সংবাদ

বাংলা কিউআর: এমডিআর ও নগদ অর্থের সরবরাহ কমাতে হবে


সাজ্জাদ হোসেন রিজু
সাজ্জাদ হোসেন রিজু
প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

বাংলা কিউআর: এমডিআর ও নগদ অর্থের সরবরাহ কমাতে হবে
ছবি: সংগৃহীত

১ জুলাই ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের সার্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত গ্রাহক এবং মার্চেন্ট কোনো পক্ষ থেকেই খুববেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট সর্বপ্রথম ‘বাংলা কিউআর’ এর নির্দেশিকা প্রকাশের পর ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দৈনন্দিন লেনদেনে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে লেনদেনকে সহজ ও দ্রুততর করা। পাশাপাশি লেনদেনকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখা। অতি সম্প্রতি এর সঙ্গে আরও কিছু উদ্দেশ্য যুক্ত হয়েছে। যেমন— নগদ টাকা ছাপানোর খরচ হ্রাস করা, সমস্ত প্রকার লেনদেনকে ব্যাংকিং ও আর্থিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা, ট্রানজেকশন ট্র্যাকিং এর মধ্য দিয়ে পর্যায়ক্রমে সবাইকে করের আওতায় নিয়ে আসা। সারা বিশ্ব এখন একটি ডিজিটাল রুপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে কেন? সর্বস্তরে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করার প্রধান পূর্বশর্ত হলো

মুদ্রাবাজারে নগদ টাকার সরবরাহ কমিয়ে আনা। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও অসম্ভব কিছু নয়। লেনদেন ডিজিটালাইজেশন নিয়ে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে মুদ্রাবাজার থেকে নগদ টাকা উঠিয়ে নিয়ে বিনিময়ে ডিজিটাল ফরম্যাটে (ই-মানি/ডিজিটাল কারেন্সি) বাজারে সরবরাহ করা। এব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করলে যারা ব্যাংকিং সেবার বাহিরে আছে তারা ব্যাংক ও এমএফএস হিসাব খুলে নগদ টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে জমা দিতে বাধ্য হবে। এভাবে মুদ্রাবাজারে নগদ টাকার সরবরাহ কমানো সম্ভব হবে। নগদ টাকা ছাপানো একেবারেরই সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, চীনের মতো দেশগুলোতে নগদ টাকার ব্যবহার খুবই কম। এসব দেশে ৭০-৮০ শতাংশ লেনদেনই হয়ে থাকে ডিজিটাল মাধ্যমে এবং এসব দেশের ব্যাংকগুলোতেও নগদ লেনদেন হয়না বললেই চলে। ‘বাংলা কিউআর’ জনপ্রিয়তার আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হলো মার্চেন্ট পয়েন্টে এর চার্জ অত্যন্ত বেশি। গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ এর জারি করা সার্কুলার মোতাবেক ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে সংঘটিত প্রতিটি লেনদেনে মার্চেন্ট পয়েন্ট চার্জ সর্বনিম্ন ১% নির্ধারণ করা হয়েছে যা মার্চেন্টদের নিরুৎসাহের অন্যতম কারণ। এই সিদ্ধান্ত বাংলা কিউআর এর উদ্দেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই চার্জ সর্বোচ্চ ১% হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ঘোষণা অনুযায়ী মোবাইল ডাটা ছাড়াই ব্যাংক ও এমএফএস এর এ্যাপ ব্যবহার করে বাংলা কিউআর এর মাধ্যমে পেটেন্ট করার যে সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। পাশাপাশি যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না তাদের জন্য টঝঝউ (টহংঃৎঁপঃঁৎবফ ঝঁঢ়ঢ়ষবসবহঃধৎু ঝবৎারপব উধঃধ) কোড ব্যবহার করে চ২চ ও চ২ই লেনদেন করার বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে। মার্কেটিং পলিসি হিসেবে বানিজ্যিক ব্যাংকগুলো (একোয়ারিং ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান) নিজ নিজ মার্চেন্ট হিসাবধারীদের প্রনোদনা দিতে পারে যা এই নতুন ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সর্বোপরি, বাংলা কিউআর-কে দেশের মুদ্রাবাজারের একটি সার্বজনীন প্ল্যাটফরম হিসেবে জায়গা করে নিতে একটি বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে। 

[লেখক: প্রিন্সিপাল অফিসার, পূবালী ব্যাংক পিএলসি]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


বাংলা কিউআর: এমডিআর ও নগদ অর্থের সরবরাহ কমাতে হবে

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

১ জুলাই ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের সার্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত গ্রাহক এবং মার্চেন্ট কোনো পক্ষ থেকেই খুববেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট সর্বপ্রথম ‘বাংলা কিউআর’ এর নির্দেশিকা প্রকাশের পর ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দৈনন্দিন লেনদেনে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে লেনদেনকে সহজ ও দ্রুততর করা। পাশাপাশি লেনদেনকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখা। অতি সম্প্রতি এর সঙ্গে আরও কিছু উদ্দেশ্য যুক্ত হয়েছে। যেমন— নগদ টাকা ছাপানোর খরচ হ্রাস করা, সমস্ত প্রকার লেনদেনকে ব্যাংকিং ও আর্থিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা, ট্রানজেকশন ট্র্যাকিং এর মধ্য দিয়ে পর্যায়ক্রমে সবাইকে করের আওতায় নিয়ে আসা। সারা বিশ্ব এখন একটি ডিজিটাল রুপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে কেন? সর্বস্তরে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করার প্রধান পূর্বশর্ত হলো

মুদ্রাবাজারে নগদ টাকার সরবরাহ কমিয়ে আনা। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও অসম্ভব কিছু নয়। লেনদেন ডিজিটালাইজেশন নিয়ে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে মুদ্রাবাজার থেকে নগদ টাকা উঠিয়ে নিয়ে বিনিময়ে ডিজিটাল ফরম্যাটে (ই-মানি/ডিজিটাল কারেন্সি) বাজারে সরবরাহ করা। এব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করলে যারা ব্যাংকিং সেবার বাহিরে আছে তারা ব্যাংক ও এমএফএস হিসাব খুলে নগদ টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে জমা দিতে বাধ্য হবে। এভাবে মুদ্রাবাজারে নগদ টাকার সরবরাহ কমানো সম্ভব হবে। নগদ টাকা ছাপানো একেবারেরই সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, চীনের মতো দেশগুলোতে নগদ টাকার ব্যবহার খুবই কম। এসব দেশে ৭০-৮০ শতাংশ লেনদেনই হয়ে থাকে ডিজিটাল মাধ্যমে এবং এসব দেশের ব্যাংকগুলোতেও নগদ লেনদেন হয়না বললেই চলে। ‘বাংলা কিউআর’ জনপ্রিয়তার আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হলো মার্চেন্ট পয়েন্টে এর চার্জ অত্যন্ত বেশি। গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ এর জারি করা সার্কুলার মোতাবেক ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করে সংঘটিত প্রতিটি লেনদেনে মার্চেন্ট পয়েন্ট চার্জ সর্বনিম্ন ১% নির্ধারণ করা হয়েছে যা মার্চেন্টদের নিরুৎসাহের অন্যতম কারণ। এই সিদ্ধান্ত বাংলা কিউআর এর উদ্দেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই চার্জ সর্বোচ্চ ১% হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের ঘোষণা অনুযায়ী মোবাইল ডাটা ছাড়াই ব্যাংক ও এমএফএস এর এ্যাপ ব্যবহার করে বাংলা কিউআর এর মাধ্যমে পেটেন্ট করার যে সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। পাশাপাশি যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন না তাদের জন্য টঝঝউ (টহংঃৎঁপঃঁৎবফ ঝঁঢ়ঢ়ষবসবহঃধৎু ঝবৎারপব উধঃধ) কোড ব্যবহার করে চ২চ ও চ২ই লেনদেন করার বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে। মার্কেটিং পলিসি হিসেবে বানিজ্যিক ব্যাংকগুলো (একোয়ারিং ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান) নিজ নিজ মার্চেন্ট হিসাবধারীদের প্রনোদনা দিতে পারে যা এই নতুন ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সর্বোপরি, বাংলা কিউআর-কে দেশের মুদ্রাবাজারের একটি সার্বজনীন প্ল্যাটফরম হিসেবে জায়গা করে নিতে একটি বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে হবে। 

[লেখক: প্রিন্সিপাল অফিসার, পূবালী ব্যাংক পিএলসি]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত