সংবাদ

ঈদ উদযাপনে মুমূর্ষু রোগীদের বাধ্যতামূলক ছুটি


প্রতিনিধি, রংপুর
প্রতিনিধি, রংপুর
প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

ঈদ উদযাপনে মুমূর্ষু রোগীদের বাধ্যতামূলক ছুটি
ঈদের ছুটির দোহাই দিয়ে মুমূর্ষু রোগীদের জোরপূর্বক ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ। ছবিঃ সংবাদ

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও মুমূর্ষু রোগীদের জোরপূর্বক ছুটি দিয়ে নেফ্রোলজি (কিডনি) ওয়ার্ডে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের ঈদ উদ্‌যাপনের সুবিধার্থে এই অমানবিক ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) থেকে ওয়ার্ডটি তালাবদ্ধ থাকলেও বুধবার (২৭ মে) গাইবান্ধা থেকে আসা এক মুমূর্ষু রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয় এবং হাসপাতালজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

বুধবার (২৭ মে) বেলা সোয়া ১১টার দিকে হাসপাতালের দোতলায় অবস্থিত নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডের প্রধান প্রবেশদ্বারটি ভেতর থেকে বন্ধ। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ভেতর থেকে এক নার্স কাচের দরজার ওপার থেকে ইশারায় জানান, ওয়ার্ডে কোনো রোগী নেই, এটি বন্ধ রয়েছে। রোগীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে বড় স্যারেরা রোগীদের ছুটি দিয়ে দিয়েছেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ওয়ার্ডের একজন কর্মচারী বলেন, সোমবার পর্যন্ত এখানে অন্তত ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ কিডনি রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা জোর করে তাদের ছুটি দিয়ে ওয়ার্ড খালি করেন। এমনকি ঈদ পর্যন্ত নতুন কোনো রোগী ভর্তি না করার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অবশ্য হাসপাতালের ডায়ালাইসিস বিভাগের এক নারী কর্মচারী জানান, ঈদের দিনেও রোগীদের ডায়ালাইসিস কার্যক্রম চলবে এবং ওই দিন ৬২ জনকে ডায়ালাইসিস করার তালিকা রয়েছে। তবে ডায়ালাইসিস চলাকালে কোনো রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তার জরুরি চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা আপাতত এই ওয়ার্ডে নেই।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধার ফুলছড়ি থেকে আসা ভুক্তভোগী রোগী রুহুল আমিনের স্বজনেরা কিডনি ওয়ার্ড তালাবদ্ধ দেখে তাকে রংপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে কিডনি ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধানসহ কোনো চিকিৎসককে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক ডা. আব্দুল মোকাদ্দেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


ঈদ উদযাপনে মুমূর্ষু রোগীদের বাধ্যতামূলক ছুটি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬

featured Image

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও মুমূর্ষু রোগীদের জোরপূর্বক ছুটি দিয়ে নেফ্রোলজি (কিডনি) ওয়ার্ডে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের ঈদ উদ্‌যাপনের সুবিধার্থে এই অমানবিক ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) থেকে ওয়ার্ডটি তালাবদ্ধ থাকলেও বুধবার (২৭ মে) গাইবান্ধা থেকে আসা এক মুমূর্ষু রোগী চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয় এবং হাসপাতালজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

বুধবার (২৭ মে) বেলা সোয়া ১১টার দিকে হাসপাতালের দোতলায় অবস্থিত নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডের প্রধান প্রবেশদ্বারটি ভেতর থেকে বন্ধ। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ভেতর থেকে এক নার্স কাচের দরজার ওপার থেকে ইশারায় জানান, ওয়ার্ডে কোনো রোগী নেই, এটি বন্ধ রয়েছে। রোগীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে বড় স্যারেরা রোগীদের ছুটি দিয়ে দিয়েছেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ওয়ার্ডের একজন কর্মচারী বলেন, সোমবার পর্যন্ত এখানে অন্তত ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ কিডনি রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা জোর করে তাদের ছুটি দিয়ে ওয়ার্ড খালি করেন। এমনকি ঈদ পর্যন্ত নতুন কোনো রোগী ভর্তি না করার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অবশ্য হাসপাতালের ডায়ালাইসিস বিভাগের এক নারী কর্মচারী জানান, ঈদের দিনেও রোগীদের ডায়ালাইসিস কার্যক্রম চলবে এবং ওই দিন ৬২ জনকে ডায়ালাইসিস করার তালিকা রয়েছে। তবে ডায়ালাইসিস চলাকালে কোনো রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তার জরুরি চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা আপাতত এই ওয়ার্ডে নেই।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধার ফুলছড়ি থেকে আসা ভুক্তভোগী রোগী রুহুল আমিনের স্বজনেরা কিডনি ওয়ার্ড তালাবদ্ধ দেখে তাকে রংপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে কিডনি ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধানসহ কোনো চিকিৎসককে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান ছুটিতে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক ডা. আব্দুল মোকাদ্দেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত