প্রায় ১৪ বছর পর আবারও কলকাতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ সচিবের পদচারণা। ২০১২ সালের মে মাসে হিলারি ক্লিন্টন-এর সফরের পর এবার শনিবার (২৩ মে) সকালে কলকাতায় পৌঁছলেন বর্তমান মার্কিন বিদেশসচিব ম্যাক্রো রুবিও। সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী।
শনিবার (২৩ মে) সকালেই কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর প্রোটোকল অনুযায়ী কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি দিয়ে শুরু না করে, সরাসরি তিনি চলে যান তালতলার মাদার হাউসে। মানবসেবার প্রতীক মাদার টেরেসার স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক সময় কাটান তিনি ও তার স্ত্রী। এরপর তারা একটি চিলড্রেনস হোমেও যান বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, এই সফরের সাংস্কৃতিক ও মানবিক দিকটিকে সামনে আনতেই এই ধরনের সূচি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল-এ যাওয়ার কথাও রয়েছে তাদের- যা ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং কলকাতার পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক।
সংক্ষিপ্ত কলকাতা সফর শেষে শনিবার বিকেলে নিউ দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে রুবিওর। রাজধানীতে পৌঁছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন তিনি।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং কোয়াড্রিল্যাটেরাল সিকিউরিটি ডায়ালগসহ (কোয়াড)একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সেরজিও গোর ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সফরের কথা নিশ্চিত করেছেন এবং এটিকে রুবিওর প্রথম ভারত সফর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শুধু কলকাতা বা দিল্লি নয়, আগ্রা ও জয়পুর সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: এই সফরকে ঘিরে একাধিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথমত, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিবের আগমন নিছক প্রোটোকল ভিজিট নয়। পূর্ব ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব, বঙ্গোপসাগর অঞ্চল এবং বাংলাদেশ-সংলগ্ন ভূরাজনীতি—সব মিলিয়ে এই সফর একটি বড় বার্তা বহন করছে।
দ্বিতীয়ত, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলও এই সফরকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকারের শিল্পবান্ধব বার্তা এবং বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা—এই দুইয়ের সঙ্গে মার্কিন সফরের একটি যোগসূত্র খুঁজছেন বিশ্লেষকরা।
তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, বিশেষ করে বাংলাদেশের লালমনিরহাট অঞ্চলে বিমানঘাঁটি ও অবকাঠামো বিনিয়োগ ঘিরে যে কৌশলগত চাপানউতোর চলছে, তার প্রেক্ষিতেও এই সফরকে দেখা হচ্ছে। অনেকের মতে, এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আমেরিকার অবস্থান আরও শক্ত করার একটি কূটনৈতিক বার্তা।
সব মিলিয়ে, ম্যাক্রো রুবিওর এই ভারত সফর—বিশেষ করে কলকাতা পর্ব—শুধু প্রতীকী নয়, বরং বহুমাত্রিক কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে।
“স্ট্র্যাটেজিক মেসেজিং”- দুইয়ের মিশেল: পূর্ব ভারত ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে আমেরিকার নতুন ফোকাস: চীন ও বাংলাদেশ ফ্যাক্টর- নেপথ্যে বড় ভূরাজনৈতিক খেলা। শিল্প ও বিদেশি বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত।

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
প্রায় ১৪ বছর পর আবারও কলকাতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ সচিবের পদচারণা। ২০১২ সালের মে মাসে হিলারি ক্লিন্টন-এর সফরের পর এবার শনিবার (২৩ মে) সকালে কলকাতায় পৌঁছলেন বর্তমান মার্কিন বিদেশসচিব ম্যাক্রো রুবিও। সঙ্গে রয়েছেন তার স্ত্রী।
শনিবার (২৩ মে) সকালেই কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর প্রোটোকল অনুযায়ী কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি দিয়ে শুরু না করে, সরাসরি তিনি চলে যান তালতলার মাদার হাউসে। মানবসেবার প্রতীক মাদার টেরেসার স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক সময় কাটান তিনি ও তার স্ত্রী। এরপর তারা একটি চিলড্রেনস হোমেও যান বলে জানা গেছে।
সূত্রের খবর, এই সফরের সাংস্কৃতিক ও মানবিক দিকটিকে সামনে আনতেই এই ধরনের সূচি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল-এ যাওয়ার কথাও রয়েছে তাদের- যা ব্রিটিশ আমলের ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং কলকাতার পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক।
সংক্ষিপ্ত কলকাতা সফর শেষে শনিবার বিকেলে নিউ দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে রুবিওর। রাজধানীতে পৌঁছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসবেন তিনি।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং কোয়াড্রিল্যাটেরাল সিকিউরিটি ডায়ালগসহ (কোয়াড)একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সেরজিও গোর ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সফরের কথা নিশ্চিত করেছেন এবং এটিকে রুবিওর প্রথম ভারত সফর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শুধু কলকাতা বা দিল্লি নয়, আগ্রা ও জয়পুর সফরের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: এই সফরকে ঘিরে একাধিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথমত, দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিবের আগমন নিছক প্রোটোকল ভিজিট নয়। পূর্ব ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব, বঙ্গোপসাগর অঞ্চল এবং বাংলাদেশ-সংলগ্ন ভূরাজনীতি—সব মিলিয়ে এই সফর একটি বড় বার্তা বহন করছে।
দ্বিতীয়ত, রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলও এই সফরকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকারের শিল্পবান্ধব বার্তা এবং বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা—এই দুইয়ের সঙ্গে মার্কিন সফরের একটি যোগসূত্র খুঁজছেন বিশ্লেষকরা।
তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, বিশেষ করে বাংলাদেশের লালমনিরহাট অঞ্চলে বিমানঘাঁটি ও অবকাঠামো বিনিয়োগ ঘিরে যে কৌশলগত চাপানউতোর চলছে, তার প্রেক্ষিতেও এই সফরকে দেখা হচ্ছে। অনেকের মতে, এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আমেরিকার অবস্থান আরও শক্ত করার একটি কূটনৈতিক বার্তা।
সব মিলিয়ে, ম্যাক্রো রুবিওর এই ভারত সফর—বিশেষ করে কলকাতা পর্ব—শুধু প্রতীকী নয়, বরং বহুমাত্রিক কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে।
“স্ট্র্যাটেজিক মেসেজিং”- দুইয়ের মিশেল: পূর্ব ভারত ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে আমেরিকার নতুন ফোকাস: চীন ও বাংলাদেশ ফ্যাক্টর- নেপথ্যে বড় ভূরাজনৈতিক খেলা। শিল্প ও বিদেশি বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত।

আপনার মতামত লিখুন