শঙ্কা থেকে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর বরাবর পুনরায় প্রমাণাদিসহ অভিযোগ জমা দিয়েছে বিএনপি।

সোমবার (১১মে) বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং 'মামলা গুম, খুন ও তথ্য সংরক্ষক সমন্বয়ক' মো. সালাহউদ্দিন খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।

চিঠিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

চিঠিতে দাবি করা হয়, "২০০৮ সাল থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ সাল পর্যন্ত 'অবৈধ ফ্যাসিবাদ' আওয়ামী লীগ সরকারে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগসহ তাদের অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসী বাহিনী এবং কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অপহরণপূর্বক গুম করে নির্যাতন করে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা, গুম, আয়নাঘরে আটক ও মিথ্যা গায়েবি মামলা প্রদান করে।"

বিএনপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচিত এই সময়ে শুধুমাত্র ক্রসফায়ারের নামেই দেশজুড়ে ২ হাজার ২৭৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৭৬ জনই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

গত বছরের ৮ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের কাছে ২৪৩ পৃষ্ঠার তালিকা ও প্রমাণাদিসহ এই অভিযোগ প্রথমবার হস্তান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো অগ্রগতি না থাকায় নতুন করে আবার নথি জমা দেওয়া হলো।

কেন পুনরায় অভিযোগ দিতে হলো, এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিঠিতে স্বাক্ষরকারী বিএনপি নেতা মো. সালাহউদ্দিন খান সংবাদকে বলেন, "আগের প্রসিকিউটরের আমলে কোনো তদন্ত শুরু হয়নি। এমনকি আমাদের যারা অভিযোগকারী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, তাদের কাউকেই তদন্তকারী কর্মকর্তারা ডাকেননি। ওই সময়ে কোনো অ্যাকশন শুরু হয়েছিল বলে আমরা মনে করি না।"

ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর (তাজুল ইসলাম) বিষয়টি তদন্তকারী সংস্থার কাছে পাঠিয়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন এই নেতা।

তিনি জানান, বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা পুনরায় যোগাযোগ করেন। বর্তমান প্রসিকিউটরকে 'আন্তরিক' উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন খান বলেন, "বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর বলেছেন, আগের দেওয়া কাগজগুলো কোথায় আছে বা কী অবস্থায় আছে তার খোঁজ তিনি পাচ্ছেন না। সম্ভবত ওটা ওইভাবেই রেখে দেওয়া হয়েছিল। তাই তার নির্দেশেই ক্রসফায়ারের তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হুবহু কপি করে আমরা নতুন করে পুনরায় জমা দিয়েছি।"

আগের ফাইলের পরিণতি জানতে খুব শিগগিরই তদন্তকারী সংস্থার কার্যালয়েও যাবেন বলে জানান সালাহউদ্দিন।

বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলকে "নিশ্চিহ্ন ও ধ্বংস করার লক্ষ্যেই" উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাল্পনিক ঘটনা সাজিয়ে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে বিএনপি মনে করে। ক্রসফায়ারে নিহতদের পরিবারগুলো এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছে জানিয়ে অবিলম্বে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে ট্রাইব্যুনালের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে দলটি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত