সংবাদ

জেন-জির ক্ষোভে আগুন!

ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট ‘ব্লক’, তবুও ঝড়


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট ‘ব্লক’, তবুও ঝড়
“ককরোচ” আর “প্যারাসাইট”।

ভারতের রাজনীতিতে কি সত্যিই এক নতুন ডিজিটাল যুগের সূচনা হয়েছে? জোট, ফ্রন্ট, গোষ্ঠী—সবকিছুকে ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে এক অদ্ভুত নাম- “ককরোচ জনতা পার্টি”। এর পাশাপাশি উঠে এসেছে আরেকটি ব্যঙ্গাত্মক গোষ্ঠী-ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট। নাম শুনলেই বোঝা যায়, এটি প্রচলিত রাজনীতি নয়, বরং ব্যঙ্গ, মিম এবং ডিজিটাল প্রতিবাদের এক নতুন রূপ, যা বিশেষ করে জেন-জি-এর মধ্যে বিস্ফোরক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সুরিয়া কান্তি–এর একটি মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় তিনি কিছু বেকার যুবককে “ককরোচ” বা “প্যারাসাইট”-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। যদিও পরে তিনি নিজেই স্পষ্ট করে জানান, তার বক্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত হয়েছে এবং তিনি আসলে ভুয়ো ডিগ্রিধারী ও সিস্টেম অপব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যেই কথা বলেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ বিস্ফোরিত।

এই ক্ষোভ থেকেই জন্ম নেয় ককরোচ জনতা পার্টি- একটি অনলাইন স্যাটায়ার ভিত্তিক প্রতিবাদ প্ল্যাটফর্ম। এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, একজন ভারতীয় যুবক, যিনি বর্তমানে বিদেশে পড়াশোনা করছেন। তার একটি সাধারণ প্রশ্ন- “সব আরশোলা যদি একসাথে হয়?”-এই এক লাইনের পোস্ট থেকেই শুরু হয় এক ভাইরাল ডিজিটাল আন্দোলন।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই সংগঠন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আজ পর্যন্ত ১৭. ৫ মিলিয়ন মানুষ এই ট্রেন্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়, তৈরি হয় মিলিয়ন ভিউ। কিছু ক্ষেত্রে ফলোয়ার সংখ্যা কোটি ছাড়ানোর দাবিও সামনে এসেছে, যদিও এই ধরনের বড় সংখ্যাগুলোর সবই স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

এই জনপ্রিয়তার মাঝেই আসে বড় মোড়। ককরোচ জনতা পার্টির একটি বড় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ভারতে সীমাবদ্ধ বা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ দেশের ভেতরে সেটি আর সহজে দেখা যাচ্ছে না। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়-ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, এই পদক্ষেপ তিনি আগেই অনুমান করেছিলেন। তার দাবি, এটি একটি অর্গানিক আন্দোলন, যা কোনও পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রকল্প নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া থেকেই তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই আন্দোলন থামবে না এবং নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এটি চালিয়ে যাওয়া হবে।

এই পুরো ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র একটি মিম বা ট্রেন্ড নয়-এটি একটি বড় ডিজিটাল আলোচনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাসের মতো বিষয়গুলো এই আন্দোলনের ভিত তৈরি করেছে। তারা সরাসরি রাস্তায় না নেমে, সোশ্যাল মিডিয়াকেই বেছে নিচ্ছে প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে।  এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, একজন ভারতীয় যুবক, যিনি বর্তমানে বিদেশে পড়াশোনা করছেন এবং রাজনৈতিক কমিউনিকেশন নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি একসময় আম আদমি পার্টি–এর সোশ্যাল মিডিয়া সেলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা এই আন্দোলনের ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি ও ভাইরাল হওয়ার ধরনকে অনেকটাই ব্যাখ্যা করে।

তার একটি সাধারণ প্রশ্ন- “সব আরশোলা যদি একসাথে হয়?”- এই এক লাইনের পোস্ট থেকেই শুরু হয় এক ভাইরাল ডিজিটাল আন্দোলন।

ককরোচ জনতা পার্টি আর ন্যাশনাল প্যারাসাইট ফ্রন্ট-এই দুটি সংগঠন দেখিয়ে দিচ্ছে, নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদের ভাষাভারতের রাজনীতিতে কি সত্যিই এক নতুন ডিজিটাল যুগের সূচনা হয়েছে? জোট, ফ্রন্ট, গোষ্ঠী-সবকিছুকে ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে এক অদ্ভুত নাম-“ককরোচ জনতা পার্টির”। এর পাশাপাশি উঠে এসেছে আরেকটি ব্যঙ্গাত্মক গোষ্ঠী-ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট। নাম শুনলেই বোঝা যায়, এটি প্রচলিত রাজনীতি নয়, বরং ব্যঙ্গ, মিম এবং ডিজিটাল প্রতিবাদের এক নতুন রূপ, যা বিশেষ করে জেন-জি–এর মধ্যে বিস্ফোরক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জাস্টিস সূর্য কান্ত –এর একটি মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় তিনি কিছু বেকার যুবককে “ককরোচ” বা “প্যারাসাইট”-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। যদিও পরে তিনি নিজেই স্পষ্ট করে জানান, তার বক্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত হয়েছে এবং তিনি আসলে ভুয়ো ডিগ্রিধারী ও সিস্টেম অপব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যেই কথা বলেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ বিস্ফোরিত।

এই ক্ষোভ থেকেই জন্ম নেয় ককরোচ জনতা পার্টির-একটি অনলাইন স্যাটায়ার ভিত্তিক প্রতিবাদ প্ল্যাটফর্ম। এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে , একজন ভারতীয় যুবক, যিনি বর্তমানে বিদেশে পড়াশোনা করছেন। তাঁর একটি সাধারণ প্রশ্ন-“সব আরশোলা যদি একসাথে হয়?”- এই এক লাইনের পোস্ট থেকেই শুরু হয় একভাইরাল ডিজিটাল আন্দোলন।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই সংগঠন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ট্রেন্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়, তৈরি হয় মিলিয়ন ভিউ। কিছু ক্ষেত্রে ফলোয়ার সংখ্যা কোটি ছাড়ানোর দাবিও সামনে এসেছে, যদিও এই ধরনের বড় সংখ্যাগুলোর সবই স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

এই জনপ্রিয়তার মাঝেই আসে বড় মোড়। ককরোচ জনতা পার্টির একটি বড় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ভারতে সীমাবদ্ধ বা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ দেশের ভেতরে সেটি আর সহজে দেখা যাচ্ছে না। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়-ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, এই পদক্ষেপ তিনি আগেই অনুমান করেছিলেন। তার দাবি, এটি একটি অর্গানিক আন্দোলন, যা কোনও পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রকল্প নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া থেকেই তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই আন্দোলন থামবে না এবং নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এটি চালিয়ে যাওয়া হবে।

এই পুরো ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র একটি মিম বা ট্রেন্ড নয়-এটি একটি বড় ডিজিটাল আলোচনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাসের মতো বিষয়গুলো এই আন্দোলনের ভিত তৈরি করেছে। তারা সরাসরি রাস্তায় না নেমে, সোশ্যাল মিডিয়াকেই বেছে নিচ্ছে প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে।

ককরোচ জনতা পার্টি এবং ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট- এই দুটি সংগঠন দেখিয়ে দিচ্ছে, নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদের ভাষা বদলে গেছে। এখন মিছিল নয়, ভাইরালই শক্তি। পোস্ট, মিম, ট্রেন্ড- এই সবই হয়ে উঠছে নতুন রাজনৈতিক হাতিয়ার। বদলে গেছে। এখন মিছিল নয়, ভাইরালই শক্তি। পোস্ট, মিম, ট্রেন্ড- এই সবই হয়ে উঠছে নতুন রাজনৈতিক হাতিয়ার। 

শেষ কথা হলো একটি মন্তব্য, একটি ভুল ব্যাখ্যা, একটি মিম- সেখান থেকেই জন্ম এই ডিজিটাল ঝড়, যেখানে জেন-জি রাস্তায় নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেই লিখছে নতুন রাজনীতির গল্প।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


ককরোচ জনতা পার্টির অ্যাকাউন্ট ‘ব্লক’, তবুও ঝড়

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজনীতিতে কি সত্যিই এক নতুন ডিজিটাল যুগের সূচনা হয়েছে? জোট, ফ্রন্ট, গোষ্ঠী—সবকিছুকে ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে এক অদ্ভুত নাম- “ককরোচ জনতা পার্টি”। এর পাশাপাশি উঠে এসেছে আরেকটি ব্যঙ্গাত্মক গোষ্ঠী-ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট। নাম শুনলেই বোঝা যায়, এটি প্রচলিত রাজনীতি নয়, বরং ব্যঙ্গ, মিম এবং ডিজিটাল প্রতিবাদের এক নতুন রূপ, যা বিশেষ করে জেন-জি-এর মধ্যে বিস্ফোরক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সুরিয়া কান্তি–এর একটি মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় তিনি কিছু বেকার যুবককে “ককরোচ” বা “প্যারাসাইট”-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। যদিও পরে তিনি নিজেই স্পষ্ট করে জানান, তার বক্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত হয়েছে এবং তিনি আসলে ভুয়ো ডিগ্রিধারী ও সিস্টেম অপব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যেই কথা বলেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ বিস্ফোরিত।

এই ক্ষোভ থেকেই জন্ম নেয় ককরোচ জনতা পার্টি- একটি অনলাইন স্যাটায়ার ভিত্তিক প্রতিবাদ প্ল্যাটফর্ম। এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, একজন ভারতীয় যুবক, যিনি বর্তমানে বিদেশে পড়াশোনা করছেন। তার একটি সাধারণ প্রশ্ন- “সব আরশোলা যদি একসাথে হয়?”-এই এক লাইনের পোস্ট থেকেই শুরু হয় এক ভাইরাল ডিজিটাল আন্দোলন।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই সংগঠন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আজ পর্যন্ত ১৭. ৫ মিলিয়ন মানুষ এই ট্রেন্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়, তৈরি হয় মিলিয়ন ভিউ। কিছু ক্ষেত্রে ফলোয়ার সংখ্যা কোটি ছাড়ানোর দাবিও সামনে এসেছে, যদিও এই ধরনের বড় সংখ্যাগুলোর সবই স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

এই জনপ্রিয়তার মাঝেই আসে বড় মোড়। ককরোচ জনতা পার্টির একটি বড় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ভারতে সীমাবদ্ধ বা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ দেশের ভেতরে সেটি আর সহজে দেখা যাচ্ছে না। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়-ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, এই পদক্ষেপ তিনি আগেই অনুমান করেছিলেন। তার দাবি, এটি একটি অর্গানিক আন্দোলন, যা কোনও পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রকল্প নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া থেকেই তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই আন্দোলন থামবে না এবং নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এটি চালিয়ে যাওয়া হবে।

এই পুরো ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র একটি মিম বা ট্রেন্ড নয়-এটি একটি বড় ডিজিটাল আলোচনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাসের মতো বিষয়গুলো এই আন্দোলনের ভিত তৈরি করেছে। তারা সরাসরি রাস্তায় না নেমে, সোশ্যাল মিডিয়াকেই বেছে নিচ্ছে প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে।  এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, একজন ভারতীয় যুবক, যিনি বর্তমানে বিদেশে পড়াশোনা করছেন এবং রাজনৈতিক কমিউনিকেশন নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি একসময় আম আদমি পার্টি–এর সোশ্যাল মিডিয়া সেলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা এই আন্দোলনের ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি ও ভাইরাল হওয়ার ধরনকে অনেকটাই ব্যাখ্যা করে।

তার একটি সাধারণ প্রশ্ন- “সব আরশোলা যদি একসাথে হয়?”- এই এক লাইনের পোস্ট থেকেই শুরু হয় এক ভাইরাল ডিজিটাল আন্দোলন।

ককরোচ জনতা পার্টি আর ন্যাশনাল প্যারাসাইট ফ্রন্ট-এই দুটি সংগঠন দেখিয়ে দিচ্ছে, নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদের ভাষাভারতের রাজনীতিতে কি সত্যিই এক নতুন ডিজিটাল যুগের সূচনা হয়েছে? জোট, ফ্রন্ট, গোষ্ঠী-সবকিছুকে ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রে এক অদ্ভুত নাম-“ককরোচ জনতা পার্টির”। এর পাশাপাশি উঠে এসেছে আরেকটি ব্যঙ্গাত্মক গোষ্ঠী-ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট। নাম শুনলেই বোঝা যায়, এটি প্রচলিত রাজনীতি নয়, বরং ব্যঙ্গ, মিম এবং ডিজিটাল প্রতিবাদের এক নতুন রূপ, যা বিশেষ করে জেন-জি–এর মধ্যে বিস্ফোরক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই পুরো ঘটনার সূত্রপাত একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জাস্টিস সূর্য কান্ত –এর একটি মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয় তিনি কিছু বেকার যুবককে “ককরোচ” বা “প্যারাসাইট”-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। যদিও পরে তিনি নিজেই স্পষ্ট করে জানান, তার বক্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত হয়েছে এবং তিনি আসলে ভুয়ো ডিগ্রিধারী ও সিস্টেম অপব্যবহারকারীদের উদ্দেশ্যেই কথা বলেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ বিস্ফোরিত।

এই ক্ষোভ থেকেই জন্ম নেয় ককরোচ জনতা পার্টির-একটি অনলাইন স্যাটায়ার ভিত্তিক প্রতিবাদ প্ল্যাটফর্ম। এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে , একজন ভারতীয় যুবক, যিনি বর্তমানে বিদেশে পড়াশোনা করছেন। তাঁর একটি সাধারণ প্রশ্ন-“সব আরশোলা যদি একসাথে হয়?”- এই এক লাইনের পোস্ট থেকেই শুরু হয় একভাইরাল ডিজিটাল আন্দোলন।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই সংগঠন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ট্রেন্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়, তৈরি হয় মিলিয়ন ভিউ। কিছু ক্ষেত্রে ফলোয়ার সংখ্যা কোটি ছাড়ানোর দাবিও সামনে এসেছে, যদিও এই ধরনের বড় সংখ্যাগুলোর সবই স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

এই জনপ্রিয়তার মাঝেই আসে বড় মোড়। ককরোচ জনতা পার্টির একটি বড় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ভারতে সীমাবদ্ধ বা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ দেশের ভেতরে সেটি আর সহজে দেখা যাচ্ছে না। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়-ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মত প্রকাশের স্বাধীনতা কতটা নিরাপদ, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিজিৎ দীপকে বলেন, এই পদক্ষেপ তিনি আগেই অনুমান করেছিলেন। তার দাবি, এটি একটি অর্গানিক আন্দোলন, যা কোনও পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রকল্প নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া থেকেই তৈরি হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই আন্দোলন থামবে না এবং নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এটি চালিয়ে যাওয়া হবে।

এই পুরো ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র একটি মিম বা ট্রেন্ড নয়-এটি একটি বড় ডিজিটাল আলোচনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাসের মতো বিষয়গুলো এই আন্দোলনের ভিত তৈরি করেছে। তারা সরাসরি রাস্তায় না নেমে, সোশ্যাল মিডিয়াকেই বেছে নিচ্ছে প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে।

ককরোচ জনতা পার্টি এবং ন্যাশনাল প্যারাসাইটিক ফ্রন্ট- এই দুটি সংগঠন দেখিয়ে দিচ্ছে, নতুন প্রজন্মের প্রতিবাদের ভাষা বদলে গেছে। এখন মিছিল নয়, ভাইরালই শক্তি। পোস্ট, মিম, ট্রেন্ড- এই সবই হয়ে উঠছে নতুন রাজনৈতিক হাতিয়ার। বদলে গেছে। এখন মিছিল নয়, ভাইরালই শক্তি। পোস্ট, মিম, ট্রেন্ড- এই সবই হয়ে উঠছে নতুন রাজনৈতিক হাতিয়ার। 

শেষ কথা হলো একটি মন্তব্য, একটি ভুল ব্যাখ্যা, একটি মিম- সেখান থেকেই জন্ম এই ডিজিটাল ঝড়, যেখানে জেন-জি রাস্তায় নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেই লিখছে নতুন রাজনীতির গল্প।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত