সংবাদ

ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম

ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় থাকা হামের টিকাকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া এবং এর ফলে দেশজুড়ে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ তুলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূসসহ সাবেক ২৪ উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আরজি জানানো হয়েছে। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিট দায়েরের পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন রিটকারী আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম। সময় তিনি টিকা ব্যবস্থাপনায় সাবেক সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলাম, যেন . ইউনূসসহ যারা উপদেষ্টা ছিলেন, তারা দেশ ত্যাগ করতে না পারেন। উনারা একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির কথা বলে এসেছিলেন, যেটা আপনারা নেপালে দেখেছেন। কিন্তু উনারা এসে ১৯৭৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠিত যে টিকা ব্যবস্থা (হাম-মাম্পস), যা জাদুঘরে চলে গিয়েছিল, সেটিকে ওপেন টেন্ডারের (উন্মুক্ত দরপত্র) মাধ্যমে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।

বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের আপত্তির বিষয়টি উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, “ কারণে ইউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টর রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছিলেন, ‘ফর গড সেক, প্লিজ ডোন্ট ডু’ (ঈশ্বরের দোহাই, দয়া করে এটি করবেন না) তারপরও তারা এটি করেছে, যে কারণে আজকে আমাদের শত শত শিশু মারা যাচ্ছে এবং আপনাদের রিপোর্টের মাধ্যমে আমরা তা দেখছি। এখনও অনেক মা-বোনের নবজাতক শিশু অসুস্থ হওয়ার পর তাদের হাসপাতালে নেওয়ার মতো সক্ষমতা নেই। এই সংখ্যাগুলো আপনাদের রিপোর্টে আসে না।

টিকা ইস্যুর বাইরেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম আরও বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে হয়েছে। . ইউনূস শুধু গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ারই পরিবর্তন করেননি, বরংসম্পদনামে নগদ বা বিকাশের মতো একটি লেনদেন মাধ্যম খুলে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। আদম বেপারির লাইসেন্স থেকে শুরু করে সবই তিনি দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের জীবনের সাথে সম্পৃক্ত টিকা ব্যবস্থাকে তিনি শুধু প্রাইভেট খাতের জন্য উন্মুক্ত করেছিলেন।

আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “ইনকোয়ারি কমিশন অ্যাক্টের ধারা অনুযায়ী এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হতে হবে। আর এই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত . ইউনূস থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা অ্যাডভাইজার যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, জন্যই আমি পিটিশনার হিসেবে রিট দায়ের করেছি।সোমবার দুপুর ২টার সময় আদালতের ২০ নম্বর মেইন কোর্টে রিটের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।

এর আগে, গত এপ্রিল একই দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন এই আইনজীবী। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় বিলুপ্ত রোগ হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অগণিত শিশু সাধারণ নাগরিক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। হামের মতো টিকাকরণের ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে প্রাইভেট খাতে দেওয়ার অশুভ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের স্বার্থ জড়িত থাকায় এর তদন্ত প্রয়োজন।

রিটে যাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও রয়েছেন: . আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সব সাবেক উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬


ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় থাকা হামের টিকাকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া এবং এর ফলে দেশজুড়ে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ তুলে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূসসহ সাবেক ২৪ উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (১৭ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিটে বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আরজি জানানো হয়েছে। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

রিট দায়েরের পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন রিটকারী আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম। সময় তিনি টিকা ব্যবস্থাপনায় সাবেক সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা একটি লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলাম, যেন . ইউনূসসহ যারা উপদেষ্টা ছিলেন, তারা দেশ ত্যাগ করতে না পারেন। উনারা একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির কথা বলে এসেছিলেন, যেটা আপনারা নেপালে দেখেছেন। কিন্তু উনারা এসে ১৯৭৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠিত যে টিকা ব্যবস্থা (হাম-মাম্পস), যা জাদুঘরে চলে গিয়েছিল, সেটিকে ওপেন টেন্ডারের (উন্মুক্ত দরপত্র) মাধ্যমে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন।

বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের আপত্তির বিষয়টি উল্লেখ করে এই আইনজীবী বলেন, “ কারণে ইউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টর রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছিলেন, ‘ফর গড সেক, প্লিজ ডোন্ট ডু’ (ঈশ্বরের দোহাই, দয়া করে এটি করবেন না) তারপরও তারা এটি করেছে, যে কারণে আজকে আমাদের শত শত শিশু মারা যাচ্ছে এবং আপনাদের রিপোর্টের মাধ্যমে আমরা তা দেখছি। এখনও অনেক মা-বোনের নবজাতক শিশু অসুস্থ হওয়ার পর তাদের হাসপাতালে নেওয়ার মতো সক্ষমতা নেই। এই সংখ্যাগুলো আপনাদের রিপোর্টে আসে না।

টিকা ইস্যুর বাইরেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম আরও বলেন, “এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিতভাবে হয়েছে। . ইউনূস শুধু গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ারই পরিবর্তন করেননি, বরংসম্পদনামে নগদ বা বিকাশের মতো একটি লেনদেন মাধ্যম খুলে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। আদম বেপারির লাইসেন্স থেকে শুরু করে সবই তিনি দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের জীবনের সাথে সম্পৃক্ত টিকা ব্যবস্থাকে তিনি শুধু প্রাইভেট খাতের জন্য উন্মুক্ত করেছিলেন।

আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “ইনকোয়ারি কমিশন অ্যাক্টের ধারা অনুযায়ী এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হতে হবে। আর এই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত . ইউনূস থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা অ্যাডভাইজার যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, জন্যই আমি পিটিশনার হিসেবে রিট দায়ের করেছি।সোমবার দুপুর ২টার সময় আদালতের ২০ নম্বর মেইন কোর্টে রিটের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।

এর আগে, গত এপ্রিল একই দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন এই আইনজীবী। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় বিলুপ্ত রোগ হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অগণিত শিশু সাধারণ নাগরিক হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। হামের মতো টিকাকরণের ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে প্রাইভেট খাতে দেওয়ার অশুভ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের স্বার্থ জড়িত থাকায় এর তদন্ত প্রয়োজন।

রিটে যাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও রয়েছেন: . আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খান, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সব সাবেক উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত