সংবাদ

চুরির ফ্রিজ কিনে বিপাকে এসআই, তদন্ত শুরু


প্রতিনিধি, নাটোর
প্রতিনিধি, নাটোর
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

চুরির ফ্রিজ কিনে বিপাকে এসআই, তদন্ত শুরু
সিংড়া থানার উপপরিদর্শকের (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম।

নাটোরের সিংড়া থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে চুরির মালামাল (ফ্রিজ) কিনে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম মো. নজরুল ইসলাম। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে সিংড়া পৌরসভার চাঁদপুর মহল্লার বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের মাদকাসক্ত ছেলে মাসুম আলী তার বড় ভাই মুনছের আলীর বাসা থেকে একটি ফ্রিজসহ কিছু মালামাল চুরি করেন। গভীর রাতে মালামালগুলো ভ্যানগাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহলরত এসআই নজরুল ইসলাম ভ্যানটি আটক করেন। ওই সময় মাসুম পালিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী সাজু ও আবু হানিফ জানান, এসআই নজরুল ইসলাম পথচারীদের সহযোগিতায় ফ্রিজটি তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরে অভিযুক্ত মাসুম ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় গিয়ে চুরির ঘটনা স্বীকার করলে এসআই নজরুল ১১ হাজার ৫০০ টাকায় ফ্রিজটি কিনে নেন। এ সময় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

এদিকে চুরির বিষয়টি জানাজানি হলে মালামাল ফেরত পেতে থানায় যান মুনছের আলীর পরিবার। মুনছের আলীর মা মর্জিনা বেগম বলেন, ‘ফ্রিজ চুরির পর লোকমুখে জানতে পারি পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সেটি নিয়েছেন। পরে সিংড়া সার্কেল অফিসে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে টাকা ফেরত দিয়ে গত শনিবার (২৩ মে) আমরা ফ্রিজটি বুঝে পেয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে শনিবার দিনভর সিংড়া থানায় যোগাযোগ করা হলেও এসআই নজরুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি নিজেকে আড়াল করে চলছেন বলে জানা গেছে।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিউজ করলে পুলিশ বাহিনীর বদনাম হবে। আপাতত বিষয়টি ক্ষমা করে দিন।’

এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিংড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বিস্তারিত জানতে তিনি জেলা পুলিশের মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

নাটোরের পুলিশ সুপার জানান, বিষয়টি জানার পর সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৪ মে ২০২৬


চুরির ফ্রিজ কিনে বিপাকে এসআই, তদন্ত শুরু

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

নাটোরের সিংড়া থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে চুরির মালামাল (ফ্রিজ) কিনে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম মো. নজরুল ইসলাম। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে সিংড়া পৌরসভার চাঁদপুর মহল্লার বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের মাদকাসক্ত ছেলে মাসুম আলী তার বড় ভাই মুনছের আলীর বাসা থেকে একটি ফ্রিজসহ কিছু মালামাল চুরি করেন। গভীর রাতে মালামালগুলো ভ্যানগাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহলরত এসআই নজরুল ইসলাম ভ্যানটি আটক করেন। ওই সময় মাসুম পালিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী সাজু ও আবু হানিফ জানান, এসআই নজরুল ইসলাম পথচারীদের সহযোগিতায় ফ্রিজটি তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরে অভিযুক্ত মাসুম ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় গিয়ে চুরির ঘটনা স্বীকার করলে এসআই নজরুল ১১ হাজার ৫০০ টাকায় ফ্রিজটি কিনে নেন। এ সময় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।

এদিকে চুরির বিষয়টি জানাজানি হলে মালামাল ফেরত পেতে থানায় যান মুনছের আলীর পরিবার। মুনছের আলীর মা মর্জিনা বেগম বলেন, ‘ফ্রিজ চুরির পর লোকমুখে জানতে পারি পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সেটি নিয়েছেন। পরে সিংড়া সার্কেল অফিসে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে টাকা ফেরত দিয়ে গত শনিবার (২৩ মে) আমরা ফ্রিজটি বুঝে পেয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে শনিবার দিনভর সিংড়া থানায় যোগাযোগ করা হলেও এসআই নজরুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি নিজেকে আড়াল করে চলছেন বলে জানা গেছে।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিউজ করলে পুলিশ বাহিনীর বদনাম হবে। আপাতত বিষয়টি ক্ষমা করে দিন।’

এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিংড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বিস্তারিত জানতে তিনি জেলা পুলিশের মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

নাটোরের পুলিশ সুপার জানান, বিষয়টি জানার পর সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত