সংবাদ

সুইডেনের আর্কাইভে থাকা রবীন্দ্রনাথের হাতের লেখা ভারতের কাছে হস্তান্তর


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৩:২১ পিএম

সুইডেনের আর্কাইভে থাকা রবীন্দ্রনাথের হাতের লেখা ভারতের কাছে হস্তান্তর

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে ভারত ও ইউরোপের সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক অনন্য ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হয়েছে। সুইডেন সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে লেখা একটি ঐতিহাসিক প্রতিলিপি তুলে দেওয়া হয়েছে। এত দিন ধরে অত্যন্ত যত্নের সাথে এই মূল্যবান নথিটি সুইডেনের জাতীয় আর্কাইভে সংরক্ষিত ছিল। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপহারটি কেবল একটি সাধারণ নথি হস্তান্তর নয়, বরং এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের গভীর ও ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক সম্পর্কের এক অনন্য প্রতীক।

​১৯১৩ সালে প্রথম এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সুইডেন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "এই প্রতিলিপিগুলি বহু বছর ধরে আমাদের জাতীয় আর্কাইভে অত্যন্ত সযত্নে সংরক্ষিত ছিল। বিশ্বকবির এই অমূল্য দলিলের অনুলিপি ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা একদিকে যেমন কবিগুরুকে গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, তেমনই অন্য দিকে ভারত ও সুইডেনের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ভিত্তিকেও আরও শক্তিশালী করছি।" এই উপহারের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সৌহার্দ্য আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​কূটনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ঘটনাকে বর্তমান সময়ের ‘সফট ডিপ্লোমেসি’ বা মনস্তাত্ত্বিক কূটনীতির এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থের বাইরেও শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্য যে দুটি ভিন্ন দেশের মধ্যে কতটা গভীর ও শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে—এই ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এই হস্তান্তরের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা আরও একধাপ উঁচুতে উঠে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও দর্শনের প্রতি ইউরোপের দেশগুলোর আগ্রহ ও ভালোবাসা বহু পুরনো। তবে বর্তমান সময়ে এসেও সেই আগ্রহ ও আবেদন যে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে, সুইডেন সরকারের এই উপহারের মাধ্যমেই তা আবারও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। সব মিলিয়ে, একটি বিশেষ নথি বিনিময়ের মধ্য দিয়েই যেন দুই দেশ বিশ্বমঞ্চে বড় একটি বার্তা পৌঁছে দিল। আর তা হলো—সংস্কৃতি ও সাহিত্য কখনো কোনো ভৌগোলিক সীমানায় বাঁধা পড়ে না, বরং যুগের পর যুগ এটিই হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী কূটনৈতিক ভাষা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬


সুইডেনের আর্কাইভে থাকা রবীন্দ্রনাথের হাতের লেখা ভারতের কাছে হস্তান্তর

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে ভারত ও ইউরোপের সাংস্কৃতিক বন্ধনের এক অনন্য ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হয়েছে। সুইডেন সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে লেখা একটি ঐতিহাসিক প্রতিলিপি তুলে দেওয়া হয়েছে। এত দিন ধরে অত্যন্ত যত্নের সাথে এই মূল্যবান নথিটি সুইডেনের জাতীয় আর্কাইভে সংরক্ষিত ছিল। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপহারটি কেবল একটি সাধারণ নথি হস্তান্তর নয়, বরং এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের গভীর ও ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক সম্পর্কের এক অনন্য প্রতীক।

​১৯১৩ সালে প্রথম এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সুইডেন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "এই প্রতিলিপিগুলি বহু বছর ধরে আমাদের জাতীয় আর্কাইভে অত্যন্ত সযত্নে সংরক্ষিত ছিল। বিশ্বকবির এই অমূল্য দলিলের অনুলিপি ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা একদিকে যেমন কবিগুরুকে গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, তেমনই অন্য দিকে ভারত ও সুইডেনের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ভিত্তিকেও আরও শক্তিশালী করছি।" এই উপহারের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সৌহার্দ্য আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

​কূটনৈতিক মহলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ঘটনাকে বর্তমান সময়ের ‘সফট ডিপ্লোমেসি’ বা মনস্তাত্ত্বিক কূটনীতির এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থের বাইরেও শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্য যে দুটি ভিন্ন দেশের মধ্যে কতটা গভীর ও শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে—এই ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এই হস্তান্তরের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা আরও একধাপ উঁচুতে উঠে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও দর্শনের প্রতি ইউরোপের দেশগুলোর আগ্রহ ও ভালোবাসা বহু পুরনো। তবে বর্তমান সময়ে এসেও সেই আগ্রহ ও আবেদন যে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে, সুইডেন সরকারের এই উপহারের মাধ্যমেই তা আবারও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো। সব মিলিয়ে, একটি বিশেষ নথি বিনিময়ের মধ্য দিয়েই যেন দুই দেশ বিশ্বমঞ্চে বড় একটি বার্তা পৌঁছে দিল। আর তা হলো—সংস্কৃতি ও সাহিত্য কখনো কোনো ভৌগোলিক সীমানায় বাঁধা পড়ে না, বরং যুগের পর যুগ এটিই হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী কূটনৈতিক ভাষা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত