দুই বাংলায় এবারের ঈদে আলোচিত বিষয় হলো গরু কোরবানি। ভারতের ক্ষমতাসীন সরকার গরুকে ‘গো-মাতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ফলে দেশটিতে গো-হত্যাকে অনেক ক্ষেত্রে অন্যায় হিসেবে দেখা হয়। তাই বিভিন্ন স্থানে গরু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যদিও বিষয়টি মূলত পশ্চিমবঙ্গকেন্দ্রিক, তবে তার আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মাবল¤^ীরা বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেন না। অন্যদিকে কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জন্য এটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। বিধানসভার দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার কয়েক দিন আগে একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, অনুমতি ছাড়া রাজ্যে কোনো গরু ও মহিষ জবাই করা যাবে না। এছাড়া গরুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে এবার ঈদুল আজহার আগে অনেক মুসলিম গরু কেনা বন্ধ রেখেছেন। এতে সেখানকার হিন্দু গরু ব্যবসায়ীরাও বিপদে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বড় করা গরু বিক্রি করতে না পেরে তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
তবে যে গো-মাংস নিয়ে এত বিতর্ক, হানাহানি ও উত্তেজনা, সেই গো-মাংস রপ্তানিতে ভারতের অবস্থান বিশ্বে অন্যতম শীর্ষে। গোটা পৃথিবীতে যে পরিমাণ গো-মাংস রপ্তানি হয়, তার প্রায় ১৬ শতাংশ ভারত থেকে আসে। রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক সমীক্ষা অনুযায়ী, গো-মাংস সরবরাহকারী দেশের তালিকায় ভারত তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ব্রাজিল প্রথম এবং অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় স্থানে।
ভারতে গো-হত্যা ঠেকাতে কেন্দ্র সরকার কঠোর আইন চালু করেছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, পশুহাট বা পশুমেলায় বেআইনিভাবে পশুর মাংস বিক্রির অনুমতি দেয়া হবে না। তবে বিরোধীদের দাবি, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনেই পশুহাটে বেআইনি মাংস বিক্রি বন্ধে নতুন আইন করা হয়েছে বলে সরকার দাবি করলেও সমালোচকদের মতে, এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ।
ক্ষমতায় আসার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গরুর মাংস রপ্তানির কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তিনি কংগ্রেস আমলের এই বাণিজ্যকে ‘পিঙ্ক রেভল্যুশন’ বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার শাসনামলে গরু ও মহিষের মাংস রপ্তানি প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে এই খাত থেকে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতের ‘মুসলিম মিরর’ নামের একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ ৩০ হাজার টন গরু ও মহিষের মাংস রপ্তানি করে। এ থেকে আয় হয় প্রায় ৪৩০ কোটি মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক মাংস বাজারে ভারতের অবস্থানও শক্তিশালী হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম মাংস রপ্তানিকারক ব্রাজিলের পর ভারতের অবস্থান রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। ভারতের পরে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এই পরিসংখ্যান দেখায়, মাংস রপ্তানি ভারতের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।
ভারতে রাজ্যভেদে গরু জবাই নিয়ে বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকলেও জাতীয়ভাবে একক কোনো আইন নেই। ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক শিথিল বিধির রাজ্যগুলো থেকে গরু সংগ্রহ করে রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতাই এই খাতের সম্প্রসারণে বেশি ভূমিকা রাখছে। ভারতে বর্তমানে প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ মহিষ এবং ৭ কোটি ৬০ লাখের বেশি গরু রয়েছে।
ভারতে গরু বা মহিষের মাংস রপ্তানি কোনো একক ব্যক্তির হাতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি কয়েকটি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো আল্লানা গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এস. আর. আল্লানা ও ফয়জান আল্লানা। এছাড়া আল কবির এক্সপোর্টস এবং আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান এই খাতে সক্রিয়।
ভারতের শীর্ষ মাংস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘আল্লানা গ্রুপ’ দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে ৩০ কোটি রুপি অনুদান দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ভারত বিশেষ করে ইসলামি দেশগুলোতে হালাল মাংসের বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় মহলেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভারতের মাংস রপ্তানি খাত, বিশেষ করে গরু ও মহিষের মাংস, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস। নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক বক্তব্যের পরও এই খাত গত এক দশকে টিকে থাকার পাশাপাশি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে, এত কিছুর পরও গরু নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীনদের কঠোর অবস্থানের কারণ কী? ভারতে প্রায় ২৬ কোটি মুসলমান বসবাস করে। দেশটিতে গরু ও মহিষের মাংসের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও ব্যাপক। বিশাল জনসংখ্যা ও প্রোটিনের চাহিদার কারণে এটি সেখানে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যে পরিণত হয়েছে। এই চাহিদার বড় অংশ পূরণ হয় ছোট ও প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদিত গবাদিপশু থেকে।
ভারতের অনেক রাজ্য কৃষিনির্ভর। এসব অঞ্চলে কৃষিকাজের পাশাপাশি গৃহস্থালি পর্যায়ে গরু পালন মানুষের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সমালোচকদের মতে, কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে গরু বিক্রি কমে গেলে ছোট খামারিরা বড় কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। তখন বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বড় করপোরেট গোষ্ঠীর হাতে চলে যেতে পারে। এ কারণেই অনেকে মনে করেন, ধর্মীয় আবেগের আড়ালে এখানে অর্থনৈতিক স্বার্থও সক্রিয় রয়েছে।
ভারতে গরু নিয়ে চলমান বিতর্ক তাই শুধু ধর্মীয় নয়; এর সঙ্গে রাজনীতি, অর্থনীতি, রপ্তানি বাণিজ্য এবং করপোরেট স্বার্থও গভীরভাবে জড়িত।
[লেখক: উন্নয়নকর্মী]

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬
দুই বাংলায় এবারের ঈদে আলোচিত বিষয় হলো গরু কোরবানি। ভারতের ক্ষমতাসীন সরকার গরুকে ‘গো-মাতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। ফলে দেশটিতে গো-হত্যাকে অনেক ক্ষেত্রে অন্যায় হিসেবে দেখা হয়। তাই বিভিন্ন স্থানে গরু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যদিও বিষয়টি মূলত পশ্চিমবঙ্গকেন্দ্রিক, তবে তার আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মাবল¤^ীরা বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেন না। অন্যদিকে কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জন্য এটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। বিধানসভার দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার কয়েক দিন আগে একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, অনুমতি ছাড়া রাজ্যে কোনো গরু ও মহিষ জবাই করা যাবে না। এছাড়া গরুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে এবার ঈদুল আজহার আগে অনেক মুসলিম গরু কেনা বন্ধ রেখেছেন। এতে সেখানকার হিন্দু গরু ব্যবসায়ীরাও বিপদে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বড় করা গরু বিক্রি করতে না পেরে তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
তবে যে গো-মাংস নিয়ে এত বিতর্ক, হানাহানি ও উত্তেজনা, সেই গো-মাংস রপ্তানিতে ভারতের অবস্থান বিশ্বে অন্যতম শীর্ষে। গোটা পৃথিবীতে যে পরিমাণ গো-মাংস রপ্তানি হয়, তার প্রায় ১৬ শতাংশ ভারত থেকে আসে। রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক সমীক্ষা অনুযায়ী, গো-মাংস সরবরাহকারী দেশের তালিকায় ভারত তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ব্রাজিল প্রথম এবং অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় স্থানে।
ভারতে গো-হত্যা ঠেকাতে কেন্দ্র সরকার কঠোর আইন চালু করেছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, পশুহাট বা পশুমেলায় বেআইনিভাবে পশুর মাংস বিক্রির অনুমতি দেয়া হবে না। তবে বিরোধীদের দাবি, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনেই পশুহাটে বেআইনি মাংস বিক্রি বন্ধে নতুন আইন করা হয়েছে বলে সরকার দাবি করলেও সমালোচকদের মতে, এটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ।
ক্ষমতায় আসার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গরুর মাংস রপ্তানির কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তিনি কংগ্রেস আমলের এই বাণিজ্যকে ‘পিঙ্ক রেভল্যুশন’ বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার শাসনামলে গরু ও মহিষের মাংস রপ্তানি প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে এই খাত থেকে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতের ‘মুসলিম মিরর’ নামের একটি ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটি প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ ৩০ হাজার টন গরু ও মহিষের মাংস রপ্তানি করে। এ থেকে আয় হয় প্রায় ৪৩০ কোটি মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক মাংস বাজারে ভারতের অবস্থানও শক্তিশালী হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম মাংস রপ্তানিকারক ব্রাজিলের পর ভারতের অবস্থান রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। ভারতের পরে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এই পরিসংখ্যান দেখায়, মাংস রপ্তানি ভারতের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।
ভারতে রাজ্যভেদে গরু জবাই নিয়ে বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকলেও জাতীয়ভাবে একক কোনো আইন নেই। ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক শিথিল বিধির রাজ্যগুলো থেকে গরু সংগ্রহ করে রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে অর্থনৈতিক বাস্তবতাই এই খাতের সম্প্রসারণে বেশি ভূমিকা রাখছে। ভারতে বর্তমানে প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ মহিষ এবং ৭ কোটি ৬০ লাখের বেশি গরু রয়েছে।
ভারতে গরু বা মহিষের মাংস রপ্তানি কোনো একক ব্যক্তির হাতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি কয়েকটি বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো আল্লানা গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এস. আর. আল্লানা ও ফয়জান আল্লানা। এছাড়া আল কবির এক্সপোর্টস এবং আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান এই খাতে সক্রিয়।
ভারতের শীর্ষ মাংস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘আল্লানা গ্রুপ’ দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে ৩০ কোটি রুপি অনুদান দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ভারত বিশেষ করে ইসলামি দেশগুলোতে হালাল মাংসের বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় মহলেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভারতের মাংস রপ্তানি খাত, বিশেষ করে গরু ও মহিষের মাংস, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস। নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক বক্তব্যের পরও এই খাত গত এক দশকে টিকে থাকার পাশাপাশি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে, এত কিছুর পরও গরু নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীনদের কঠোর অবস্থানের কারণ কী? ভারতে প্রায় ২৬ কোটি মুসলমান বসবাস করে। দেশটিতে গরু ও মহিষের মাংসের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও ব্যাপক। বিশাল জনসংখ্যা ও প্রোটিনের চাহিদার কারণে এটি সেখানে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্যে পরিণত হয়েছে। এই চাহিদার বড় অংশ পূরণ হয় ছোট ও প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদিত গবাদিপশু থেকে।
ভারতের অনেক রাজ্য কৃষিনির্ভর। এসব অঞ্চলে কৃষিকাজের পাশাপাশি গৃহস্থালি পর্যায়ে গরু পালন মানুষের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সমালোচকদের মতে, কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে গরু বিক্রি কমে গেলে ছোট খামারিরা বড় কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। তখন বাজার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বড় করপোরেট গোষ্ঠীর হাতে চলে যেতে পারে। এ কারণেই অনেকে মনে করেন, ধর্মীয় আবেগের আড়ালে এখানে অর্থনৈতিক স্বার্থও সক্রিয় রয়েছে।
ভারতে গরু নিয়ে চলমান বিতর্ক তাই শুধু ধর্মীয় নয়; এর সঙ্গে রাজনীতি, অর্থনীতি, রপ্তানি বাণিজ্য এবং করপোরেট স্বার্থও গভীরভাবে জড়িত।
[লেখক: উন্নয়নকর্মী]

আপনার মতামত লিখুন