নতুন করে হামলা ও উত্তেজনা চললেও চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে ইসরাইল ও লেবানন। একই সঙ্গে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে আরও বিস্তৃত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই সমঝোতার
মধ্যেই লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। যদিও তেল আবিবের দাবি, এই হামলাটি
চলমান যুদ্ধবিরতির আওতার বাইরে ছিল।
বার্তা সংস্থা
এএফপি’র বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে
দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে ব্যাপক হামলা ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে
আসছে ইসরাইল। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান এই কূটনৈতিক আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে না
হিজবুল্লাহ।
হিজবুল্লাহকে
নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাওয়া লেবানন সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসরাইলি প্রতিনিধিরা
ওয়াশিংটনে দুই দিনব্যাপী এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে জানানো হয়, আগামী রোববার (১৭
মে) চলতি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি আরও বাড়ানো হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র
দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এই বিষয়ে বলেন, “স্থায়ী শান্তি ও আরও অগ্রগতি অর্জনের সুযোগ
করে দিতে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ নতুন করে আরও ৪৫ দিন বাড়ানো হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান,
একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী ২ ও ৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র
দপ্তরের উদ্যোগে নতুন দফায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, আগামী ২৯ মে দুই দেশের সামরিক
প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করবে পেন্টাগন।
এদিকে লেবাননের
প্রতিনিধিদল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সামরিক আলোচনা শুরু
হওয়ার সিদ্ধান্তে দেশটির সাধারণ জনগণ কিছুটা স্বস্তি ও নিরাপত্তা পাবে। তবে তাদের মূল
লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
হিজবুল্লাহর
প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা করে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বৈরুতে এক এনজিও’র
নৈশভোজে বলেন, “বিদেশি স্বার্থ বা উদ্দেশ্য পূরণে পরিচালিত এমন বেপরোয়া অভিযানের যথেষ্ট
ভুক্তভোগী হয়েছে লেবানন।” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি এমন একটি যুদ্ধ, যা আমরা চাইনি;
কিন্তু আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইসরাইল ইতিমধ্যে আমাদের ৬৮টি শহর ও গ্রাম
দখল করেছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের
এই সংকটে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইসরাইলকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে সামরিক হামলাও চালায়। তবে একই সঙ্গে
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের আগ্রাসন ও অগ্রগতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে
ওয়াশিংটন।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত
ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইতার, যিনি এই আলোচনায় দেশটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব
দিচ্ছেন, বৈঠক শেষে বলেন, “ইসরাইলের প্রধান অগ্রাধিকার হলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত
করা।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, “উত্থান-পতন থাকবে,
তবে সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি।”
হিজবুল্লাহর
প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যেকোনো শান্তি
চুক্তিতে যাওয়ার আগে লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
নতুন করে হামলা ও উত্তেজনা চললেও চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে ইসরাইল ও লেবানন। একই সঙ্গে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে আরও বিস্তৃত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই সমঝোতার
মধ্যেই লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। যদিও তেল আবিবের দাবি, এই হামলাটি
চলমান যুদ্ধবিরতির আওতার বাইরে ছিল।
বার্তা সংস্থা
এএফপি’র বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে
দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে ব্যাপক হামলা ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে
আসছে ইসরাইল। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান এই কূটনৈতিক আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছে না
হিজবুল্লাহ।
হিজবুল্লাহকে
নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাওয়া লেবানন সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইসরাইলি প্রতিনিধিরা
ওয়াশিংটনে দুই দিনব্যাপী এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে জানানো হয়, আগামী রোববার (১৭
মে) চলতি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেটি আরও বাড়ানো হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র
দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এই বিষয়ে বলেন, “স্থায়ী শান্তি ও আরও অগ্রগতি অর্জনের সুযোগ
করে দিতে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ নতুন করে আরও ৪৫ দিন বাড়ানো হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান,
একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে আগামী ২ ও ৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র
দপ্তরের উদ্যোগে নতুন দফায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, আগামী ২৯ মে দুই দেশের সামরিক
প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করবে পেন্টাগন।
এদিকে লেবাননের
প্রতিনিধিদল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সামরিক আলোচনা শুরু
হওয়ার সিদ্ধান্তে দেশটির সাধারণ জনগণ কিছুটা স্বস্তি ও নিরাপত্তা পাবে। তবে তাদের মূল
লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
হিজবুল্লাহর
প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা করে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বৈরুতে এক এনজিও’র
নৈশভোজে বলেন, “বিদেশি স্বার্থ বা উদ্দেশ্য পূরণে পরিচালিত এমন বেপরোয়া অভিযানের যথেষ্ট
ভুক্তভোগী হয়েছে লেবানন।” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি এমন একটি যুদ্ধ, যা আমরা চাইনি;
কিন্তু আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ইসরাইল ইতিমধ্যে আমাদের ৬৮টি শহর ও গ্রাম
দখল করেছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের
এই সংকটে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই ইসরাইলকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে সামরিক হামলাও চালায়। তবে একই সঙ্গে
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সেনাদের আগ্রাসন ও অগ্রগতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে
ওয়াশিংটন।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত
ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইতার, যিনি এই আলোচনায় দেশটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব
দিচ্ছেন, বৈঠক শেষে বলেন, “ইসরাইলের প্রধান অগ্রাধিকার হলো দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত
করা।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, “উত্থান-পতন থাকবে,
তবে সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি।”
হিজবুল্লাহর
প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যেকোনো শান্তি
চুক্তিতে যাওয়ার আগে লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন