ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে রাজধানীসহ সারাদেশে সিটি সার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে তীব্র ভাড়া নৈরাজ্য চলছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের দূরপাল্লার ২৬টি রুটে মাত্র কয়েক দিনেই ২ লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে অবৈধভাবে ৫ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব মতে, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে প্রায় ৯৫ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করছেন এবং আন্তঃজেলায় আরও প্রায় ৩ কোটি ট্রিপ যাত্রী চলাচল করতে পারে।
এই ভাড়া নৈরাজ্যের কারণ হিসেবে বাসের চালক ও সহকারীরা মালিকপক্ষের দিকেই আঙুল তুলেছেন। মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, "আমাদের নির্দিষ্ট কোনো বেতন বা ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় আমরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে বাধ্য হচ্ছি।"
অন্যদিকে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতি করে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্যের পুরো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
ভাড়ার এই লাগামহীন চিত্র সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে দক্ষিণাঞ্চলের রুটগুলোতে। ঢাকা-খুলনা রুটে নির্ধারিত ৫৪১ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা। ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং এমনকি সরকারি বিআরটিসির দোতলা বাসেও নেওয়া হচ্ছে ৭০০ টাকা। একইভাবে ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া ১ হাজার টাকা, ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১ হাজার ১৯৭ টাকার ভাড়া ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা আদায়ের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, ফেনী ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন রুটেও একই কায়দায় বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে সমাজে অস্থিরতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। যার ফলে নিম্নআয়ের মানুষ নিরুপায় হয়ে বাস ও ট্রেনের ছাদে কিংবা পণ্যবাহী ট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। এই চরম ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে কিছু জরুরি সুপারিশ করা হয়েছে।
তারা গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় ও নগদ লেনদেন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে চালকদের বেতন-ভাতা কার্যকর করা, মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিকে পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ মে ২০২৬
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে রাজধানীসহ সারাদেশে সিটি সার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে তীব্র ভাড়া নৈরাজ্য চলছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের দূরপাল্লার ২৬টি রুটে মাত্র কয়েক দিনেই ২ লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে অবৈধভাবে ৫ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব মতে, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে প্রায় ৯৫ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করছেন এবং আন্তঃজেলায় আরও প্রায় ৩ কোটি ট্রিপ যাত্রী চলাচল করতে পারে।
এই ভাড়া নৈরাজ্যের কারণ হিসেবে বাসের চালক ও সহকারীরা মালিকপক্ষের দিকেই আঙুল তুলেছেন। মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, "আমাদের নির্দিষ্ট কোনো বেতন বা ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় আমরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে বাধ্য হচ্ছি।"
অন্যদিকে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতি করে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্যের পুরো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
ভাড়ার এই লাগামহীন চিত্র সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে দক্ষিণাঞ্চলের রুটগুলোতে। ঢাকা-খুলনা রুটে নির্ধারিত ৫৪১ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার টাকা। ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং এমনকি সরকারি বিআরটিসির দোতলা বাসেও নেওয়া হচ্ছে ৭০০ টাকা। একইভাবে ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া ১ হাজার টাকা, ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১ হাজার ১৯৭ টাকার ভাড়া ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা আদায়ের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, ফেনী ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন রুটেও একই কায়দায় বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে সমাজে অস্থিরতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। যার ফলে নিম্নআয়ের মানুষ নিরুপায় হয়ে বাস ও ট্রেনের ছাদে কিংবা পণ্যবাহী ট্রাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। এই চরম ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে কিছু জরুরি সুপারিশ করা হয়েছে।
তারা গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় ও নগদ লেনদেন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে চালকদের বেতন-ভাতা কার্যকর করা, মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিকে পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন