রেলওয়ের বাণিজ্যিক ও কৃষি উভয় খাতের লাইসেন্স বা ভূমির ভাড়া এক লাফে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে রেলওয়ে ভূসম্পত্তি বিভাগ। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের বকেয়া ভাড়া চলতি অর্থবছরে সমন্বয়ের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সিদ্ধান্তের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন লাইসেন্সগ্রহীতারা। কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়া নেওয়া রেলওয়ের এই সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ ও ‘জুলুম’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজ।
সান্তাহার রেলওয়ে ভূসম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কর্তৃপক্ষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক পর্যায়ে রেলের ভূমির ভাড়া প্রতি বর্গফুট ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করে। ভাড়া বৃদ্ধির চিঠিটি দেরিতে আসায় গত অর্থবছরে পূর্বের ৪৫ টাকা হারেই ভাড়া গ্রহণ করা হয়। ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেই বকেয়া ৩৫ টাকা বর্তমান ৮০ টাকার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি বর্গফুটে মোট ১১৫ টাকা করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে লাইসেন্সগ্রহীতাকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আয়করও দিতে হবে।
সান্তাহার রেলওয়ে ভূসম্পত্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কানুনগো (আমিন) আমিনুল ইসলাম বলেন, "উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর যারা ৪৫ টাকা হারে ভাড়া দিয়েছেন, তাদের এ বছর বকেয়া ৩৫ টাকাসহ মোট ১১৫ টাকা হারে পরিশোধ করতে হবে।" নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই অফিসের এক কর্মচারী জানান, গত বছরের অতিরিক্ত ৩৫ টাকা যেন না নেওয়া হয়, সে জন্য স্থানীয় অফিস থেকে অনুরোধ করা হলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তা গ্রাহ্য করেনি।
এদিকে রেলওয়ের এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সান্তাহার রেলওয়ে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের লাইসেন্সগ্রহীতা রফিকুল ইসলাম বলেন, "কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতি বর্গফুটের জন্য ১১৫ টাকা হারে দিতে গিয়ে লাইসেন্সগ্রহীতারা বেহাল অবস্থায় পড়েছেন। আমরা গত বছরের অতিরিক্ত ৩৫ টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল ও ভাড়া কমানোর দাবি জানাচ্ছি।"
খায়রুল ইসলাম নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, "আমার ১৩০ বর্গফুটের একটি দোকান রয়েছে। গত বছর বার্ষিক ৭ হাজার টাকা ভাড়া দিলেও এবার একই দোকানের জন্য প্রায় ১৮ হাজার টাকা দিতে হবে। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অমানবিক ও জুলুমের শামিল।"
সান্তাহার নাগরিক কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, রেলওয়ের এই বৈষম্যমূলক ও হঠকারী সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। একটি জেলা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে একটি ছোট পৌর শহরের ব্যবসার ব্যাপক ব্যবধান থাকে। কিন্তু রেলওয়ে জেলা শহর ও পৌর শহরে একই হারে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, যা চরম বৈষম্যমূলক।
বাণিজ্যিক ভাড়ার পাশাপাশি রেলওয়ের কৃষি ভূমির ভাড়াও দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে প্রতি একর কৃষি জমির বার্ষিক ভাড়া ছিল ৬ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কৃষি খাতে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন প্রান্তিক চাষিরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, "রেলওয়ের ভূমি ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে কথা বলব। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের বিড়ম্বনায় না পড়েন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
রেলওয়ের বাণিজ্যিক ও কৃষি উভয় খাতের লাইসেন্স বা ভূমির ভাড়া এক লাফে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছে রেলওয়ে ভূসম্পত্তি বিভাগ। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের বকেয়া ভাড়া চলতি অর্থবছরে সমন্বয়ের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সিদ্ধান্তের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন লাইসেন্সগ্রহীতারা। কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়া নেওয়া রেলওয়ের এই সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ ও ‘জুলুম’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজ।
সান্তাহার রেলওয়ে ভূসম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কর্তৃপক্ষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাণিজ্যিক পর্যায়ে রেলের ভূমির ভাড়া প্রতি বর্গফুট ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা নির্ধারণ করে। ভাড়া বৃদ্ধির চিঠিটি দেরিতে আসায় গত অর্থবছরে পূর্বের ৪৫ টাকা হারেই ভাড়া গ্রহণ করা হয়। ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেই বকেয়া ৩৫ টাকা বর্তমান ৮০ টাকার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি বর্গফুটে মোট ১১৫ টাকা করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে লাইসেন্সগ্রহীতাকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আয়করও দিতে হবে।
সান্তাহার রেলওয়ে ভূসম্পত্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কানুনগো (আমিন) আমিনুল ইসলাম বলেন, "উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর যারা ৪৫ টাকা হারে ভাড়া দিয়েছেন, তাদের এ বছর বকেয়া ৩৫ টাকাসহ মোট ১১৫ টাকা হারে পরিশোধ করতে হবে।" নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই অফিসের এক কর্মচারী জানান, গত বছরের অতিরিক্ত ৩৫ টাকা যেন না নেওয়া হয়, সে জন্য স্থানীয় অফিস থেকে অনুরোধ করা হলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তা গ্রাহ্য করেনি।
এদিকে রেলওয়ের এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সান্তাহার রেলওয়ে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের লাইসেন্সগ্রহীতা রফিকুল ইসলাম বলেন, "কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতি বর্গফুটের জন্য ১১৫ টাকা হারে দিতে গিয়ে লাইসেন্সগ্রহীতারা বেহাল অবস্থায় পড়েছেন। আমরা গত বছরের অতিরিক্ত ৩৫ টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল ও ভাড়া কমানোর দাবি জানাচ্ছি।"
খায়রুল ইসলাম নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, "আমার ১৩০ বর্গফুটের একটি দোকান রয়েছে। গত বছর বার্ষিক ৭ হাজার টাকা ভাড়া দিলেও এবার একই দোকানের জন্য প্রায় ১৮ হাজার টাকা দিতে হবে। এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অমানবিক ও জুলুমের শামিল।"
সান্তাহার নাগরিক কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, রেলওয়ের এই বৈষম্যমূলক ও হঠকারী সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। একটি জেলা শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে একটি ছোট পৌর শহরের ব্যবসার ব্যাপক ব্যবধান থাকে। কিন্তু রেলওয়ে জেলা শহর ও পৌর শহরে একই হারে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, যা চরম বৈষম্যমূলক।
বাণিজ্যিক ভাড়ার পাশাপাশি রেলওয়ের কৃষি ভূমির ভাড়াও দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে প্রতি একর কৃষি জমির বার্ষিক ভাড়া ছিল ৬ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কৃষি খাতে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন প্রান্তিক চাষিরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, "রেলওয়ের ভূমি ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে কথা বলব। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের বিড়ম্বনায় না পড়েন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

আপনার মতামত লিখুন