সংবাদ

বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের নব্য সমাজতত্ত্ব: আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগের এক জটিল সমীকরণ


মতিউর রহমান
মতিউর রহমান
প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের নব্য সমাজতত্ত্ব: আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগের এক জটিল সমীকরণ
বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নতুন সমাজতত্ত্ব কেবল একটি পরিবর্তনশীল শ্রেণীর গল্প নয়; এটি আসলে একটি উন্নয়নকামী জাতির আত্ম-পুনর্নির্ধারণের মহাকাব্য। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর একটি স্বতন্ত্র ও গৌরবোজ্জ্বল স্থান রয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে এই শ্রেণীটি ছিল শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত—এমন একটি সামাজিক গোষ্ঠী যারা কেবল তুলনামূলক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাই ভোগ করত না, বরং জাতীয় জনমত গঠন, গণতান্ত্রিক আদর্শের সুরক্ষা এবং দেশের সাংস্কৃতিক বিকাশকে লালন করত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে জাতির নৈতিক ও নাগরিক মেরুদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হতো। 

তবে সেই পরিচিত চিত্রটি এখন এক মৌলিক ও গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সমসাময়িক বাংলাদেশি মধ্যবিত্ত শ্রেণী দেশের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে আকারে বৃহত্তর, অধিক বৈচিত্র্যময়, ডিজিটালভাবে অধিক সংযুক্ত এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে অনেক বেশি সমন্বিত। তবুও এটি অর্থনৈতিকভাবে অধিক নিরাপত্তাহীন, সামাজিকভাবে খণ্ডিত এবং রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাগ্রস্ত। এটি এখন আর শুধুমাত্র আয় বা প্রথাগত পেশার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় না; বরং এর চরিত্র ক্রমশ নির্ধারিত হচ্ছে জীবনধারা, ভোগের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধার আকাক্সক্ষা দ্বারা। সুতরাং, মধ্যবিত্তের এই ‘নতুন সমাজতত্ত্ব’ বোঝা সমকালীন বাংলাদেশকেই বোঝার জন্য অপরিহার্য। 

বিগত তিন দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেশের শ্রেণী কাঠামোকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদন এবং ২০২২ সালের পারিবারিক আয়-ব্যয় শুমারি অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্য নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়ে ১৮.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও জাতীয় দারিদ্র্যের হার এখন অনেক বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, প্রবাসী রেমিট্যান্স এবং কৃষি উৎপাদনশীলতার ওপর ভর করে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এই অর্থনৈতিক রূপান্তর লাখ লাখ পরিবারকে চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। 

তবে সমাজবিজ্ঞানীরা যুক্তি দেন যে, শ্রেণীকে কেবল উপার্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। এই ব্যাপকতর ধারণাটি প্রথম উঠে এসেছিল ম্যাক্স ওয়েবারের ‘অর্থনীতি ও সমাজ’ (১৯২২) গ্রন্থে, যেখানে তিনি দেখিয়েছিলেন যে সামাজিক শ্রেণী কেবল অর্থনৈতিক সম্পদ দ্বারাই নয়, বরং ‘মর্যাদা’ ও ‘ক্ষমতা’ দ্বারাও গঠিত হয়। আজকের বাংলাদেশে একই রকম আয় থাকা সত্ত্বেও দুটি পরিবার সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক অবস্থানে থাকতে পারে। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, একজন কর্পোরেট নির্বাহী এবং একজন সফল অনলাইন নারী উদ্যোক্তার আয় তুলনামূলকভাবে সমান হতে পারে, কিন্তু সমাজ-মানসে তাদের সামাজিক পরিচয়, আকাক্সক্ষা এবং প্রভাবের ধরন যথেষ্ট ভিন্ন। 

ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী পিয়ের বুর্দিয়ো তার অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পুঁজির তত্ত্বের মাধ্যমে এই ধারণাটিকে আরও প্রসারিত করেছেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ডিস্টিংশন’ (১৯৭৯)-এ বুর্দিয়ে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, শ্রেণী কেবল সম্পদের মাধ্যমে নয়, বরং শিক্ষা, ভাষা, সাংস্কৃতিক পছন্দ এবং প্রতীকী মর্যাদার মাধ্যমে পুনরূৎপাদিত হয়। সমসাময়িক বাংলাদেশে অভিভাবকরা ক্রমবর্ধমানভাবে ইংরেজি-মাধ্যম শিক্ষা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিদেশি ডিগ্রি এবং ডিজিটাল দক্ষতায় বিপুল সম্পদ বিনিয়োগ করছেন—কেবলমাত্র সন্তানদের আয় বাড়ানোর জন্য নয়, বরং একটি উচ্চতর সামাজিক মর্যাদা বা ‘সাংস্কৃতিক পুঁজি’ নিশ্চিত করার জন্য। 

প্রথাগত মধ্যবিত্তের প্রধান বৈশিষ্ট্য যদি হয়ে থাকে স্থিতিশীলতা, তবে বর্তমানের নব্য মধ্যবিত্তের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অনিশ্চয়তা ও তীব্র প্রতিযোগিতা। এই রূপান্তরটি ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী অ্যান্থনি গিডেন্সের ‘দ্য কনসিকোয়েন্সেস অফ মডার্নিটি’ (১৯৯০) গ্রন্থে বর্ণিত আধুনিক সমাজের চিত্রকে মনে করিয়ে দেয়, যেখানে দ্রুত সামাজিক পরিবর্তনের মাঝে ব্যক্তিকে ক্রমাগত তার জীবন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করতে হয়। জীবন এখন আত্ম-উন্নয়নের এক অবিরাম ও ক্লান্তিকর প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। 

এই রূপান্তর শ্রমবাজারে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মতে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অনলাইন ফ্রিল্যান্স কর্মী উৎসে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এমন সব পেশাগত কাজকে নতুন রূপ দিচ্ছে, যা একসময় মধ্যবিত্তের জন্য নিরাপদ কর্মজীবন হিসেবে বিবেচিত হতো। স্প্যানিশ সমাজবিজ্ঞানী ম্যানুয়েল ক্যাস্টেলস তার ‘দ্য রাইজ অফ দ্য নেটওয়ার্ক সোসাইটি’ (১৯৯৬) গ্রন্থে এই পরিবর্তনগুলোর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। আজকের মধ্যবিত্তরা ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বসেই সরাসরি বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করছেন। কিন্তু এই ডিজিটালাইজেশন প্রতিযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী তীব্রতর করেছে, যার ফলে ঢাকার একজন গ্রাফিক ডিজাইনারকে ভারত, ফিলিপাইন বা পূর্ব ইউরোপের ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে। 

একই সঙ্গে আকাশছোঁয়া জমির দাম এবং অ্যাপার্টমেন্টের খরচের কারণে শহরগুলোতে বাড়ির মালিকানা তরুণ পেশাজীবীদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বেসরকারি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন এবং ডিজিটাল সংযোগ এখন পারিবারিক বাজেটের সিংহভাগ গ্রাস করছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ অনুযায়ী, ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতি মধ্যবিত্তের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করেছে। 

এই অবস্থাটি অর্থনীতিবিদ গাই স্ট্যান্ডিং-এর ‘দ্য প্রিকারিয়েট: দ্য নিউ ডেঞ্জারাস ক্লাস’ (২০১১) গ্রন্থে বিকশিত ‘প্রিকারিয়েট’ ধারণার সঙ্গে মেলে—যেখানে উচ্চ শিক্ষিত একটি শ্রেণী অস্থিতিশীল কর্মসংস্থান, অনিশ্চিত আয় এবং সীমিত দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করে। জার্মান সমাজবিজ্ঞানী উলরিখ বেক তার ‘রিস্ক সোসাইটি’ (১৯৮৬) গ্রন্থে যেমনটি বলেছিলেন, আধুনিক সমাজ নতুন সুযোগের পাশাপাশি নতুন ঝুঁকিও তৈরি করে; বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণী আজ ঠিক সেই ঝুঁকির আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। বর্তমান মধ্যবিত্তের পরিচয় কেবল আয়ের সূচকে নয়, বরং ভোগের সংস্কৃতির মাধ্যমেও প্রকাশিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো (যেমন ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম) ভ্রমণ, ফ্যাশন, রেস্তরাঁ ও গ্যাজেটের অবিরাম প্রদর্শনের মাধ্যমে সাফল্যের এক কৃত্রিম সংজ্ঞা তৈরি করছে। বুর্দিয়োর ভাষায়, এটি হলো ‘প্রতীকী স্বাতন্ত্র্যের অন্বেষণ’। স্কুল, ক্যাফে, স্মার্টফোন বা ছুটির গন্তব্যের পছন্দ ক্রমবর্ধমানভাবে সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সংকেত বহন করে। ফলস্বরূপ, একটি নির্দিষ্ট জীবনধারা বজায় রাখার এই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপ পরিবারগুলোকে ভোক্তা ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল করে তুলছে। 

এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর কেবল মধ্যবিত্তের পকেট বা জীবনযাত্রাকে বদলে দেয়নি, বরং দেশের নাগরিক সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক আচরণকেও নতুন রূপ দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে—এই নব্য মধ্যবিত্ত শ্রেণী কি তাদের ঐতিহাসিক নাগরিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করছে, নাকি ধীরে ধীরে একে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভোগবাদের কাছে সমর্পণ করছে?

জার্মান দার্শনিক ইয়ুর্গেন হাবারমাস তার ‘দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অফ দ্য পাবলিক স্ফিয়ার’ (১৯৬২) গ্রন্থে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, একটি সুস্থ গণতন্ত্র নির্ভর করে এমন এক সচেতন জনগণের ওপর, যারা রাষ্ট্র ও বাজারের বাইরে যুক্তিসঙ্গত বিতর্কে অংশ নিতে সক্ষম। ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের তথ্যে প্রবেশাধিকার অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে। কিন্তু এই তথ্যের প্রাচুর্য সবসময় অর্থপূর্ণ নাগরিক সম্পৃক্ততা তৈরি করছে না; বরং জনআলোচনা অনেক সময় খণ্ডিত, মেরুকৃত এবং ভুল তথ্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়ছে। 

অবশ্য এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট পুটনামের ‘বোলিং অ্যালোন’ (২০০০) গ্রন্থের সামাজিক পুঁজি হ্রাসের তত্ত্বকে কিছুটা কাউন্টার করে বাংলাদেশে ডিজিটাল সক্রিয়তা, ক্রাউডফান্ডিং, স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ এবং পরিবেশ বা সড়ক নিরাপত্তার মতো সামাজিক আন্দোলনগুলো অনলাইনে শুরু হয়ে পরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। তরুণ মধ্যবিত্তরা প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে বিষয়ভিত্তিক নাগরিক সম্পৃক্ততা প্রকাশ করছেন। 

অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক অমর্ত্য সেন তার ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যাজ ফ্রিডম’ (১৯৯৯) গ্রন্থে যুক্তি দিয়েছেন যে, উন্নয়নকে কেবল আয় বৃদ্ধি হিসেবে না দেখে মানুষের সক্ষমতার সম্প্রসারণ হিসেবে বোঝা উচিত। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি’র মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫-২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ মানব উন্নয়নে অগ্রগতি বজায় রাখলেও সম্পদ ও সুযোগের বৈষম্য এখনও প্রকট। একটি ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী তখনই জাতীয় টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে, যখন তারা মানসম্মত শিক্ষা, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সমান সুযোগ পাবে। অন্যথায়, উচ্চ শিক্ষিত স্নাতকদের দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব শিক্ষার ওপর জনগণের ঐতিহ্যবাহী আস্থা ও আশাবাদকে ভেঙে চুরমার করে দেবে। 

একই সঙ্গে, মধ্যবিত্তের ক্রমবর্ধমান ভোগ নগরের পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ সম্পদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। তাই টেকসই নগর পরিকল্পনা, দক্ষ গণপরিবহন এবং পরিবেশগতভাবে দায়িত্বশীল ভোগের নীতি প্রণয়নে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভূমিকা অপরিহার্য। 

বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নতুন সমাজতত্ত্ব কেবল একটি পরিবর্তনশীল শ্রেণীর গল্প নয়; এটি আসলে একটি উন্নয়নকামী জাতির আত্ম-পুনর্নির্ধারণের মহাকাব্য। মধ্যবিত্ত শ্রেণী আজ আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ, সমৃদ্ধি ও অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক সুযোগ ও স্থানীয় দায়িত্বের এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। 

এই শ্রেণীটি কি আরও বেশি নাগরিক-সচেতন ও সাম্যবাদী হবে, নাকি কেবলই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভোগবাদে নিমজ্জিত হবে—তা-ই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক প্রাণশক্তি এবং সামাজিক সংহতিকে। যদি সরকারি নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে মেধা, সৃজনশীলতা এবং উদ্যোক্তা সত্তাকে পুরস্কৃত করা যায়, তবে এই নব্য মধ্যবিত্ত শ্রেণীই হবে একটি সাম্যভিত্তিক, স্থিতিস্থাপক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি। 

[লেখক: গবেষক ও উন্নয়ন পেশাজীবী ]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬


বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের নব্য সমাজতত্ত্ব: আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগের এক জটিল সমীকরণ

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর একটি স্বতন্ত্র ও গৌরবোজ্জ্বল স্থান রয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে এই শ্রেণীটি ছিল শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে গঠিত—এমন একটি সামাজিক গোষ্ঠী যারা কেবল তুলনামূলক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাই ভোগ করত না, বরং জাতীয় জনমত গঠন, গণতান্ত্রিক আদর্শের সুরক্ষা এবং দেশের সাংস্কৃতিক বিকাশকে লালন করত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীকালে নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে জাতির নৈতিক ও নাগরিক মেরুদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হতো। 

তবে সেই পরিচিত চিত্রটি এখন এক মৌলিক ও গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সমসাময়িক বাংলাদেশি মধ্যবিত্ত শ্রেণী দেশের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে আকারে বৃহত্তর, অধিক বৈচিত্র্যময়, ডিজিটালভাবে অধিক সংযুক্ত এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে অনেক বেশি সমন্বিত। তবুও এটি অর্থনৈতিকভাবে অধিক নিরাপত্তাহীন, সামাজিকভাবে খণ্ডিত এবং রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাগ্রস্ত। এটি এখন আর শুধুমাত্র আয় বা প্রথাগত পেশার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় না; বরং এর চরিত্র ক্রমশ নির্ধারিত হচ্ছে জীবনধারা, ভোগের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধার আকাক্সক্ষা দ্বারা। সুতরাং, মধ্যবিত্তের এই ‘নতুন সমাজতত্ত্ব’ বোঝা সমকালীন বাংলাদেশকেই বোঝার জন্য অপরিহার্য। 

বিগত তিন দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেশের শ্রেণী কাঠামোকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদন এবং ২০২২ সালের পারিবারিক আয়-ব্যয় শুমারি অনুযায়ী, দেশে দারিদ্র্য নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়ে ১৮.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও জাতীয় দারিদ্র্যের হার এখন অনেক বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, প্রবাসী রেমিট্যান্স এবং কৃষি উৎপাদনশীলতার ওপর ভর করে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এই অর্থনৈতিক রূপান্তর লাখ লাখ পরিবারকে চরম দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। 

তবে সমাজবিজ্ঞানীরা যুক্তি দেন যে, শ্রেণীকে কেবল উপার্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। এই ব্যাপকতর ধারণাটি প্রথম উঠে এসেছিল ম্যাক্স ওয়েবারের ‘অর্থনীতি ও সমাজ’ (১৯২২) গ্রন্থে, যেখানে তিনি দেখিয়েছিলেন যে সামাজিক শ্রেণী কেবল অর্থনৈতিক সম্পদ দ্বারাই নয়, বরং ‘মর্যাদা’ ও ‘ক্ষমতা’ দ্বারাও গঠিত হয়। আজকের বাংলাদেশে একই রকম আয় থাকা সত্ত্বেও দুটি পরিবার সম্পূর্ণ ভিন্ন সামাজিক অবস্থানে থাকতে পারে। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, একজন কর্পোরেট নির্বাহী এবং একজন সফল অনলাইন নারী উদ্যোক্তার আয় তুলনামূলকভাবে সমান হতে পারে, কিন্তু সমাজ-মানসে তাদের সামাজিক পরিচয়, আকাক্সক্ষা এবং প্রভাবের ধরন যথেষ্ট ভিন্ন। 

ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী পিয়ের বুর্দিয়ো তার অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পুঁজির তত্ত্বের মাধ্যমে এই ধারণাটিকে আরও প্রসারিত করেছেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ডিস্টিংশন’ (১৯৭৯)-এ বুর্দিয়ে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, শ্রেণী কেবল সম্পদের মাধ্যমে নয়, বরং শিক্ষা, ভাষা, সাংস্কৃতিক পছন্দ এবং প্রতীকী মর্যাদার মাধ্যমে পুনরূৎপাদিত হয়। সমসাময়িক বাংলাদেশে অভিভাবকরা ক্রমবর্ধমানভাবে ইংরেজি-মাধ্যম শিক্ষা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিদেশি ডিগ্রি এবং ডিজিটাল দক্ষতায় বিপুল সম্পদ বিনিয়োগ করছেন—কেবলমাত্র সন্তানদের আয় বাড়ানোর জন্য নয়, বরং একটি উচ্চতর সামাজিক মর্যাদা বা ‘সাংস্কৃতিক পুঁজি’ নিশ্চিত করার জন্য। 

প্রথাগত মধ্যবিত্তের প্রধান বৈশিষ্ট্য যদি হয়ে থাকে স্থিতিশীলতা, তবে বর্তমানের নব্য মধ্যবিত্তের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অনিশ্চয়তা ও তীব্র প্রতিযোগিতা। এই রূপান্তরটি ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী অ্যান্থনি গিডেন্সের ‘দ্য কনসিকোয়েন্সেস অফ মডার্নিটি’ (১৯৯০) গ্রন্থে বর্ণিত আধুনিক সমাজের চিত্রকে মনে করিয়ে দেয়, যেখানে দ্রুত সামাজিক পরিবর্তনের মাঝে ব্যক্তিকে ক্রমাগত তার জীবন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করতে হয়। জীবন এখন আত্ম-উন্নয়নের এক অবিরাম ও ক্লান্তিকর প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। 

এই রূপান্তর শ্রমবাজারে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মতে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অনলাইন ফ্রিল্যান্স কর্মী উৎসে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এমন সব পেশাগত কাজকে নতুন রূপ দিচ্ছে, যা একসময় মধ্যবিত্তের জন্য নিরাপদ কর্মজীবন হিসেবে বিবেচিত হতো। স্প্যানিশ সমাজবিজ্ঞানী ম্যানুয়েল ক্যাস্টেলস তার ‘দ্য রাইজ অফ দ্য নেটওয়ার্ক সোসাইটি’ (১৯৯৬) গ্রন্থে এই পরিবর্তনগুলোর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। আজকের মধ্যবিত্তরা ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বসেই সরাসরি বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করছেন। কিন্তু এই ডিজিটালাইজেশন প্রতিযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী তীব্রতর করেছে, যার ফলে ঢাকার একজন গ্রাফিক ডিজাইনারকে ভারত, ফিলিপাইন বা পূর্ব ইউরোপের ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে। 

একই সঙ্গে আকাশছোঁয়া জমির দাম এবং অ্যাপার্টমেন্টের খরচের কারণে শহরগুলোতে বাড়ির মালিকানা তরুণ পেশাজীবীদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বেসরকারি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন এবং ডিজিটাল সংযোগ এখন পারিবারিক বাজেটের সিংহভাগ গ্রাস করছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ অনুযায়ী, ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতি মধ্যবিত্তের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করেছে। 

এই অবস্থাটি অর্থনীতিবিদ গাই স্ট্যান্ডিং-এর ‘দ্য প্রিকারিয়েট: দ্য নিউ ডেঞ্জারাস ক্লাস’ (২০১১) গ্রন্থে বিকশিত ‘প্রিকারিয়েট’ ধারণার সঙ্গে মেলে—যেখানে উচ্চ শিক্ষিত একটি শ্রেণী অস্থিতিশীল কর্মসংস্থান, অনিশ্চিত আয় এবং সীমিত দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করে। জার্মান সমাজবিজ্ঞানী উলরিখ বেক তার ‘রিস্ক সোসাইটি’ (১৯৮৬) গ্রন্থে যেমনটি বলেছিলেন, আধুনিক সমাজ নতুন সুযোগের পাশাপাশি নতুন ঝুঁকিও তৈরি করে; বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণী আজ ঠিক সেই ঝুঁকির আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। বর্তমান মধ্যবিত্তের পরিচয় কেবল আয়ের সূচকে নয়, বরং ভোগের সংস্কৃতির মাধ্যমেও প্রকাশিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো (যেমন ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম) ভ্রমণ, ফ্যাশন, রেস্তরাঁ ও গ্যাজেটের অবিরাম প্রদর্শনের মাধ্যমে সাফল্যের এক কৃত্রিম সংজ্ঞা তৈরি করছে। বুর্দিয়োর ভাষায়, এটি হলো ‘প্রতীকী স্বাতন্ত্র্যের অন্বেষণ’। স্কুল, ক্যাফে, স্মার্টফোন বা ছুটির গন্তব্যের পছন্দ ক্রমবর্ধমানভাবে সামাজিক অন্তর্ভুক্তির সংকেত বহন করে। ফলস্বরূপ, একটি নির্দিষ্ট জীবনধারা বজায় রাখার এই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক চাপ পরিবারগুলোকে ভোক্তা ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল করে তুলছে। 

এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর কেবল মধ্যবিত্তের পকেট বা জীবনযাত্রাকে বদলে দেয়নি, বরং দেশের নাগরিক সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক আচরণকেও নতুন রূপ দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে—এই নব্য মধ্যবিত্ত শ্রেণী কি তাদের ঐতিহাসিক নাগরিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করছে, নাকি ধীরে ধীরে একে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভোগবাদের কাছে সমর্পণ করছে?

জার্মান দার্শনিক ইয়ুর্গেন হাবারমাস তার ‘দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অফ দ্য পাবলিক স্ফিয়ার’ (১৯৬২) গ্রন্থে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, একটি সুস্থ গণতন্ত্র নির্ভর করে এমন এক সচেতন জনগণের ওপর, যারা রাষ্ট্র ও বাজারের বাইরে যুক্তিসঙ্গত বিতর্কে অংশ নিতে সক্ষম। ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের তথ্যে প্রবেশাধিকার অভূতপূর্বভাবে বেড়েছে। কিন্তু এই তথ্যের প্রাচুর্য সবসময় অর্থপূর্ণ নাগরিক সম্পৃক্ততা তৈরি করছে না; বরং জনআলোচনা অনেক সময় খণ্ডিত, মেরুকৃত এবং ভুল তথ্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পড়ছে। 

অবশ্য এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রবার্ট পুটনামের ‘বোলিং অ্যালোন’ (২০০০) গ্রন্থের সামাজিক পুঁজি হ্রাসের তত্ত্বকে কিছুটা কাউন্টার করে বাংলাদেশে ডিজিটাল সক্রিয়তা, ক্রাউডফান্ডিং, স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ এবং পরিবেশ বা সড়ক নিরাপত্তার মতো সামাজিক আন্দোলনগুলো অনলাইনে শুরু হয়ে পরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। তরুণ মধ্যবিত্তরা প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে বিষয়ভিত্তিক নাগরিক সম্পৃক্ততা প্রকাশ করছেন। 

অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক অমর্ত্য সেন তার ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যাজ ফ্রিডম’ (১৯৯৯) গ্রন্থে যুক্তি দিয়েছেন যে, উন্নয়নকে কেবল আয় বৃদ্ধি হিসেবে না দেখে মানুষের সক্ষমতার সম্প্রসারণ হিসেবে বোঝা উচিত। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি’র মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৫-২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ মানব উন্নয়নে অগ্রগতি বজায় রাখলেও সম্পদ ও সুযোগের বৈষম্য এখনও প্রকট। একটি ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী তখনই জাতীয় টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে, যখন তারা মানসম্মত শিক্ষা, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সমান সুযোগ পাবে। অন্যথায়, উচ্চ শিক্ষিত স্নাতকদের দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব শিক্ষার ওপর জনগণের ঐতিহ্যবাহী আস্থা ও আশাবাদকে ভেঙে চুরমার করে দেবে। 

একই সঙ্গে, মধ্যবিত্তের ক্রমবর্ধমান ভোগ নগরের পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ সম্পদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। তাই টেকসই নগর পরিকল্পনা, দক্ষ গণপরিবহন এবং পরিবেশগতভাবে দায়িত্বশীল ভোগের নীতি প্রণয়নে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভূমিকা অপরিহার্য। 

বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নতুন সমাজতত্ত্ব কেবল একটি পরিবর্তনশীল শ্রেণীর গল্প নয়; এটি আসলে একটি উন্নয়নকামী জাতির আত্ম-পুনর্নির্ধারণের মহাকাব্য। মধ্যবিত্ত শ্রেণী আজ আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ, সমৃদ্ধি ও অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক সুযোগ ও স্থানীয় দায়িত্বের এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। 

এই শ্রেণীটি কি আরও বেশি নাগরিক-সচেতন ও সাম্যবাদী হবে, নাকি কেবলই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ভোগবাদে নিমজ্জিত হবে—তা-ই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক প্রাণশক্তি এবং সামাজিক সংহতিকে। যদি সরকারি নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে মেধা, সৃজনশীলতা এবং উদ্যোক্তা সত্তাকে পুরস্কৃত করা যায়, তবে এই নব্য মধ্যবিত্ত শ্রেণীই হবে একটি সাম্যভিত্তিক, স্থিতিস্থাপক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি। 

[লেখক: গবেষক ও উন্নয়ন পেশাজীবী ]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত